কঙ্গোয় ইবোলা আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যু ৩ হাজার ছুঁই ছুঁই
প্রকাশ : ০১-০৯-২০২৬ ১৯:০২
ইবোলা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ছয় বছর বয়সী বাউদজো বারাকা জুলসের মরদেহের কফিন কবরে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন সুরক্ষা পোশাক পরা কর্মীরা। ছবিটি ১৮ আগস্ট পূর্ব কঙ্গোর ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া থেকে তোলা, ছবি: সংগৃহীত
পিপলসনিউজ ডেস্ক
কঙ্গোয় ইতিহাসের দ্রুততম বিস্তার লাভ করা ইবোলার প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৯১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩১ আগস্ট) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাইরাসে আক্রান্ত ১ হাজার ৩৬০ জনের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যা একটি ‘উৎসাহব্যঞ্জক’অগ্রগতি।
পূর্ব কঙ্গোয় অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট এবং মানুষের ব্যাপক স্থানান্তর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, যেখানে বাসিন্দারা আগে থেকেই অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছেন।
গত সপ্তাহে এ অঞ্চলের আরও দুটি নতুন স্বাস্থ্য এলাকায় ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে এবং এটি ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ওই প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের বাসিন্দা।
গেল শনিবার ইতুরি প্রদেশের মামবাসা শহরের উপকণ্ঠে একটি মরদেহ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানে সাড়া দিতে যাওয়া ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত একটি দলের ওপর হামলা হয়। দলের এক প্রতিনিধি এপিকে জানান, মাশেটি হাতে একদল তরুণ মরদেহ দাফনের স্থানটিতে হামলা চালায়। এতে দলটির সদস্যরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন এবং একজন আহত হন।
ইবোলা মোকাবিলা দলের সদস্য ফ্লোরিবার্ট মাজেনে বলেন, ‘মাঠে কাজ করতে এবং জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা আরও নিরাপত্তা দাবি করছি।’
ইবোলায় মৃত ব্যক্তির মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক হতে পারে। মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া এবং জানাজা বা শেষকৃত্যে মানুষের সমাগমের মাধ্যমে ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে ইবোলা মোকাবিলায় কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ যেখানে সম্ভব সন্দেহভাজন আক্রান্তদের মরদেহ দাফনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিজেদের ব্যবস্থাপনায় করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এ নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটছে।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্দিবুগিও ভাইরাস। এটি ইবোলার একটি বিরল ধরন, যার অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।
গত সপ্তাহে কঙ্গো স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখসারির কর্মীদের ইরভেবো টিকা দেওয়া শুরু করেছে। এর আগে ইবোলার আরও প্রচলিত ধরন জাইর-এর সৃষ্ট প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এই টিকা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য অনুমোদিত টিকা উদ্ভাবনে বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।
চলতি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তবে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এর সংক্রমণ ফেব্রুয়ারি থেকেই ছড়াচ্ছিল। শুরুতে তিনটি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন প্রায় ৬০টি এলাকায় এটি ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটনাই নজরদারিতে থাকা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বাইরে এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘটছে।
প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনসমাগম সীমিত করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিমানবন্দর বন্ধের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশটির ছয়টি প্রদেশে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ইতুরি প্রদেশে বিদ্রোহীদের সহিংসতার কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক।
সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন বলছে, স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেশী উগান্ডা গত মাসে নিজেদের ইবোলামুক্ত ঘোষণা করলেও সীমান্ত পেরিয়ে ভাইরাসটির আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
পিপলসনিউজ /এসি.সি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com