weather ২৮.৯৯ o সে. আদ্রতা ৮৯% , রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাস্থের ডিজির সঙ্গে তর্কে জড়ানো সেই চিকিৎসককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

প্রকাশ : ০৭-১২-২০২৫ ২২:০১

ছবি : সংগৃহীত

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. আবু জাফরের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ইনচার্জ ডা. ধনদেব চন্দ্র বর্মণকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সেই সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অসদাচরণ করায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকালে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নেয়। বিকাল চারটার দিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম ফেরদৌস।

এর আগে সকাল ১০টায় মমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে উভয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।

এ সময় ওই ডিজির উদ্দেশে ডা. ধনদেব বার বার বলতে থাকেন, ‘আমাকে সাসপেন্ড করেন, নো প্রবলেম’।

এদিন শিশুদের মূত্রাশয় ও প্রজননতন্ত্র সম্পর্কিত রোগের চলমান চিকিৎসার সাম্প্রতিক অগ্রগতি এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে এক সেমিনারে অংশ নিতে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান স্বাস্থ্য মহাপরিচালক। সেমিনারে যোগ দেওয়ার আগে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি জানান, হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি অপারেশন থিয়েটার পরিদর্শনে গিয়ে ডিজি ভেতরে টেবিল দেখে চিকিৎসকদের কাছে এর কারণ জানতে চান। এ সময় চিকিৎসক ধনদেব বর্মণ লেখালেখির প্রয়োজনে টেবিল রাখা হয়েছে বলে জানান।

কথোপকথনের একপর্যায়ে ডিজি বলেন, ‘আপনি কার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন, কথাবার্তা হুঁশ করে বলবেন।’ এ সময় নিজের সঙ্গীয় লোকদের ভিডিও করতে বলেন তিনি। ডিজি বলেন, ‘যারা ডিজির সঙ্গে এমন ব্যবহার করে, তারা রোগীর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে!’

প্রত্যুত্তরে চিকিৎসক ধনদেব বলেন, ‘আমি রোগীর সঙ্গে অনেক ভালো বিহেব করি; কিন্তু যারা দায়িত্বে আছে তাদের সঙ্গে আমার বিহেব ভালো না।’ কারণ হিসেবে চিকিৎসক সম্প্রদায় দেশের জনগণের পক্ষে নয় বলে উল্লেখ করলে ডিজি জবাব দেন, ‘এটা তো অন্য বিষয়। কিন্তু আপনি তো বিহেবই শেখেননি।’

এ সময় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া চিকিৎসক ধনদেব অন্য প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘ঢাকায় তিন দিনের ট্রেনিং করলাম, আপনার দুদিন আসার কথা ছিল— একদিনও আসেননি।’ এরপর উভয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

এ সময় চিকিৎসক ধনদেব উত্তেজিত হয়ে বলতে থাকেন, ‘আমাকে সাসপেন্ড করেন, নো প্রবলেম।’ এর মধ্যে হাসপাতালের পরিচালক গোলাম ফেরদৌস ও উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম উদ্ভুত পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন।

ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের ইনচার্জ হিসেবে ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট থেকে দায়িত্ব পালন করছেন ধনদেব চন্দ্র বর্মণ। চলতি বছরের জুলাই মাসে আবাসিক সার্জন থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে তর্কে জড়ানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধনদেব চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘ডিজির কাছ থেকে গুরুজনের মতো ব্যবহার আশা করেছিলাম। কিন্তু তিনি এসে কী কী সমস্যা, সেগুলো জানতে না চেয়ে ভেতরে কেন টেবিল, এ নিয়ে কথা বলেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধুরা সব অধ্যাপক হয়ে গেছে। আমার চাকরিজীবন শেষ, কিন্তু আমার হয়নি বিভিন্ন কারণে। এ জন্য আমার চাকরি থেকে সাসপেনশন হলে আমি খুশি হই।’

এদিকে আলোচিত এ চিকিৎসক কেন এতদিন পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত সেই প্রশ্ন আসছে। একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি পদোন্নতির নিয়ম-কানুন রক্ষা করেননি। 

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

সিইসি : সহিংসতাহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন করাই চ্যালেঞ্জ সিইসি : সহিংসতাহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন করাই চ্যালেঞ্জ সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে কারা? যা বললেন এসবি প্রধান সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে কারা? যা বললেন এসবি প্রধান হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬৩১ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬৩১ পল্লবীতে শিশু হত্যা : এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ পল্লবীতে শিশু হত্যা : এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ খুলনায় টানা তৃতীয় দিন মহাসড়ক অবরোধ খুলনায় টানা তৃতীয় দিন মহাসড়ক অবরোধ