চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা সাড়ে ৭ ডিগ্রি, বিপর্যস্ত জনজীবন
প্রকাশ : ০৬-০১-২০২৬ ১১:১২
ছবি : সংগৃহীত
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
তাপমাত্রার পারদ আজ আরও কমেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা চুয়াডাঙ্গায়। মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে কাহিল মানুষ ও প্রাণীকুল। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় কনকনে ঠান্ডায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। হাড় কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৬টা চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সাত দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৩ শতাংশ। এটি এই মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
এর আগে, সোমবার (৫ জানুয়ারি) এ জেলার তাপমাত্রা ছিল নয় দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত এই জনপদের জনজীবন।
সরেজমিন দেখা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে টানা শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু জনজীবন। প্রায় দিনই চুয়াডাঙ্গার আকাশে সূর্যের দেখা মেলেনি। চারদিকে কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। গাড়িগুলো সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। এ ছাড়া অনেকেই খড়-কাঠের আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে অনেকে সকালে শীতে কাঁপতে কাঁপতে কাজে বের হচ্ছে।
ভ্যানচালক রশিদ মোল্লা বলেন, শীতের কাপড় অনেকগুলো পরিধান করেও রক্ষা পাচ্ছি না। শরীরের কোনো অংশ ঢাকা না থাকলেই হিম শীত অনুভূত হচ্ছে। ভাড়ার জন্য সকাল থেকে বের হলেও কোনো ভাড়া পাচ্ছি না, শীতে বাইরে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
শিক্ষার্থী আব্দুল হালিম বলেন, সকালে পানিতে হাত দেওয়া অসম্ভব হয়ে গেছে। বরফের মতো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। পড়াশোনা করতে বাইরে যাওয়া অনেক কষ্ট হয়ে গেছে।
শীতের প্রভাবে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ মো. জামিনুর রহমান বলেন, আরো এক সপ্তাহ অর্থাৎ আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত এ জেলার তাপমাত্রা কমতে থাকার শঙ্কা রয়েছে। শীতের তীব্রতা আরো বাড়বে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন ধরেই জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছিল। তাপমাত্রা আট থেকে ১০ ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছিল। মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় তাপমাত্রা সাত দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৩ শতাংশ।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com