logo

বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে কী করবে: তাসনিম জারা

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:26 Oct 2026, 01:43 PM

বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে কী করবে: তাসনিম জারা

বিরোধী দলে থাকতেই কবর দিতে বাধা, রাষ্ট্রক্ষমতা পেলে কী করবে: তাসনিম জারা

পিরোজপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বাধা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসক ও তরুণ রাজনীতিক তাসনিম জারা। জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন তাসনিম জারা।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭) গত শনিবার মারা যান। তাকে পিরোজপুরে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দেয়। জামায়াতের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাকে পিরোজপুরে দাফন না করার দাবি জানান। তারা পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থানও দেন। শনিবার রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির কবরস্থানে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়। দাফনের সময় তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।

তাসনিম জারা তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, এ দেশের সমাজে কেউ মারা গেলে কবর খুঁড়তে কাউকে ডেকে আনতে হয় না। খবর পেয়ে পাড়ার ছেলেরা কোদাল হাতে নিজেরাই চলে আসে। কেউ বাঁশ কেটে আনে, কেউ চাটাই। মৃত মানুষের দাফনে দেরি করতে নেই, এটা শুনেই বড় হয়েছেন তিনি। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী মারা যান। সারা দিন তার পরিবারকে মরদেহ নিয়ে উৎকণ্ঠার সঙ্গে অপেক্ষা করতে হয়েছে। জামায়াতের স্থানীয় নেতা–কর্মীরা মিছিল করেছেন। মাইকে আর ফেসবুকে ঘোষণা দিয়েছেন, পিরোজপুরে তাকে দাফন করতে দেওয়া হবে না। অবশেষে গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় তার দাফন হয়েছে। প্রশাসনের লোকজন ও পরিবারের বাইরের আর কেউ সেখানে ছিলেন না।

তাসনিম জারা লিখেছেন, মানিক পশারীর দাফন পিরোজপুরে হতে দেওয়া হবে না— এ কথা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এমনভাবে বলেন যেন, এই মাটির দলিল তাদের নামে লেখা। যেন একজন মানুষ নিজের পারিবারিক কবরস্থানে শুয়ে থাকবেন কি না, সে অনুমতিও তাদের কাছ থেকে নিতে হবে। তাদের একসময় একই ভাষায় বলা হতো ‘জামাত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’। এটা যে কেমন অন্যায় কথা, সেটা তাদের ভালোই জানার কথা। কিন্তু ক্ষমতা একটু হাতে আসার সঙ্গে সঙ্গেই, বিরোধীদলে থাকতেই, সেটা তারা ভুলে গেছেন।

তাসনিম জারা লিখেছেন, একাত্তরে জামায়াত দল হিসেবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল। সেই দলের নেতা–কর্মীরা আজ ঠিক করে দিতে চাইছেন, কে মুক্তিযোদ্ধা আর কে ভুয়া, কে রাষ্ট্রীয় সম্মান পাবেন আর কার কবর কোথায় হবে।

জামায়াত নিজেদের নেতাদের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, সঠিক প্রক্রিয়া ও মানবিক মর্যাদার কথা বললেও অন্যদের ক্ষেত্রে তারা সেটা করতে নারাজ বলে অভিযোগ করেন তাসনিম জারা। জামায়াতের নেতা–কর্মীদের সম্পর্কে তিনি লিখেছেন, ‘ভোটের আগে আর বক্তৃতায় ইনসাফের কথা বলেন। কিন্তু একজন মৃত মানুষের সাথে ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে এমন আচরণ করেন। বিরোধী দলে থাকতেই নিজের বসতভিটায় কবর দিতে বাধা দিচ্ছেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতা ওনাদের হাতে গেলে কী করবেন?’

এদিকে পিরোজপুরের ঘটনায় জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।

রোববার রাতে এক ফেসবুক পোস্টে আব্দুল কাদের লিখেছেন, এমন অমানবিক ঘটনার পরে এনসিপি সাংগঠনিকভাবে একেবারে নির্বিকার, নির্লিপ্ত ছিল। আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দূরে থাক, কোনো একজন নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় পর্যন্ত একটা টুঁ শব্দ করেননি। মৃত ব্যক্তি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত। এ ক্ষেত্রে এনসিপি তাদের শরিক দল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পক্ষ নিয়েছে। মবকে নীরব সমর্থন দিয়েছে। অথচ তারা নাকি মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করে। এই তার নমুনা!

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com