শীতের তীব্রতা থাকবে আরো কদিন
প্রকাশ : ৩১-১২-২০২৫ ০০:২৪
ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
মধ্য পৌষে এসে অনেকটা জেঁকে বসেছে শীত। কুয়াশাচ্ছন্ন দেশের বেশির ভাগ অঞ্চলে মঙ্গলবারও (৩০ ডিসেম্বর) সূর্যের দেখা মিলেনি। তীব্র শীত এদিন অব্যাহত ছিল; বুধবারও তা অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার থেকে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ার আভাস দিয়ে অধিদপ্তর বলছে, ওইদিন থেকে শীতের তীব্রতা খানিকটা কমতে পারে, তবে পুরোপুরি চলে যাবে না। আগামী সপ্তাহে ফের তাপমাত্রা কমবে।
এদিকে রাজধানী ঢাকায় সূর্যের আলো না থাকা এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান কমে যাওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় টানা তৃতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যেখানে শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
এ ছাড়া মঙ্গলবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হালকা বা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সহকারী আবওহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, কুয়াশাচ্ছন্ন আকাশে কয়েকদিন সূর্যের দেখা না মেলায় দেশের বেশিরভাগ এলাকায় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য অনেকটাই কম। তাই তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। আরও দুদিন শীতের এমন তীব্রতা থাকবে। বৃহস্পতিবার থেকে দেশের কিছু অংশে দিনের মধ্যভাগে কুয়াশা কিছুটা কেটে সূর্যের দেখা মিলবে। তাই ওইদিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা এক-দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। তাতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যাবধান বেড়ে ওইসব এলাকায় শীতের তীব্রতা কিছুটা কম অনুভূত হবে। তিনি বলেন, আগামী কয়েকদিন কোথাও শৈতপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার শঙ্কা নেই।
আবওহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জের নিকলিতে দেশের সর্বনিম্ন ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে বান্দরবনে ২৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আগামী পাঁচ দিনের আবওহাওয়ার পূর্বভাসে অধিদপ্তর বলছে, মঙ্গলবার সারাদেশে হালকা বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে পারে। বুধ থেকে শনিবার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা এবং সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।
এই পাঁচদিন মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে; কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে।
মঙ্গল ও বুধবার কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বুধবার সারাদেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে এ দুই দিন শীতের অনুভূতি বেশি থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১-২ ডিগ্রি বাড়তে পারে। শুক্র ও শনিবার সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এরপরের ৫ দিনের শেষ দিকে রাত ও দিনের তাপমাত্রা ফের কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবওহাওয়া অধিদপ্তর।
দুই কারণে রাজধানীতে তীব্র শীত: ঢাকায় তীব্র শীত জেঁকে বসেছে। তীব্র ঠান্ডার মধ্যে জবুথবু অবস্থায় সাধারণ মানুষ। তবে হঠাৎ করে ঢাকায় এতো বেশি শীত পড়ার কারণ কী বা কবে এই শীত থেকে রেহাই পাবে রাজধানীবাসী- এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানিয়েছে।
মঙ্গলবার অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান শীত পড়ার কারণ হিসেবে দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, সূর্যের আলো না থাকায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার সঙ্গে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান অনেক কমে গেছে। সেই সঙ্গে সূর্যের আলো না থাকার কারণে শীতের তীব্রতা বেশি মনে হচ্ছে।
সকালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান মাত্র দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস। মূলত সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান এতো কম হওয়ার কারণে শীত বেশি অনুভূত হচ্ছে। আগামী শুক্রবার এই শীতের তীব্রতা কমতে পারে বলেও জানান তিনি।
টানা তৃতীয় দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নিকলীতে: কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় টানা তৃতীয় দিনের মতো দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে হাওর অধ্যুষিত এই উপজেলায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বেলা সাড়ে ১১টায় আবহাওয়া অধিদফতরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এদিন সারাদেশের মধ্যে নিকলীতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল। এর আগে রোববার এখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল নয় দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সোমবার ছিল ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
নিকলী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মাসুম জানান, বুধবার শীতের তীব্রতা সামান্য বাড়তে পারে। জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চলতি মাসজুড়েই শীতের প্রভাব থাকবে এবং শীতের অনুভূতি কমার সম্ভাবনা নেই। তিনি আরও জানান, বুধবার তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।
এদিকে তীব্র শীতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই প্রচণ্ড শীতে হাওরে বীজতলা তৈরির কাজ করছেন শত শত কৃষক।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘বর্তমান তাপমাত্রায় ফসলের খুব একটা ক্ষতি হবে না। তবে তাপমাত্রা আরও নেমে গেলে হাওরের বীজতলা এবং শাক-সবজির ক্ষতি হবে।’
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com