সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও পুলিশ ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন প্রার্থীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে শাহবাগ থানার সামনে এ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। ‘সারা বাংলাদেশের নিয়োগপত্রবঞ্চিত শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
বগুড়ার ধুনট উপজেলা থেকে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ না পেয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম পাভেল। তিনি বলেন, ‘আমাদের বাদ দেওয়ার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি। আমাদের একটাই দাবি, আগামী ১ তারিখে যারা চাকরিতে যোগদান করবেন, আমরাও তাদের সঙ্গে একই সময়ে নিয়োগপত্র নিয়ে যোগদান করতে চাই।’
সরকারের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না— এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাদের পাঁচজনের একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রণালয়ে গেছে। তারা ফিরলে বিস্তারিত জানা যাবে। অন্য কোনো কর্মসূচির পরিকল্পনা আছে কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনো অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে জায়গা পরিবর্তন হতে পারে।’
পাভেলের মতো আরেক চাকরিপ্রত্যাশী এসেছেন ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা থেকে। তিনি বলেন, ‘আমরা মরার জন্য এসেছি, আমরা মরে যাব। বাসা থেকে চোখের জল নিয়ে বের হয়েছি। আমার বাবা-মা যদি জানেন আমার নিয়োগ হবে না বা চাকরি পাব না, তারা স্ট্রোক করবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, আমরা জানি না। কারণ জানতে চাইলে আমাদের অধিদপ্তরে যেতে বলা হচ্ছে, সেখান থেকে মন্ত্রণালয়ে যেতে বলা হচ্ছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যাচ্ছে না।’
অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে সংহতি জানিয়ে সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের বলেন, ‘এখানে কেউ কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসেননি। প্রত্যেকেই ব্যক্তিগতভাবে জুলুমের শিকার হয়েছেন এবং নিজ নিজ যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাদের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের কথা, রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার কথা নয়। তাই সরকারের প্রতি আহ্বান, যাদের সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে, দ্রুত সেই অন্যায়ের প্রতিকার করুন।’
প্রসঙ্গত, শনিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে রোববার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন চাকরিপ্রার্থীরা। এ প্ল্যাটফর্ম থেকে দাবি করা হয়, ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ভেরিফিকেশনে অন্তত দুই হাজার প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি।
পিপলসনিউজ/আরইউ