weather ২৯.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৯% , রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবসর ভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৫-০৮-২০২৬ ২০:০৯

অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষকের হাতে চেক তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান/ ছবি: সংগৃহীত।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি সরকার যতদিন সরকারে আছে ততদিন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে অবসরকালীন সুবিধার টাকা যথাসময়ে অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার। আগামী দিনগুলোতে যথাসময়ে অনলাইনে আপনাদের প্রাপ্য টাকা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই আপনাদের অ্যাকাউন্টে যাতে পৌঁছে যায়, এ বিষয়ে আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি ব্যতিক্রমধর্মী। এর মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার ১ লাখ ২৩ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর, অর্থাৎ দীর্ঘ চার বছর পর দুটি তহবিলে তাদের জমানো অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন বা পেতে যাচ্ছেন। এই দুটি তহবিল হলো—বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ড। দুটি তহবিল থেকে অর্থ পাওয়ার মাধ্যমে ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তারেক রহমান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠিত দুটি তহবিলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রতি মাসে তাদের বেতন থেকে অর্থ জমা দেন। এর সঙ্গে সরকারও প্রতিটি হিসাবের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে অর্থ জমা করে। দীর্ঘ চাকরি জীবন শেষে অবসরে যাওয়ার সময় শিক্ষক-শিক্ষিকারা যাতে একটি ভালো পরিমাণ অর্থ হাতে পান, সেটিই এ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। উদ্দেশ্য মহৎ হলেও দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে, চাকরি জীবন শেষে অবসরে গিয়ে এই টাকা উত্তোলন করতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। 

সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অর্থ উত্তোলনে ভোগান্তির একটি ভিডিও অনুষ্ঠানে দেখানো হয় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও পালন করতে বা বাধ্য হতে হয়েছে। শিক্ষক সমাজ, যারা নীতি, নৈতিকতা আর আদর্শের বাণী শিখিয়ে লাখো-কোটি শিক্ষার্থীদের বড় করে তোলেন, তাদেরই যদি ঘুষ দিয়ে টাকা তুলতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়—আমি মনে করি সেটি শুধু শিক্ষকদের হয়রানিই নয়, বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতাই প্রকাশ পায়।

‘লুটপাটের কারণে তহবিল দুটি প্রায় দেউলিয়া’অবসরকালীন সুবিধার অর্থ সহজে পরিশোধ করা সম্ভব হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, ‘পতিত পরাজিত ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে ব্যাংক, বীমাসহ প্রতিটি সেক্টর থেকে লুটপাট করেছিল, সেই লুটপাটের কবল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থরক্ষায় গঠিত উল্লিখিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি।’

প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ তৈরি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল।

ফলে সারা জীবন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জীবনের শেষ প্রান্তে এসে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী চক্রের লুটপাটের কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ ২০২২ সাল থেকে এই তহবিলগুলোতে কোনো টাকাই পাচ্ছিলেন না।’প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবসরকালীন সুবিধার অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু পরে দেখা যায়, তহবিল দুটিতে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান নেই। এরপর ‘অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দুরবস্থার কথা চিন্তা করে সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় আজ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।’

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতেই প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কল্যাণে খালেদা জিয়ার উদ্যোগেই ১৯৯১ সালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এবং তারই উদ্যোগে ২০০২ সালে অবসর সুবিধা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। খালেদা জিয়া প্রথমে সরকারি ফান্ড থেকে ১৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন এবং পর্যায়ক্রমে ৮৯ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে এ তহবিলের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বরাবরই শিক্ষক, শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করতেন। বিশেষ করে নারীদের একাডেমিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে তার উদ্যোগ ও ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। শিক্ষা বিস্তারে খালেদা জিয়ার চালু করা শিক্ষা উপবৃত্তি এবং নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ বিভিন্ন দেশে মডেল হিসেবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বলা হয়ে থাকে—শিক্ষকতা হলো একমাত্র পেশা, যা অন্য সব পেশা সৃষ্টি করে। শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিলেও শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন, হচ্ছেন এবং ভবিষ্যতেও হবেন। এখানেই একজন শিক্ষকের সার্থকতা। সুতরাং আপনারা প্রচলিত নিয়মে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করলেও শিক্ষক হিসেবে আপনাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়নি।’ 

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা এখনও সমাজের শিক্ষক। বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় জনমানসে তাদের ভূমিকা সর্বজনগ্রাহ্য। তাই জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সমাজে আলোকবর্তিকা হিসেবে ভূমিকা রাখতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দীন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন, শিক্ষা সচিব আব্দুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সিভিল সোসাইটির প্রতিনিধি, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেই সঙ্গে অনলাইনে অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন- দেশের ৬৪ জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ।

পিপলসনিউজ/ এস.সি

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ ধানমন্ডি ৩২ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সন্দেহে আটক ১ অবসর ভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী অবসর ভাতার জন্য শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না : প্রধানমন্ত্রী ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নায়েব আলীসহ গ্রেপ্তার ৫ ঝিনাইদহে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি নায়েব আলীসহ গ্রেপ্তার ৫ বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৫১ বছর বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৫১ বছর লোডশেডিংয়ের কারণে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি কোনো ফুটেজ লোডশেডিংয়ের কারণে সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি কোনো ফুটেজ