টিউলিপ সিদ্দিকের বিচারের সমালোচনা করলেন ব্রিটিশ আইনজীবীরা
প্রকাশ : ২৬-১১-২০২৫ ১১:৫৪
ছবি : সংগৃহীত
পিপলসনিউজ ডেস্ক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে ও যুক্তরাজ্যের সাবেক ‘সিটি মিনিস্টার’ টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে চলমান বিচারের সমালোচনা করেছেন দেশটির শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীরা।
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে তারা একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। আইনজীবীদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সাবেক কনজারভেটিভ সরকারের একজন বিচারমন্ত্রীও রয়েছেন। আগামী ১ ডিসেম্বর ঢাকায় টিউলিপের মামলার রায় ঘোষণার আগে দেশটির আইনজীবীর পক্ষ থেকে এমন পদক্ষেপ এলো।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশে যখন আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন, সেই মুহূর্তে ব্রিটিশ আইনজীবীরা বাংলাদেশের বিদ্যমান ফৌজদারি মামলার বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন।
লেবার পার্টি গত বছর যুক্তরাজ্যে সরকার গঠন করলে টিউলিপ সিদ্দিককে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিটি মিনিস্টার নিয়োগ দেয়। টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের হ্যাম্পস্টিড ও হাইগেট আসনের লেবার পার্টির এমপি। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার খালা শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে দমনপীড়নের ঘটনায় এ মামলা করা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে ঢাকায় টিউলিপের পাশাপাশি তার খালা, মা, ভাই, বোনসহ আরও অনেকের বিরুদ্ধে বিচার চলছে। বাংলাদেশে টিউলিপের অনুপস্থিতিতেই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় তার সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চেয়েছে।
বাংলাদেশে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সমালোচনার মুখে গত ১৪ জানুয়ারি সিটি মিনিস্টারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন টিউলিপ। এরপর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীন পরামর্শক স্যার লরি ম্যাগনাস তদন্ত করে সিদ্ধান্ত দেন– টিউলিপ কোনো অনিয়ম করেননি।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে ওই চিঠিটি যারা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকারের বিচারমন্ত্রী রবার্ট বাকল্যান্ড কেসি ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভি রয়েছেন।
চিঠিতে তাদের অভিযোগ, বিচারে টিউলিপকে আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি বিচার চলাকালে টিউলিপের মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষা করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোও জানানো হয়নি। তারা চিঠিতে লিখেছেন, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় বিচার পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিযোগগুলো কৃত্রিম, সাজানো ও অন্যায্য হয়।
টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ঢাকার উপকণ্ঠে মায়ের জন্য একটি প্লট নিশ্চিত করতে শেখ হাসিনার ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন। তবে টিউলিপ বলেছেন, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
চিঠিতে ব্রিটিশ আইনজীবীরা লিখেছেন, ‘যেহেতু টিউলিপ যুক্তরাজ্যে থাকেন এবং দেশটির একজন নাগরিক; সে কারণে তিনি কোনো পলাতক ব্যক্তি নন। তিনি একজন নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্য। তার সঙ্গে হাউস অব কমন্সে যোগাযোগ করা যায়। তাকে দেশে ফেরানোর পক্ষে যথাযথ যুক্তি থাকলে প্রয়োজনে অভিযোগের মুখোমুখি করা যায়।’
ব্রিটিশ আইনজীবীরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এসব উদ্বেগ দূর করে ন্যায়বিচার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com