logo

বিজয়া দশমীতে আজ শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:21 Oct 2026, 10:01 AM

বিজয়া দশমীতে আজ শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

বিজয়া দশমীতে আজ শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব

অঞ্জলি, আরতি ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে শেষ হচ্ছে বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা ও আনন্দ উৎসব শেষে মর্ত্য ছেড়ে কৈলাসে ফিরবেন দেবী দুর্গা। আজ বিজয়া দশমীতে দেবীকে বিদায় জানাবেন ভক্তরা।

সকালে দশমী বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে দিনের আনুষ্ঠানিকতা। এরপর দেবীকে সিঁদুর দিয়ে বরণ, সিঁদুর খেলা ও অন্যান্য আয়োজন শেষে বিকালে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের এ উৎসব। গত শুক্রবার দেবীর পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল শারদীয় দুর্গোৎসব।

নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সন্ধ্যার আগেই প্রতিমা বিসর্জনের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ। বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের আগে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শোভাযাত্রা বের হবে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি সদরঘাটে গিয়ে শেষ হবে।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস বলেন, সকাল নয়টায় দশমী বিহিত পূজা শেষে দর্পণ বিসর্জন হবে। সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে দেবী দুর্গাকে সিঁদুর দিয়ে বরণ করা হবে। এরপর শুরু হবে সিঁদুর খেলা, যা চলবে বেলা দেড়টা থেকে দুইটা পর্যন্ত। একই সময়ে চলবে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি।

শুভাশীষ কুমার বলেন, দুপুরের পর শুরু হবে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। বেলা তিনটায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা শুরু হবে। এর আগে রাজধানীর বিভিন্ন মণ্ডপের প্রতিমা ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আনা হবে। পরে ঢাকার ১১টি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। এ বছর ঢাকার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নবমীতে শান্তি ও মঙ্গল কামনা: অশুভ শক্তির বিনাশ, শান্তি ও মঙ্গল কামনায় মহানবমীর পূজা ও অঞ্জলি দিয়েছেন ভক্তরা। মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে সকাল থেকে পূজারিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে মন্দির প্রাঙ্গণ। মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি, ঢাক ও কাঁসর ঘণ্টার শব্দে চলে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। পূজা শেষে অনেকে মন্দির প্রাঙ্গণের মেলা ঘুরে কেনাকাটা করেন।

সকাল সোয়া ১০টার দিকে মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হয়। পুরোহিতের মন্ত্রপাঠের সঙ্গে ভক্তরা উলুধ্বনি দেন। কেউ দুই হাত জোড় করে প্রণাম করেন, কেউ দেবী দুর্গার জয়ধ্বনি দেন। বেলা ১১টার দিকে ভক্তদের হাতে অঞ্জলির ফুল ও বেলপাতা দেওয়া হয়। সোয়া ১১টার দিকে অঞ্জলি নিবেদনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় পূজার এ পর্ব।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উপদেষ্টা অরূপরতন চৌধুরী বলেন, মহালয়া থেকে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী হয়ে মহানবমী পর্যন্ত দুর্গোৎসবের প্রতিটি পর্ব এবার ভালোভাবে উদ্‌যাপন করা গেছে। এ জন্য তিনি সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

অরূপরতন চৌধুরী বলেন, মা দুর্গা দুর্গতি নাশ ও অসুর বিনাশের প্রতীক। দেবীর কাছে আমরা মানুষের অশুভ প্রবৃত্তি ও অশান্তি দূর হওয়ার প্রার্থনা করি। দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটুক এবং সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করুক— এটিই আমাদের প্রত্যাশা। অন্যায়-অবিচার থেকে দূরে থেকে সবাই যেন সুখে-শান্তিতে জীবনযাপন করতে পারেন, মহানবমীতে দেবীর কাছে সেই মঙ্গলও কামনা করেন ভক্তরা।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পুরোহিত ধর্মদাস চক্রবর্তী বলেন, ‘মা আমাদের সবার অভিপ্রায় স্বর্গে নিয়ে গেছেন। আমাদের ইচ্ছাগুলো সব দেবতার কাছে ভাগ করে দেবেন। যার যা প্রয়োজন, তাকে তা–ই দেবেন। তবে এত এত আনন্দের মধ্যেও মাকে বিদায় দিতে হবে। এ বিদায়-বিসর্জন দুঃখের।’

হিন্দু শাস্ত্রমতে, নবমী তিথিতে রাবণ বধের পর রাজা শ্রী রামচন্দ্র এই পূজা করেছিলেন। নীলকণ্ঠ ফুল ও যজ্ঞের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় নবমী বিহিত পূজা। নবমী পূজায় শাপলা, শালুক ও বলিদানের মাধ্যমে পূজা করা হয় দশভুজা দেবীর। নীল অপরাজিতা ফুল এ পূজার বিশেষ অনুষঙ্গ। এদিন ১০৮টি বেলপাতা, আমকাঠ ও ঘি দিয়ে যজ্ঞের মাধ্যমে দেবী দুর্গার কাছে আহুতি দেওয়া হয়।

গত ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনা শেষে আজ বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুর্গোৎসব।

পিপলসনিউজ/আরইউ 

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com