weather ২৫.৮১ o সে. আদ্রতা ৯৪% , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভবেশ চন্দ্রের মৃত্যু: হত্যার অভিযোগ এনে ছেলের মামলা

প্রকাশ : ২২-০৪-২০২৫ ২১:২৭

ভবেশের ছবি নিয়ে তার স্বজনরা, ছবি: সংগৃহীত

পিপলসনিউজ ডেস্ক
দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে। মৃত্যুর তিনদিন পর পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ এসে মামলাটি করেছেন ভবেশের ছেলে স্বপন চন্দ্র রায়।

সোমবার (২১ এপ্রিল) চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো তিন-চার জনকে আসামী করে বিরল থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন স্বপন। তিনি জানান, তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বিরল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সবুর বলেন, মামলা হিসেবে এজাহারটি গ্রহণ করা হয়েছে, এখন তদন্ত চলছে। মামলায় যে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন, আতিকুল ইসলাম (৪০), রতন ইসলাম (৩০), মুন্না ইসলাম (২৭) ও মো. রুবেল (২৮)।

জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে আতিকুল ইসলাম বিরল থানার শহরগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব। রতন ইসলাম একই ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, মুন্না ইসলাম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সদস্য এবং মো. রুবেল একই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। ঘটনার পর তাদের এলাকায় দেখা গেলেও সোমবার দুপুরের পর থেকে তারা পলাতক।

স্বপন চন্দ্র রায় বলেন, গত ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকায় ছিলেন। দুপুরে আমি মামলা করার জন্য থানায় যাওয়ার পর থেকে তারা আর এলাকায় নেই। আমি মনে করি, বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। লাশ বাসায় আনার পর আমরা বাবার ঘাড়ে কালো দাগ দেখেছি। ফলে, আমরা মনে করছি, তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। প্রথম দিকে মামলা করার সাহস পাচ্ছিলাম না, এলাকার মানুষের সাহসে মামলা করেছি।

এজাহারে যা বলা হয়েছে: মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আতিকুল ইসলাম ও রতন ইসলাম এলাকায় সুদের বিনিময়ে মানুষকে টাকা দেন। এর মধ্যে আতিকুল ইসলামের কাছ থেকে ভবেশ চন্দ্র রায় এক বছর আগে ২৫ হাজার টাকা ঋণ নেন। প্রতি মাসে তার তিন হাজার ২৫০ টাকা করে দেওয়ার কথা। সেভাবে তিনি পরিশোধও করে আসছিলেন। কিছু কিস্তি বাকি পড়েছে। এই দুইজনের সঙ্গে ভবেশ রায়ের সম্পর্ক ভালো ছিল। গত বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে দুটি মোটরসাইকেলে অভিযুক্ত চারজন ভবেশ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে যায়। এর মধ্যে রতন ইসলাম বাড়িতে ঢুকে ভবেশ রায়কে ডেকে আনেন। এক পর্যায়ে ভবেশ তাদের মোটরসাইকেলে করে বের হয়ে যান।

ওইদিন সন্ধ্যা পৌনে ৮টার দিকে রতন ইসলাম ভবেশ রায়ের ফোন থেকে কল দিয়ে স্বপনকে জানান, তার বাবা অসুস্থ, স্বপন যেন গিয়ে ভবেশকে নিয়ে আসেন। স্বপন তার বাবাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

পরে আবারো ফোন দেন রতন, তখনো একই কথা বলেন স্বপন। এরপর অভিযুক্তরা বাজারের পাশে একটি ভ্যানে ভবেশকে রেখে চলে যায়। এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে গ্রাম্য চিকিৎসক কৃষ্ণ কান্তের দোকানে নিয়ে যান। কৃষ্ণ কান্ত রক্তচাপ মেপে জানান, রক্তচাপ ওপরে ৭০ এবং তিনি লক্ষ্য করেন ভবেশের শরীরের নিচের দিকটা নীল হয়ে গেছে।

পরে কৃষ্ণ কান্তের পরামর্শে ভবেশকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারপর হাসপাতালে পোস্টমর্টেম করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন স্বপন রায়। সেই রাতেই বাসুদেবপুর এলাকার তুলাই নদীর পাশের শ্মশানঘাটে ভবেশ চন্দ্র রায়ের সৎকারকার্য সম্পন্ন করা হয়।

স্বপন জানান, বাবার মৃত্যুর পর ভয়ে তিনি অভিযোগ করেননি। সোমবার করা এজাহারে তিনি লিখেছেন, উপরোক্ত বিবাদীরা আমার পিতাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে...।

বিরল উপজেলা পূজা উৎযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি ছিলেন ভবেশ চন্দ্র রায়। পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুবল রায় বলেন, ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃতদেহ বাড়িতে আনার পর পরিবারের সদস্যরা তার গলায় ও ঘাড়ে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। ফলে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলা যাবে না। এখন যেহেতু মামলা হয়েছে, ফলে সঠিকভাবে যেন তদন্ত হয় আমরা সেটিই চাই।

ভবেশ চন্দ্র রায়ের জামাতা রঞ্জিত চন্দ্র রায় বলেন, আমার শ্বশুরকে তো বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গেছে। সুদে নেওয়া টাকার বিষয়ে ফুলবাড়ী বাজারে কথা কাটাকাটি হয়। তারপর নাড়াবাড়ি বাজারে নিয়ে মারধর করা হয়। এতে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে আমার শ্যালককে ফোন দিয়ে অসুস্থতার কথা বলে তারা। এরপর ফুলবাড়ী বাজারে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।

পুলিশের দাবি ‘স্বাভাবিক মৃত্যু': দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তাদের কোনো তদন্তে ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুকে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তবে তিনি বলেন, এখন যেহেতু ছেলে মামলা করেছে, ফলে বিষয়টি নতুন করে তদন্ত হবে।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, ভবেশ রায় যাদের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন তারা তার পূর্ব পরিচিত এবং তিনি স্বেচ্ছায় সেখানে গিয়েছিলেন। কেউ ভবেশকে নির্যাতন করেছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি বলেও দাবি দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইনের।

মৃতের ছেলের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা তো প্রথমে ময়না তদন্তই করতে চায়নি। আমি তাদের বুঝিয়ে ময়না তদন্ত করিয়েছি। এখন তাদের স্বজনের অভাব নেই। অনেকেই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে নানা পরামর্শ দিচ্ছেন। ফলে মামলা হয়েছে, তদন্ত হবে এবং যা পাওয়া যাবে সেটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হবে।

মৃত্যু ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ বিতর্ক: ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ভারত ও বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এটিকে ‘পদ্ধতিগত হত্যাকাণ্ড' হিসেবে আখ্যায়িত করলেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মুখপাত্র তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভারতের দাবি এ ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতনের যোগসূত্র আছে। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শুরু থেকেই ধর্মীয় কারণে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বা নির্যাতনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ: বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এক বিবৃতিতে দিনাজপুরের বিরলে ভবেশ চন্দ্র রায়ের হত্যা, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শিক্ষক কান্তিলাল আচার্যকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা, রাঙ্গামাটির কাউখালীতে মারমা তরুণীকে ধর্ষণের ঘটনাসহ সারা দেশের অব্যাহত সাম্প্রদায়িক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।

সূত্র : ডয়চে ভেলে। 

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

কোনো সরকারপ্রধান ‘ভিক্ষার ঝুলি’নিয়ে যান না : চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সরকারপ্রধান ‘ভিক্ষার ঝুলি’নিয়ে যান না : চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন,নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন,নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায়, প্রকল্প চূড়ান্ত : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায়, প্রকল্প চূড়ান্ত : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আসামির দায়ের কোপে লালমনিরহাটে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত আসামির দায়ের কোপে লালমনিরহাটে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত