যশোরে বরফকল মালিককে গুলি করে হত্যা, এলাকায় আতঙ্ক
প্রকাশ : ০৬-০১-২০২৬ ১০:৫৯
ছবি : সংগৃহীত
যশোর প্রতিনিধি
যশোরের মণিরামপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে মাথায় গুলি করে রানা প্রতাপ (৪৫) নামের একজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার কপালিয়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রানা প্রতাপ পার্শ্ববর্তী কেশবপুর উপজেলার আড়ুয়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক তুষার কান্তি বৈরাগীর ছেলে। কপালিয়া বাজারে তার বরফকল রয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকালে কপালিয়া বাজারে অবস্থান করছিলেন রানা প্রতাপ। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধারের আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পরপরই কপালিয়া বাজার ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় মণিরামপুর থানা পুলিশ।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার ফারুক মিন্টু বলেন, দুই বছর ধরে কপালিয়া বাজারে বরফকল পরিচালনা করে আসছিলেন রানা। সোমবার সন্ধ্যায় কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাকে বরফকল থেকে ডেকে বাজারে অবস্থিত ক্লিনিকের পাশের গলির মুখে নিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে সেখানে গুলি করে হত্যা করে।
স্থানীয় রিপন হোসেন নামে একজন জানান, দুর্বৃত্তরা একটি মোটরসাইকেলে এসে রানাকে বরফকল থেকে ডেকে পাশে একটি গলিতে নিয়ে যায়। এরপর কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা রানার মাথায় কয়েক রাউন্ড গুলি করে মণিরামপুরের দিকে আসার রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে রানার মরদেহের পাশে সাতটি গুলির খোসা পড়ে ছিল।
স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, নিহত রানা প্রতাপের নামে যশোরের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা ছিল। তিনি চরমপন্থি দলের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া, নড়াইল থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন তিনি।
পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, নিহত রানা প্রতাপ আমাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। একসময়ে তার নামে মামলা থাকলেও সবগুলো থেকেই তিনি খালাস পেয়েছেন। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড সে বিষয়ে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।
কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আড়ুয়া গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিহত রানা প্রতাপ চরমপন্থি গ্রুপের সদস্য ছিলেন। কপালিয়া তার একটি বরফকল আছে। ওই এলাকায় তিনি খুন হয়েছেন। নানা দ্বন্দ্বে তিনি জড়িত ছিলেন। কপালিয়া এলাকায় তার অবাধ বিচরণ ছিল, তিনি নিজ এলাকায় থাকতেন না।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। কে বা কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুরে দুর্বৃত্তরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com