তিন আর্জেন্টাইনের ৪ গোলে ফাইনালে মায়ামি
প্রকাশ : ২৪-১১-২০২৫ ১১:২৪
ছবি : সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
একজনের বয়স ৩৮, আরেকজনের বয়স ১৯। দুজনই আর্জেন্টিনার, দুজনের জন্ম রসারিওতে। এখনকার পরিচয়, দুজন ক্লাব সতীর্থ। লিওনেল মেসি ও মাতেও সিলভেতির দারুণ সংযোগে প্রথম দুটি গোল পেল ইন্টার মায়ামি। এই দুজনের মাঝের প্রজন্মের আরেক আর্জেন্টাইন হয়তো ভাবলেন, তারও তো কিছু করা দরকার! ব্যস, দুটি গোল করে ফেললেন তাদেও আইয়েন্দে। তিন প্রজন্মের আর্জেন্টাইন ফুটবলারের চার গোলে ইতিহাসের দুয়ার খুলল ইন্টার মায়ামি।
মেজর লিগ সকারের ইস্টার্ন কনফারেন্স সেমি-ফাইনালে সিনসিনাটি এফসিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে প্রথমবার কনফারেন্স ফাইনালে পৌঁছে গেল ইন্টার মায়ামি।
সিনসিনাটির মাঠে বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে প্রথমার্ধে সিলভেতির পাস থেকে মেসি হেডের গোলে এগিয়ে যায় মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে মেসির পাস থেকে গোল করেন সিলভেতি। পরে মেসির পাস থেকে দুটি গোল করেন ২৬ বছর বয়সী তারকা আইয়েন্দে।
মায়ামির আরেক আর্জেন্টাইনের ছোঁয়ায় ব্যবধান বাড়তে পারত আরো। কিন্তু শেষদিকে মেসির পাস থেকেই রদ্রিগো দে পল সুবর্ণ এক সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি।
নিয়মিত মৌসুমে ২৯ গোল করার পাশাপাশি ১৯ গোলে সহায়তা করে টানা দ্বিতীয়বার ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ স্বীকৃতি পাওয়াকে স্রেফ সময়ের ব্যাপার বানিয়ে রেখেছেন মেসি। প্লে-অফের প্রতিটি ম্যাচেও আছে তার অবদান। এখানেও ছয় গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট হয়ে গেল আর্জেন্টাইন জাদুকরের।
অভিজ্ঞ লুইস সুয়ারেসকে বাইরে রেখে এদিন মেসির সঙ্গে তারুণ্য নির্ভর আক্রমণভাগ সাজান মায়ামির কোচ হাভিয়ের মাসচেরানো। তা কাজে লেগে যায় দারুণভাবে।
ম্যাচের শুরুটা হয় দুই দলের সমান তালে লড়াইয়ে। এর মধ্যেই প্রথম ১৫ মিনিটে হেড ও দূরপাল্লার শটে গোলের চেষ্টা করে সিনসিনাটি। দুটিই আটকে দেন মায়ামির গোলকিপার রোকো রিওস নোভো।
প্রথম ভালো আক্রমণ থেকেই মায়ামি এগিয়ে যায় ১৯তম মিনিটে। বক্সের বাইরে দে পলের ডামি থেকে বল পান মেসি। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বক্সের বাইরে বাঁ কোনায় থাকা সিলভেতিকে। তিনি বাঁ পায়ে ক্রস করেন ভেতরে। ফাঁকায় থাকা মেসি হেডে বল পাঠান জালে।
২৫তম মিনিটে মেসির পাস থেকে বালতাসার রদ্রিগেসের শট ডাইভ দিয়ে কোনোরকমে ঠেকান সিনসিনাটির গোলকিপার রোমান ক্যালেন্টানো। মিনিট দুয়েক পরই মাঝমাঠ থেকে উড়ে আসা দারুণ এক বল ধরে গোলকিপারকে প্রায় একা পেয়ে গিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু তার গড়ানো শট অল্পের জন্য চলে যায় বাইরে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাঁ প্রান্ত ধরে একাই বল নিয়ে বিপজ্জনকভাবে ভেতরে ঢুকে শট নেন সিলভেতি। চমৎকার রিফ্লেক্সে তা ঠেকান সিনসিনাটির গোলকিপার।
একটু পর আর হতাশ করেননি সিলভেতি। মেসির পাস পেয়ে বক্সের ভেতর ফাঁকায় থেকে কোনাকুনি শটে গোল করেন তিন মাস আগে দলে যোগ দেওয়া উইঙ্গার।
মিনিট পাঁচেক পর পাল্টা আক্রমণ থেকে মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের দুজনের মাঝ দিয়ে বল বাড়ান মেসি। বল ধরে দ্রুতগতিতে ছুটে যান আইয়েন্দে, তার সামনে ছিল না কেউ। গোলকিপারকেও পরাস্ত করেন অনায়াসেই।
আইয়েন্দের পরের গোলটিও প্রায় একইরকম। আবারো মাঝমাঠ থেকে দুজনের ভেতরে দিয়ে দুর্দান্ত পাস বাড়ান মেসি। বল ধরে ছুটতে থাকেন আইয়েন্দে। এবার সিনসিনাটির এক ডিফেন্ডার অবশ্য দৌড়ে গিয়ে চ্যালেঞ্জ জানান তাকে। কিন্তু সেই ডিফেন্ডারকে শরীরের ধাক্কায় ছিটকে গিয়ে আগুয়ান গোলকিপারের পাশ দিয়ে নিজের দ্বিতীয় আর দলের চতুর্থ গোল করেন সেল্তা ভিগো থেকে গত জানুয়ারিতে ধারে মায়ামিতে আসা উইঙ্গার।
৮৬তম মিনিটে মেসির আরেকটি বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে গোলমুখে গোলকিপারকে একদম একা পেয়েও অবিশ্বাস্যভাবে গোল করতে পারেননি দে পল।
কনফারেন্স ফাইনালে মেসিদের প্রতিপক্ষ নিউ ইয়র্ক সিটি এফসি। এ দিনই অন্য সেমি-ফাইনালে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নকে।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com