logo

তৌফিকের কল্যাণে ১৪ বছর পর মানাসলু পর্বতশিখরে উড়ল লাল-সবুজ পতাকা

পিপলসনিউজ ডেস্ক

Published:26 Sep 2025, 02:23 AM

তৌফিকের কল্যাণে ১৪ বছর পর মানাসলু পর্বতশিখরে উড়ল লাল-সবুজ পতাকা

তৌফিকের কল্যাণে ১৪ বছর পর মানাসলু পর্বতশিখরে উড়ল লাল-সবুজ পতাকা

দীর্ঘ ১৪ বছর পর মানাসলু পর্বতশিখরে উড়ল বাংলাদেশের পতাকা। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নেপালের স্থানীয় সময় রাত তিনটায় পৃথিবীর অষ্টম উঁচু পর্বতে ওঠেন বাংলাদেশের পর্বতারোহী তৌফিক আহমেদ।

তার নেপালি এজেন্সি সেভেন সামিট ট্রেকসের পক্ষ থেকে তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেছে, তৌফিক আহমেদ ইতোমধ্যে অন্য পর্বতারোহীদের সঙ্গে বেজক্যাম্পের পথে নামতে শুরু করেছেন।

হিমালয় পর্বতমালার আট হাজার ১৬৩ মিটার উঁচু মানাসলু পর্বতের অবস্থান নেপালের মানসিরি হিমাল রেঞ্জে। ‘মাউন্টেন অব দ্য স্পিরিট’ নামেও পরিচিত এই পর্বত।

তৌফিক আহমেদের আগে ২০১১ সালে ১২ অক্টোবর প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মানাসলু শৃঙ্গে ওঠেন এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী এম এম মুহিত।

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে তৌফিক আহমেদ এই চ্যালেঞ্জিং অভিযান শুরু করেন ১ সেপ্টেম্বর। মানাসলু বেজক্যাম্পে পৌঁছে সেখানেই অবস্থান করেন বেশ কয়েক দিন।

এরপর ওপরের ক্যাম্পগুলোতে ওঠানামা করে শরীরকে অতি উচ্চতা ও নিম্ন তাপমাত্রার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেন। চূড়ান্ত অভিযানের জন্য ২৩ সেপ্টেম্বর বেজক্যাম্প থেকে ক্যাম্প ২-এ পৌঁছান তৌফিক আহমেদ।

বুধবার সকালে পৌঁছান ক্যাম্প ৩-এ। কয়েক ঘণ্টা বিশ্রাম নিয়ে এই ক্যাম্প থেকেই ধাপে ধাপে চূড়ার দিকে উঠতে থাকেন তিনি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আজ মানাসলু পর্বতশিখরে পা রাখেন।

তৌফিক আহমেদ পরিচিত তমাল নামে। তিনি ‘অলটিটিউড হান্টার বিডি মাউন্টেনিয়ারিং ক্লাব’ নামে রোমাঞ্চকর ভ্রমণ পরিচালনাকারী প্ল্যাটফর্মের সদস্য। তার বেড়ে ওঠা কুমিল্লায়। পাহাড়ের প্রেমে পড়েন কলেজে পড়ার সময়।

একসময় পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলই হয়ে ওঠে তার আরেক ঠিকানা। ২০১৭ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর শেষে বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নিয়েছিলেন; কিন্তু তত দিনে হিমালয়ের প্রেমে মজে গেছেন বলে চাকরিতে থিতু হতে পারেননি।

পরের বছর চাকরি ছেড়ে ভ্রমণ আয়োজনকেই পেশা হিসেবে নিয়েছেন। শুরুতে পর্যটকদের গাইড হিসেবে দেশের পাহাড়ে যেতেন। তারপর ভ্রমণ পরিচালনা শুরু করেন ভারত ও নেপালের বিভিন্ন পার্বত্য দর্শনীয় স্থানে।

বর্তমানে বছরের বড় একটা সময় তার কাটে নেপালের পার্বত্য অঞ্চলে। দেশটির এভারেস্ট বেজক্যাম্প, অন্নপূর্ণা বেজক্যাম্পসহ বিভিন্ন গন্তব্যে গাইড হিসেবে বাংলাদেশিদের নিয়ে যান তৌফিক।

পাশাপাশি নিজেকেও পর্বতারোহী হিসেবে গড়ে তোলেন তৌফিক। ভারতের নেহরু ইনস্টিটিউট অব মাউন্টেনিয়ারিং থেকে নিয়েছেন পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ। পাশাপাশি দেশটির একটি প্রতিষ্ঠান থেকে রক ক্লাইম্বিংয়ের ওপর মৌলিক ও উচ্চতর প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি।

হিমালয়ের বিভিন্ন অভিযানে এরই মধ্যে সাফল্য অর্জন করেছেন তৌফিক। মাউন্ট আমা দাবলাম (ছয় হাজার ৮১৪ মিটার), ভাগীরথী-২ (ছয় হাজার ৫১২ মিটার), আইল্যান্ড পিক (ছয় হাজার ১৬০ মিটার), থারপু চুলি (পাঁচ হাজার ৬৯৫ মিটার), মাউন্ট কানামোসহ (পাঁচ হাজার ৯৭০ মিটার) ভারত ও নেপালের বিভিন্ন উচ্চতার পর্বতশৃঙ্গে উঠেছেন।

তৌফিক ছাড়াও এভারেস্ট ও লোৎসেজয়ী বাবর আলী ও তানভীর আহমেদ মানাসলু শৃঙ্গে আরোহণের পথে আছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই দুই বাংলাদেশি পর্বতারোহী ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে চূড়ায় পৌঁছাবেন। এর মধ্যে অতিরিক্ত অক্সিজেনের সহায়তা ছাড়াই অভিযান করবেন বাবর আলী।

পিপলসনিউজ/আরইউ 

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com