ট্রুডো বললেন কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার সুযোগ নেই
কানাডাকে যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র প্রকাশ ট্রাম্পের
প্রকাশ : ০৮-০১-২০২৫ ২৩:৪৬

ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখিয়ে দুটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এই মানচিত্র দুটি শেয়ার করেছেন তিনি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাতে ট্রাম্প এ দুটি মানচিত্র শেয়ার করেন বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম নিউজউইক।
শেয়ার করা মানচিত্রগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার সীমান্ত মুছে ফেলা হয়েছে এবং দুটি দেশকে একক রাষ্ট্র হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। প্রথম মানচিত্রে ‘ইউনাইটেড স্টেটস’ শব্দটি নতুন সত্তার ওপর বসানো হয়, আর দ্বিতীয়টি কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে রাঙানো হয়, সঙ্গে লেখা ছিল ‘ওহ কানাডা!’
এর আগে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে কানাডাকে নতুন অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি দেন ট্রাম্প। পাল্টা জবাব দিয়ে গত মঙ্গলবার এক্সে এক পোস্টে কানাডার বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার সুযোগ আদৌ নেই।
এরআগে মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর ফ্লোরিডায় নিজের বাড়িতে প্রেস কনফারেন্সে কানাডার ব্যাপারে আলোচনা করেন। সেখানে তিনি বলেন, কৃত্রিম সীমান্ত থেকে মুক্তি নিন। এরপর দেখুন বিষয়টি দেখতে কেমন লাগে। বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বেশ ভালো হবে।
তিনি আরো বলেন, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র এক হবে। কানাডার সামরিক ব্যয় নিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাদের সেনাবাহিনী খুবই ছোট। তারা আমাদের সেনাদের ওপর নির্ভরশীল। সব ঠিক আছে। কিন্তু আপনারা জানেন, তাদের এজন্য অর্থ দিতে হয়। এটি খুবই অযৌক্তিক।
ট্রাম্পকে তখন এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডাকে একীভূত করতে তিনি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, না, অর্থনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করব।
দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর মতো কথা বলে আসছেন ট্রাম্প।
গত সোমবার আইনপ্রণেতাদের চাপের মুখে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানানোর পর ট্রাম্প তার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে নতুন করে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য করার প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্প লেখেন, কানাডার অনেক মানুষই তাদের দেশের যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য হওয়াকে স্বাগত জানাবে। কারণ, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হয়, তাহলে দেশটি অর্থনৈতিক দিক থেকে সুবিধা পাবে। দুই দেশ এক হয়ে গেলে বাণিজ্য শুল্ক থাকবে না, কর কমবে। আর রাশিয়া এবং চীনের কাছ থেকে কানাডার নিরাপত্তায় যে হুমকি আছে, তা থেকেও দেশটির সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। একসঙ্গে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র কতই না বিশাল একটি জাতি হবে।
এর আগে ট্রাম্প কানাডা সীমান্ত নিয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই সীমান্তরেখা কৃত্রিমভাবে আঁকা। এই কৃত্রিম সীমান্ত মুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দিলে কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা আরো ভালোভাবে সুরক্ষিত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নিয়ে ট্রাম্প বহুদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছেন। কানাডা তাদের মোট রপ্তানি পণ্যের ৭৫ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্র-সংলগ্ন দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে পাঠিয়ে থাকে। ট্রাম্প ২০ জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেওয়ার পর কানাডার রপ্তানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবেন বলে হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের রাজ্য হওয়ার সুযোগ আদৌ নেই; ট্রুডোর পাল্টা জবাব
নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। মঙ্গলবার তিনি বলেছেন, এটি কোনোভাবেই সম্ভব হবে না।
খুদে ব্লগ লেখার সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রুডো লিখেছেন, ‘কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশে পরিণত করার সুযোগই নেই। আমাদের দুই দেশের শ্রমিক ও বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষেরা একে অপরের বড় বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে লাভবান হচ্ছেন।’
কানাডাকে নিয়ে ট্রাম্পের আগের নানা বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কানাডীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেলানি জোলি বলেন, ট্রাম্পের কাছ থেকে কোনোরকম হুমকির মুখে আমরা পিছ পা হব না। মঙ্গলবার জোলি বলেন, ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, কানাডা কীভাবে শক্তিশালী দেশ হয়ে উঠল তা বোঝার সক্ষমতা তার একেবারেই নেই।
কানাডার বিরোধী দলের নেতা পিয়েরেও এরই মধ্যে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। তিনি লিখেছেন, কানাডা কখনোই ৫১তম রাজ্য হবে না। আমরা একটি মহান ও স্বাধীন দেশ।
নিজ দল লিবারেল পার্টির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ায় দলীয় আইনপ্রণেতাদের চাপের মুখে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ট্রুডো। দলীয় নতুন নেতা নির্বাচন না করা পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন।
কানাডার বিধান অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে দেশটিতে নির্বাচন হতে হবে। এরই মধ্যে চালানো বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, বিরোধী দল কনজারভেটিভ নির্বাচনে জয়ী হবে।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com