weather ২৮.৯৯ o সে. আদ্রতা ৮৪% , রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৪ বছর আজ

প্রকাশ : ০৭-০১-২০২৫ ২২:৩৮

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আলোচিত কিশোরী ফেলানী হত্যার ১৪ বছর আজ। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয় এই কিশোরী। সাড়ে চার ঘণ্টা কাঁটাতারে ঝুলে থাকে তার লাশ।

নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের কলোনীটারী গ্রামের দরিদ্র নূরুল ইসলাম পেটের তাগিদে আর ১০ জনের মতো পাড়ি জমান ভারতে। পরিবার নিয়ে থাকতেন দেশটির বঙ্গাইগাঁও এলাকায়। নূরুল ইসলামের বড় মেয়ে ফেলানীর বিয়ে ঠিক হয় বাংলাদেশে। বিয়ের উদ্দেশে কাঁটাতার টপকে নিজ দেশে আসতে হবে তাদের।

৭ জানুয়ারি ভোর ছয়টা। ফুলবাড়ির অনন্তপুর সীমান্তে মই বেয়ে কাঁটাতার টপকায় ফেলানীর বাবা। পরে কাঁটাতার টপকানোর চেষ্টা করে ফেলানী। এ সময় বিএসএফের গুলিতে বিদ্ধ হয় এই কিশোরী।
গুলিবিদ্ধ হয়ে আধাঘণ্টা ধরে ছটফট করে কাঁটাতারেই ঝুলন্ত অবস্থায় নির্মমভাবে মৃত্যু হয় ফেলানীর।

 সকাল পৌনে সাতটার থেকে নিথর দেহ কাঁটাতারেই ঝুলে থাকে সাড়ে চার ঘণ্টা। এ ঘটনায় বিশ্বব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কোচবিহারে জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে ফেলানী হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়।

সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে থাকা ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি বিশ্বজুড়ে হৈচৈ ফেলে দেয়। ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বর্বরতা সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। ফেলানী হয়ে উঠে প্রতিবাদের প্রতীক। বিশ্ব মিডিয়ায় ফেলানী খাতুনের মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে থাকার ছবি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় ভারত হত্যাকারী বিএসএফ সদস্যদের বিচারের প্রতিশ্রুতি দেয়। বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও প্রহসনের বিচার করা হয়।

ফেলানী হত্যার পর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো মানবাধিকার সংগঠন বিএসএফকে একটি ‘খুনি বাহিনী’ হিসেবে অভিহিত করে। বিশ্বজুড়ে প্রচার হয় প্রতিষ্ঠিত বিএসএফ একটি বর্বর বাহিনী। এই বাহিনী এর আগেও বহু নারী ও শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে একের পর এক সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ঘটলেও টুঁ শব্দটি করেনি শেখ হাসিনা সরকার। 

গত ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সীমান্ত হত্যা নিয়ে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতের কড়া সমালোচনা করলেও হত্যা বন্ধ হয়নি। ৫ আগস্টের পরও বিএসএফের হাতে সীমান্তে বেশ কয়েকটি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। অন্যদিকে ফেলানীর কবরের পাশে দাঁড়িয়ে পরিবারের অভাব এবং নিজেদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে তার মা জাহানারা বেগম বলেন, ‘প্রত্যেক বছর মৃত্যুবার্ষিকী আসলে টিএনওর কাছে যাই, ডিসির কাছে যাই।

 কিন্তু দুই বছর থেকে কোনো সাহায্য পাই না। আমার বাচ্চাগুলাকে কষ্ট করে পড়াশোনা করাইছি। কিন্তু চাকরি নাই। সরকার যেন আমার ছেলের জন্য একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়। ছোট চাকরি হলেও যেন দেয়। তাহলে অন্তত জীবনের বাকি দিনগুলা আমরা ভালোভাবে বাঁচতে পারবো।’

দীর্ঘ সময়েও মেয়ে হত্যার বিচার না পেয়ে প্রতিনিয়ত হতাশা ও আক্ষেপ করে চলছেন বাবা-মা। তাদের প্রশ্ন, একটি প্রমাণিত হ্ত্যাকাণ্ডের বিচার পেতে আর কতদিন লাগবে? তারা উভয় দেশের সরকারের কাছে দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।

 পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

সিইসি : সহিংসতাহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন করাই চ্যালেঞ্জ সিইসি : সহিংসতাহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন করাই চ্যালেঞ্জ সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে কারা? যা বললেন এসবি প্রধান সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ করছে কারা? যা বললেন এসবি প্রধান হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬৩১ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৬৩১ পল্লবীতে শিশু হত্যা : এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ পল্লবীতে শিশু হত্যা : এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ খুলনায় টানা তৃতীয় দিন মহাসড়ক অবরোধ খুলনায় টানা তৃতীয় দিন মহাসড়ক অবরোধ