তথ্য উপদেষ্টা : অপতথ্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাবে সরকার
প্রকাশ : ২৮-০৪-২০২৬ ১৯:১০
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত।
সিনিয়র রিপোর্টার
গণমাধ্যমের ভুল এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে সরকার শক্ত অবস্থানে যাবে, অপতথ্য দিয়ে বানানো কোনো ফটোকার্ড মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘একটা ছোট ঘটনা আছে, এটা গত সপ্তাহেও ব্রিফিং করেছিলাম। আমি আবারও একটু বলি, প্লিজ আপনাদের কাছে অনুরোধ। আমরা এগুলো নিয়ে আসলে আস্তে আস্তে আইনি ব্যবস্থার দিকেও যাবো। গত যে ব্রিফিং ছিল সেখানে রিপিট করে পড়ে বলেছিলাম- কর্মসূচিভুক্ত খালের সংখ্যা এক হাজার ২৬০ কিলোমিটার, খননকৃত খালের প্রাপ্ত দৈর্ঘ্য ৫৬১ কিলোমিটার, শতকরা অগ্রগতির হার ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটা যে আমাদের কর্মসূচির খালের প্রায় অর্ধেক; একটা ফটোকার্ড তৈরি হলো, আমি নাকি বলেছি সারাদেশের অর্ধেক খাল খনন করা হয়ে গেছে। এটা নামগোত্রহীন কেউ না, পরিচিত জাতীয় দৈনিকের ফটোকার্ড।ফ্যাক্ট-চেকাররা এটাকে ডিবঙ্ক (সত্য তথ্য তুলে ধরা) করেছেন, এটা যে ডিসইনফরমেশন সেটা করেছেন। কিন্তু এগুলো করছি আমরা। একটা কথা খুব ইম্পর্ট্যান্ট, উই মাস্ট বি সিরিয়াস অ্যাবাউট দ্যাট, মিসইনফরমেশন এবং ডিসইনফরমেশন এ সরকার টলারেট করবে না। কারও দিক থেকেই করবে না। এটা একজন ব্যক্তি করার আর একটা প্রতিষ্ঠান করার মধ্যে সিরিয়াস পার্থক্য আছে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘একটু ব্যক্তিগত কথা বলেই ফেলি, মানে আমি খুব স্টুপিড মানুষ না। আমার প্রচুর পরিচিত মানুষজনের কাছ থেকেই কার্ড পাঠিয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে। ইভেন এমন সব কথাবার্তা আসছে সেগুলো সরিয়ে রাখি; যেগুলো ফেক ব্যক্তি করছেন, ফটোকার্ড বানিয়ে বলছেন, আমি নাকি বলছি জনগণের কল্যাণের জন্য জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে..., আমি এগুলো এভাবে বলিনি। কিন্তু এই যে কথাটাকে ডিস্টর্ট (বিকৃত করা) করা হলো, আমাকে অনেকে পাঠিয়ে পাঠিয়ে জিজ্ঞাস করছেন যে আমি কি বলেছি কি না।’
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের অনুরোধ করছি, সাংবাদিকতা সাংবাদিকতাই যেন হয়, প্লিজ।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আগেও একদিন বলেছি সরকারের সমালোচনা করার অনেক কিছু পাওয়া যাবে। এ দেশ এত বড়, এত জটিলতা। একটু পেছনের কথা বলতে হয়, শেখ হাসিনা এ দেশটাকে এত বাজেভাবে রেখে গেছেন যে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আপনি দেখবেন সমালোচনার জায়গা তৈরি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা আপনি পাচ্ছেন, পাবেন। জেনুইন জিনিসগুলো নিয়ে সমালোচনা করেন, আমি সেটাকে ওয়েলকাম করছি।’
তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এটা নিয়ে শক্ত অবস্থানে যাবো। আমরা অপতথ্য (ডিসইনফরমেশন) দিয়ে করা ফটোকার্ড অ্যালাউ করবো না। আমার মনে হয় মিডিয়ার মানুষ হিসেবে এটা আপনাদের চাওয়া উচিত। এর আগে আমি যথেষ্ট পরিমাণ কমিউনিকেট করার চেষ্টা করছি। এর বেশিকিছু না।’ ‘আমরা আমাদের মেয়াদের শেষদিন পর্যন্ত মিডিয়াকে ভয় পেতে চাই।’ বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমি চাই মিডিয়ায় আরও বেশি সরকারের সমালোচনা, যৌক্তিক সমালোচনায় ভাইব্রেন্ট হয়ে উঠুক। আমি জানি না কবে কোনো সরকার থেকে কেউ এ ধরনের কথা বলেছে। কিন্তু প্লিজ মিসইনফরমেশন, ডিসইনফরমেশন না।’
তিনি বলেন, ‘আর আগেও বলেছি, আমরা আসলে এরকম একটা প্যানেল, লিগ্যাল প্যানেল তৈরি করছি। সব ক্ষেত্রেই যাতে তারা এই ব্যাপারগুলো নিয়ে কাজ করতে পারে। এটা খুব দ্রুতই আপনারা হয়তো জেনে যাবেন।’
পিপলসনিউজ/এসসি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com