রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ৭ জুন
প্রকাশ : ০৪-০৬-২০২৬ ১৯:১৮
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার নামে আট বছর বয়সী স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আগামী ৭ জুন (রবিবার) রায়ের দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এই দিন ধার্য করেন। এর আগে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু।
এদিন সকাল ৮টার দিকে সোহেল রানা ও স্বপ্না খাতুনকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানির সময় তাদের এজলাসে তোলা হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন করেন।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি আজিজুল রহমান দুলু আদালতে বলেন, সাক্ষীদের সাক্ষ্য, জব্দ আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কালিমুল্লাহ আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। একই সময়ে ভুক্তভোগী রামিসার পরিবারের পক্ষেও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
বুধবার ( ৩ জুন) আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে স্বপ্না খাতুন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। এছাড়া সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, ‘স্যার, আমি নির্দোষ। খালাস চাই। আমাকে মাফ করে দেন। আমার সঙ্গে ডলার ছিল, সেটা কেউ দেখেনি। তাকে ধরেন স্যার, সেও তো দোষী।’
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে আদালত আগামী রবিবার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন। মঙ্গলবার (২ জুন) এ মামলার গ্রহণ শেষ হয়। ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য নেন আদালত। একই আদালত সোমবার আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন।
মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন।
মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওই দিনই বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
পিলসনিউজ/এসসি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com