পুলিশি হয়রানি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের সড়ক প্রায় আড়াই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে এই অবরোধের কারণে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ১০টার দিকে কয়েকশ রিকশাচালক প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
এ সময় তারা ‘পুলিশি হয়রানি বন্ধ করো’ এবং ‘যেখানে রাস্তা, সেখানে অটোরিকশা চলবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবরোধে অংশ না নিয়ে রাজধানীর অন্যান্য সড়ক দিয়ে রিকশা চালিয়ে যাওয়ায় কয়েকজনকে অন্য চালকদের অটোরিকশার ব্যাটারির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেও দেখা গেছে।
এক রিকশাচালক সাংবাদিকদের জানান, রাস্তায় চলার সময় পুলিশ তাদের আটক করলে এক হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা টাকা আদায় করে। তিনি বলেন, আমরা পুলিশি হয়রানি বন্ধ চাই।
রমনা বিভাগের পুলিশের উপ-কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের ফোর্স সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অটোচালকদের সমাবেশ থেকে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।
অটোরিকশা চালকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সড়কে অভিযানের নামে অটোরিকশা চালকদের হয়রানি বন্ধ করা। ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় স্থাপন করা।
অটোরিকশা চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, রাস্তা আছে যেখানে, অটো চলবে সেখানে। অটোরিকশা চালকদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। দেশে লাখ লাখ অটোরিকশা চালক আছে। যারা অটোরিকশা চালিয়ে জীবন জীবিকা চালায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল থেকেই রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, মালিবাগ, খিলগাঁও, মতিঝিল, মিরপুর, মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা প্রায় চলছেই না।
পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অবরোধ শেষ করেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা। তার আগে তারা একটি প্রতিবাদ মিছিল করেন।
অবরোধ কর্মসূচি শেষ হওয়ায় বর্তমানে পল্টন মোড় থেকে জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ