logo

মিয়ানমারে সংঘর্ষের ঘটনায় নাফ নদীতে জেলে গুলিবিদ্ধ

কক্সবাজার প্রতিনিধি

Published:09 Jan 2026, 04:46 PM

মিয়ানমারে সংঘর্ষের ঘটনায় নাফ নদীতে জেলে গুলিবিদ্ধ

মিয়ানমারে সংঘর্ষের ঘটনায় নাফ নদীতে জেলে গুলিবিদ্ধ

মিয়ানমারে সংঘর্ষের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নাফ নদীতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এরপর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলে ও বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে নাফ নদীর উপজেলার হোয়াইক্যং অংশে এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ জেলে মো. আলমগীর টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বালুখালী গ্রামের মৃত ছৈয়দ বলির ছেলে। তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে বলেন, রাতে মিয়ানমারে গোলাগুলির সময় একটি গুলি এসে নাফ নদীতে বাংলাদেশি এক জেলের গায়ে লেগেছে। এই অবস্থায় গোলাগুলির মধ্যে না যেতে এবং সতর্কতা অবলম্বনের জন্য জেলে ও সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে বলা হয়েছে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত এলাকায় মাঝেমধ্যে গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। শুক্রবারও কয়েকটি গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

আহত জেলের বড় ভাই সরওয়ার আলম বলেন, বৃহস্পতিবার মাগরিবের পর আলমগীর ও মো. আকবর নাফ নদীর হোয়াইক্যং এলাকার বিলাইচ্ছর দ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাছ ধরতে যান। নৌকায় অবস্থান করে নদীতে জাল ফেলছিলেন তারা। এ সময় হঠাৎ গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়। একপর্যায়ে আলমগীর নৌকার ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে দেখা যায়, তার বাম হাত থেকে রক্ত ঝরছে এবং একটি গুলি বাম হাত ভেদ করে বের হয়ে গেছে। সঙ্গে থাকা অন্য জেলেদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়।

সরওয়ার আলম বলেন, আহত অবস্থায় প্রথমে আলমগীরকে উখিয়া কুতুপালং এমএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিজিবি উখিয়া ৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, নাফ নদীতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার পর পরই সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে নাফ নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু জেলে সেখানে যাচ্ছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় জেলেদের সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হোয়াইক্যংয়ের বিপরীতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার এলাকা। নাফ নদীতে জেগে ওঠা দুটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আরাকান আর্মির (এএ) সঙ্গে দেশটির রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা নবী হোসেন বাহিনীর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। গত ১৩ ও ২৫ ডিসেম্বর দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়েছে। ওই সময় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে হোয়াইক্যং এলাকার কয়েকটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া গত বছর ২৯ মে আরাকান আর্মির গুলিতে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া টেকনাফের মো. হোসেন আলী নামের এক জেলের মৃত্যু হয়েছে।

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com