রাজশাহীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ
প্রকাশ : ০৬-০১-২০২৬ ১১:২৭
ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
এবারের শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি)। আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এর আগে গত ৩১ ডিসেম্বর মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গোপালগঞ্জে, সাত দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ সেই তাপমাত্রা কমে হয়েছে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সেই তাপমাত্রা আজ রেকর্ড হয়েছে দেশের উত্তরের জেলা রাজশাহীতে। আজ এই রাজশাহীসহ ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমে গেলেও রাজধানীর তাপমাত্রা কিন্তু আজ বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, আজ রাজশাহীতে যে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, তা এ শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন। আগামী তিন থেকে চার দিন তাপমাত্রা ওঠানামা করতে পারে। তবে চলতি মাসের ১০ বা ১১ তারিখের দিক থেকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।
আজ যে ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছে, সেগুলো হলো রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাটি, যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা।
যখন কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আট দশমিক এক থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে, তখন তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলে। তাপমাত্রা ছয় দশমিক এক থেকে আট ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে বলা হয় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রা চার দশমিক এক থেকে ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলে গণ্য করা হয়। আর তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলেছিল, এ মাসে অন্তত পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হতে পারে।
রাজশাহীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় কাঁপছে রাজশাহী। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় তাপমাত্র ছিল সাত ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আকাশে কুয়াশার আধিক্য তেমন না থাকলেও হাড়কাঁপানো হিমেল হাওয়ায় বেড়েছে শীতের দাপট।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ছিল সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ ডিগ্রি ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি। এই সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার খুব বেশি ব্যবধান নেই। সাড়ে আট ডিগ্রির ব্যবধান। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছাড়াও শুধু সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কমায় শীতের প্রকোপ বেড়েছে।
শীতের কারণে কিছুটা হলেও স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কি শহর, কি গ্রাম, একই চিত্র জেলার সবখানে। আবহাওয়া অফিসের হিসেবে সকালে বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। ফলে কনকনে ঠান্ডা বাতাসে শরীরে ছড়িয়ে পড়ছে তীব্র শীতের শিহরণ।
দিনমজুর আর খেটে খাওয়া মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে। রিকশাচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সকাল-বিকাল ঠান্ডায় হাত জমে যায়। কিন্তু না বের হলে পেট চলবে না ভাই। এখনো মাঘ মাস আসেনি। তারপরেও এতো শীত পড়ছে। সড়কে টেকা যাচ্ছে না শীতের জ্বালায়।
রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন বলেন, আজ সকাল ৬টায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সাত ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ১০০ শতাংশ থাকায় অনুভূত তাপমাত্রা আরো কম।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com