সাভারে কমিউনিটি সেন্টারে পোড়া মরদেহ, ভবঘুরে আটক
প্রকাশ : ১৯-০১-২০২৬ ১১:২০
ছবি : সংগৃহীত
সাভার প্রতিনিধি
সাভারের একটি পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে দুইটি পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক ভবঘুরেকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) বিকালে সাভারের থানা রোড এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক যুবকের নাম সম্রাট হোসেন ওরফে কিং খান (৩৪)।
তিনি দীর্ঘদিন ধরে থানা রোড এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতেন এবং রাতে ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারে থাকতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন ভবঘুরে এবং মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম জানান, কমিউনিটি সেন্টার এলাকার একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে শনাক্ত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট ছয়টি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই চলছে এবং তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
রবিবার দুপুরে পরিত্যক্ত ভবনটির একটি কক্ষে সদ্য পোড়া দুটির লাশ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। বিকালে সিআইডির ফরেনসিক টিমের সদস্যরা এসে আলামত সংগ্রহের পর পুলিশ লাশ দুটো উদ্ধার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাভার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সামনে এই কমিউনিটি সেন্টারটি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত।রবিবার দুপুরের দিকে এক শিক্ষার্থী ভবনের ভেতরে প্রবেশ করলে পোড়া মরদেহ দেখতে পেয়ে জরুরিসেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন দেন।
খবর পেয়ে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আলামত সংগ্রহ করেন সিআইডির ফরেনসিক টিম।
সিআইডি ক্রাইম সিনের এসআই কামরুল ইসলাম বলেন, একটি লাশ সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আরেকটি লাশ বোঝা যাচ্ছে যে ১৫ বছরের কোনো মেয়ের। সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়া লাশটির বয়সও ২২ থেকে ২৫ বছর হবে। সেটিও কোনো নারীর লাশ হতে পারে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাভার মডেল থানার এসআই মো. সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে যাদের হত্যা করা হয়েছে তারাও মানসিক ভারসাম্যহীন। ভবনটির নিচেই তারা থাকতো।
এ নিয়ে গত ছয় মাসে দুই তলা এই ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে পাঁচটি লাশ। তবে কোনো লাশেরই পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর দুপুরে পরিত্যক্ত এই ভবনের দ্বিতীয় তলার টয়লেটের ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
১১ অক্টোবর রাতে উদ্ধার করা হয় অজ্ঞাত (৩০) এক নারীর অর্ধনগ্ন গলিত মরদেহ। এ ছাড়া ২৯ আগস্ট রাতে একই স্থান থেকে হাত-পা বাঁধা অজ্ঞাত এক যুবকের অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, দুর্বৃত্তরা এমনভাবে লাশগুলোকে পুড়িয়ে হত্যা করে যে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। এর আগে একই ভবন থেকে আরও তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একজনেরও পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com