গত বছর সড়কে ৯১১১ প্রাণহানি
প্রকাশ : ০৪-০১-২০২৬ ১৫:১২
ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদায়ী বছরে ছয় হাজার ৭২৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। এর মধ্যে কেবল বাইক দুর্ঘটনাই ঘটেছে দুই হাজার ৪৯৩টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৯৮৩ জনের ও আহত হয়েছেন দুই হাজার ২১৯ জন।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলেছে, ২০২৫ সালে সড়কে দুর্ঘটনা আগের বছরের তুলনায় ছয় দশমিক ৯৪ শতাংশ বেড়েছে। আর সড়কে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায়, নিহত পাঁচ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং আহত ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ বেড়েছে।
বিদায়ী বছরে ছয় হাজার ৭২৯ সড়ক দুর্ঘটনায় নয় হাজার ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আর আহত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮১২ জন। এর মধ্যে কেবল বাইক দুর্ঘটনাই ঘটেছে দুই হাজার ৪৯৩টি, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ০৪ শতাংশ। বাইক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৯৮৩ জনের ও আহত হয়েছেন দুই হাজার ২১৯ জন।
সংগঠনটি বলছে, সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট সাত হাজার ৩৬৯টি দুর্ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। এতে নয় হাজার ৭৫৪ জনের মৃত্যু এবং ১৫ হাজার ৯৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রেলপথে ৫১৩টি দুর্ঘটনায় ৪৮৫ জন নিহত, ১৪৫ জন আহত হয়েছেন। আর নৌ-পথে ১২৭ টি দুর্ঘটনায় ১৫৮ জন নিহত, ১৩৯ জন আহত এবং ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবছরের মতো এবারো সএই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে জানিয়ে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এসব দুর্ঘটনায় বছরে আর্থিক ক্ষতি ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনি ইশতেহারে অঙ্গীকার দাবি করেন তিনি।
সংগঠনের পর্যালোচনা অনুযায়ী মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, এসব দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক হাজার ২৮৮টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। সেগুলোর মধ্যে ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ বাস, ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ ট্রাক-পিককাপ-কভার্ডভ্যান ও লরি, পাঁচ দশমিক ৮৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ছয় দশমিক ৬৩ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, আট দশমিক ৩৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা।
মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুর্ঘটনা ভয়াবহ বেড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব সংবাদ গণমাধ্যমে কম আসছে বলে প্রকৃত চিত্র তুলে আনা যাচ্ছে না।
তার ভাষ্য, মোট দুর্ঘটনার ৪৮ দশমিক ৮৪ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা, ২৬ শতাংশ যানবাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, পাঁচ দশমিক ৩৭ শতাংশ অন্যান্য কারণ, শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি আরো বলছে, দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ২২ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৭ দশমিক ১৩ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ ফিডার রোডে হয়েছে।
এ ছাড়া দেশে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার চার দশমিক ২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে, শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিদায়ী বছরে ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ও এসব যানবাহন অবাধে চলাচলের কারণে জাতীয় মহাসড়কে দুই দশমিক ৫৫ শতাংশ, আঞ্চলিক মহাসড়কে পাঁচ দশমিক ৪৭ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com