logo

লালমনিরহাটে ৬৬ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২২ বছরের তরুণীর বিয়ে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

Published:27 Mar 2025, 10:30 PM

লালমনিরহাটে ৬৬ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২২ বছরের তরুণীর বিয়ে

লালমনিরহাটে ৬৬ বছরের বৃদ্ধের সঙ্গে ২২ বছরের তরুণীর বিয়ে

লালমনিরহাটে ৬৬ বছরের বৃদ্ধ বিয়ে করলেন ২২ বছরের কলেজছাত্রীকে। বর শরিফুল ইসলাম প্রধানের বাড়ি পাটগ্রাম পৌরসভা এলাকার দক্ষিণ কোর্টতলি রসুলগঞ্জ এলাকায়। আর কনে আইরিন আক্তার একই উপজেলার কুচলিবাড়ি ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের মেয়ে। 

গত শনিবার (২২ মার্চ) তাদের বিয়ে হয়। মোহরানা করা হয় ১০ লাখ টাকা। তাদের বিয়ের বিষয়টি মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

বর শরিফুল ইসলাম প্রধান বলেন, ‘আইরিন ছোট থেকেই পড়াশোনায় অনেক ভালো। সে আমাকে নানা বলে ডাকত। মেধাবী হওয়ায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকে তার পড়াশোনায় আমি অনেক সহায়তা করেছি। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকা থেকে তার বিয়ের সম্বন্ধ (আলাপ) এলেও সে রাজি হয়নি। সে অন্যত্র বিয়ে না করায় আশপাশের মানুষ ভাবতো তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক আছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। একপর্যায়ে সে (আইরিন) হুট করে আমাকেই বিয়ে করবে বলে জানায়। এতে আমি হতবাক হই। তাকে বিষয়টি ভালো করে বোঝার সময় দিয়েছিলাম কিন্তু নাছোড়বান্দা মেয়েটি আমাকেই বিয়ে করবে। যেহেতু আমিও বিয়ে করিনি, তাই বৃদ্ধ বয়সে নিঃসঙ্গতা দূর করতে আমিও রাজি হলাম। শেষ পর্যন্ত তাকে বিয়ে করেছি পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে।’

এ বিয়ের খবর-ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, কনে বেশে এক তরুণীকে মিষ্টি মুখ করাচ্ছেন পাঞ্জাবি ও টুপি পরিহিত এক বৃদ্ধ। বিয়ের পর থেকেই জেলাজুড়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে ‘অসম’ এ বিয়ের সংবাদ।

জানা গেছে, আইরিন আক্তারের সঙ্গে বৃদ্ধ শরিফুল ইসলামের দীর্ঘদিনের পরিচয়। আইরিন আক্তার টাঙ্গাইলের একটি ডিপ্লোমা মেডিক্যালে পড়াশোনা করেন। ওই ছাত্রীর দুলাভাইয়ের সম্পর্কে নানা শরিফুল ইসলাম প্রধান। পরিচয়ের পর থেকেই আইরিনের পড়াশোনার সব খরচ বহন করছেন শরিফুল। নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালাতে ওই ব্যক্তি ছয় লাখ টাকা ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট করে দিয়েছেন বেশ আগে। সেই টাকার লভ্যাংশ দিয়েই পড়াশোনার খরচ চলে আইরিনের।

স্থানীয়রা জানান, আইরিনের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না। ফলে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই তাঁর পড়াশোনার খরচ দিয়ে আসছেন শরিফুল ইসলাম প্রধান।

জানতে চাইলে আইরিন আক্তার বলেন, ‘সম্পর্কে তিনি আমার নানা। পরিবারের অভাবের কারণে ছোট থেকেই তিনি আমাকে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে সহায়তা করে আসছেন। কিছুদিন আগে আমার পরিবার আমাকে বিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছিল। আমি ভেবে দেখেছি, অন্য কোথাও আমার বিয়ে হলেও আমার পড়াশোনা আর নাও হতে পারে। ফলে ভেবেচিন্তে আমি ওনাকেই বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেই। এতে প্রথমে আমার বাবা রাজি ছিলেন না কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমার চাওয়াকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি আমাদের বিয়ে দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘কারো কোনো চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্তে আমরা বিয়ে করিনি। জেনে-বুঝেই বিয়ে করেছি। এখন কে কী বলল সেটি আমার দেখার বিষয় না’

এ বিষয়ে শরিফুল ইসলাম প্রধান বলেন, ‘যেহেতু মেয়েটি আমাকে গ্রহণ করে নিয়েছে, সেখানে বয়স কোনো ব্যাপার না। আমি এতদিন বিয়ে করিনি আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে। এখন বৃদ্ধ বয়সের নিঃসঙ্গতা দূর করতে বিয়ে করেছি। আমি সকল ধর্মের মানুষের কাছে আমাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য দোয়া চাই।’

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com