logo

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং সদস্যের ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত

চট্টগ্রাম ব্যুরো

Published:09 Sep 2026, 12:07 PM

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং সদস্যের ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত

চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং সদস্যের ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও কিশোর গ্যাংয়ের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাহমিদুল হাসান হামীম (১৯) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
 
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার কেরানীহাট সিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মো. রোহান উদ্দিনকে (১৯) স্থানীয় লোকজন আটক করে পুলিশে দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোরদের কয়েকটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

নিহত হামীম ছদাহা ইউনিয়নের হাসমত আলী সিকদার দোকানসংলগ্ন এলাকার মৃত ফরিদুল আলমের ছেলে। রোহান একই ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ কাজিরখীল এলাকার ওসমান গণির ছেলে।

স্থানীয়রা আরো জানান, সোমবার সকালে রোহান আমিরাবাদ এলাকায় যাওয়ার সময় তার প্রতিবেশী শাহানুরসহ কয়েকজন তার গাড়িতে ওঠেন। পথে হামীমের সঙ্গে শাহানুর ও অন্যদের মারামারি হয়। ওই সময় রোহান মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তবে হামীমের ধারণা হয়, রোহানের ইন্ধনেই তাকে মারধর করা হয়েছে। পরে তিনি রোহানকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

এরপর হামীমের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হাসমত আলীর দোকান এলাকায় মহড়া দেয় বলে স্থানীয় কয়েকজন জানিয়েছেন। পরে তারা কাজিরখীল এলাকাতেও যান। বিষয়টি মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার রাতে রোহান ও হামীমসহ কয়েকজন কেরানীহাট সিটি সেন্টারে জড়ো হন। সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে হামীম লোহার রড দিয়ে রোহানের হাতে আঘাত করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর রোহান সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হামীমের পেটে একাধিকবার আঘাত করেন। এতে হামীম গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর উপস্থিত কয়েকজন হামীমকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, স্থানীয় লোকজন রোহানকে ধাওয়া করে আটক করেন। পরে তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

গণপিটুনির পর স্থানীয় লোকজনের কাছে দেওয়া এক ভিডিও বক্তব্যে রোহান দাবি করেন, হামীমের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত কোনো বিরোধ ছিল না। আমিরাবাদ যাওয়ার পথে তার এলাকার কয়েকজন ছেলে গাড়িতে ওঠে এবং পরে হামীমের সঙ্গে মারামারি হয়। তখন মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন তিনি। পরে কেরানীহাট সিটি সেন্টারে হামীম তাকে লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে রাগের মাথায় ছুরিকাঘাত করেন।

নিহতের মামা মো. মহিউদ্দিন বলেন, হামীম ও তার বন্ধুদের মধ্যে একটি বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেটি মীমাংসার জন্যই হামীম কেরানীহাট সিটি সেন্টারে গিয়েছিলেন। সেখানেই মারামারির ঘটনা ঘটে।

মহিউদ্দিন বলেন, হামীম গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। বাবা না থাকায় একপর্যায়ে তিনি খারাপ আড্ডায় জড়িয়ে পড়েন। তাকে ওই পরিবেশ থেকে সরিয়ে নিতে বিদেশে পাঠানোর জন্য পাসপোর্টও করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রোহান উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। তিনি ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্বজনেরা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মাদকবিরোধী অভিযান সম্পর্কে ওসি বলেন, শুধু হাসমত আলী সিকদার দোকান এলাকা নয়, সাতকানিয়ার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক কারবারিদের আটক করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে র‍্যালি ও সভা-সমাবেশ করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, প্রাথমিকভাবে পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছি। তবে বিরোধের মূল কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না বা কারও ইন্ধন ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com