logo

সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় হতে পারে আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক

Published:01 Sep 2026, 10:47 AM

সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় হতে পারে আজ

সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় হতে পারে আজ

ঢাকার সাভারের রানা প্লাজা নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রায় ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।

ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালতে মামলাটির রায় ঘোষণার কথা রয়েছে।

এর আগে গত ১৬ আগস্ট রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিনে সোহেল রানাকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। অন্য আসামিরাও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে রায় প্রস্তুত না থাকায় আদালত সেদিন রায় ঘোষণা থেকে বিরত থাকেন। পরে আদালত নতুন করে আজকের দিন ধার্য করেন।

মামলার আট আসামির মধ্যে সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। অপর আসামিরা জামিনে আছেন। আর মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

রানা প্লাজা নির্মাণে নকশা অনুমোদন, ভবনের আয়তন বাড়ানো এবং অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে পোশাক কারখানা পরিচালনার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬ সালে সাভার পৌরসভা ছয়তলা রানা প্লাজা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন করে। পরে ভবনটি আরও চারতলা বাড়ানোর অনুমতি চাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, আগের নথির তথ্য গোপন করে নতুন নথির মাধ্যমে ১০তলা ভবনের নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়।

এ ছাড়া শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদন পাওয়া ভবনটিতে পরে পাঁচটি পোশাক কারখানা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয় বলেও তদন্তে উঠে আসে। ভবন নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার মূল দায়িত্ব সোহেল রানার হাতে ছিল বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার আসামিরা হলেন—রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা, সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আব্দুল মোত্তালিব।

তাদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম পলাতক। অন্যরা জামিনে রয়েছেন।

রানা প্লাজা ধসের পর ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করে ২০১৪ সালের ১৫ জুন সাভার থানায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক এস এম মফিদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

পরে অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৮ জনকে আসামি করে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। আদালত আটজনকে অব্যাহতি দিয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। বিচার চলাকালে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা গেলে তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বর্তমানে আট আসামির বিরুদ্ধে বিচার চলছে।

২০১৭ সালের ২১ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়। মামলায় ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার ১০তলা রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। ভবনটিতে কয়েকটি পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ছিল। ধসের সময় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক সেখানে অবস্থান করছিলেন।

উদ্ধার অভিযানে ধ্বংসস্তূপ থেকে এক হাজার ১৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার করা হয় দুই হাজার ৪৩৮ জনকে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেন প্রায় দুই হাজার শ্রমিক।

ঘটনার পাঁচদিন পর ২৯ এপ্রিল ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন।

পিপলসনিউজ/আরইউ

© ঠাকুরগাঁও ৭১

সম্পাদকঃ ফইজুল ইসলাম উপদেষ্টা: অধ্যক্ষ (ভাঃপ্রাঃ), মো: মাজহারুল ইসলাম সুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, ঠাকুরগাঁও জেলা।

ফোন : +৮৮০১৭১৭৮০১৪৪০, ইমেইল : info@thakurgaon71.com