logo

কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে যুবদলের সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:27 Sep 2026, 12:00 AM

কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে যুবদলের সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে যুবদলের সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পল্টন থানার ১৩ নম্বর ওয়ার্ড গুলিস্তান ইউনিট যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। 

তার অনুসারীদের দাবি, আসন্ন কমিটিতে সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন। এ উদ্দেশ্যে কিছু নামসর্বস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান বর্তমানে পল্টন থানার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের গুলিস্তান ইউনিট যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন কমিটিতে তিনি সভাপতি পদপ্রত্যাশী। কমিটি গঠনকে সামনে রেখে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রত্যাশা ও প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা বক্তব্য ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সিদ্দিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠজনদের অভিযোগ, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের কেউ কেউ তাকে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলীয় সম্পৃক্ততার ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই এসব প্রচারণার বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবি : সিদ্দিকুর রহমানের অনুসারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাদের দাবি, দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তিনি সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং এ কারণে হামলা ও মামলার শিকার হয়েছেন বলেও তার পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

তবে এসব হামলা-মামলার বিষয়ে নির্দিষ্ট মামলা নম্বর, আদালতের নথি কিংবা সংশ্লিষ্ট থানার তথ্য প্রতিবেদনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়নি। ফলে এসব দাবির স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন রয়েছে।

দলীয় সূত্রের দাবি, সিদ্দিকুর রহমানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা রাজধানীকেন্দ্রিক হওয়ার আগেও তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে ছিল। চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে তার অনুসারীরা জানিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকায় এসে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন বলে দাবি করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন : সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার পক্ষ থেকে এসব কনটেন্টকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে ভিডিওগুলোর উৎস, ধারণের সময়, সম্পাদনার বিষয় এবং বক্তব্যের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট যাচাই না করেই সেগুলো প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে অভিযোগ বা ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সেটির সত্যতা যাচাই না করে প্রচার করা বিভ্রান্তির কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভিডিওটির মূল উৎস, ধারণের সময় ও স্থান এবং সম্পূর্ণ বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

কমিটি গঠন ঘিরে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা : স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, নতুন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার প্রত্যাশাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই প্রতিযোগিতা ব্যক্তিগত আক্রমণ, যাচাইহীন তথ্য বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারে রূপ নিলে তা সাংগঠনিক পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

সিদ্দিকুর রহমানের অনুসারীরা বলছেন, তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনা করে দলের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে যারা অভিযোগ বা সমালোচনা করছেন, তাদের বক্তব্যও যাচাই করে প্রকাশ করা প্রয়োজন। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী নেতাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযোজন করা যেত।

যাচাই করে সিদ্ধান্তের দাবি : সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন কমিটি ঘোষণার আগে তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার উদ্দেশ্যেই একটি পক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে। তার দীর্ঘদিনের দলীয় কর্মকাণ্ড, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তার সমর্থকেরা।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও অভিযোগকারী উভয় পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং প্রমাণ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শেষ পর্যন্ত নতুন কমিটিতে কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, সে সিদ্ধান্ত দলীয় সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

সিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমি কিছু পাওয়ার আশায় রাজনীতি করি না। তবে উদ্দেশ্যমূলক ও খণ্ডিতভাবে আমার বক্তব্য বলে প্রচার করে কিছু তথাকথিত মিডিয়া আমার চরিত্র হনন করছে। আমি মনে করছি আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে কেউ কেউ এমনটি করছেন। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীদের এ বিষয়ে ইন্ধন থাকতে পারে।  

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com