weather ২৯.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৯% , শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৬ সাল হতে পারে প্রবালপ্রাচীরের শেষ বছর, বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

প্রকাশ :

২০২৬ সাল হতে পারে প্রবালপ্রাচীরের শেষ বছর, বিজ্ঞানীদের সতর্কতা

ছবি : সংগৃহীত

পিপলসনিউজ ডেস্ক
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রের পানি উষ্ণ হয়ে উঠছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে প্রবালপ্রাচীরের ওপর। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৬ সালেই বিশ্বজুড়ে প্রবালপ্রাচীর ব্যাপকভাবে বিলুপ্তির মুখে পড়তে পারে। ইতোমধ্যেই গত এক দশকে বিশ্বের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ কোরাল রিফ ধ্বংস হয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পৃথিবী এখন প্রবালপ্রাচীর সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই সীমা অতিক্রম করলে প্রবালপ্রাচীর আর আগের অবস্থায় ফিরে আসবে না।

প্লাইমাউথ মেরিন ল্যাবরেটরির সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান বিশেষজ্ঞ সামান্থা গারার্ড জানিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যেই প্রবালপ্রাচীরের ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তার মতে, প্রবালের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির চক্র এল নিনোর ওপর।

সম্প্রতি একটি শক্তিশালী এল নিনো পর্যায়ের কারণে বিশ্বের প্রায় ৮৪ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে ব্লিচিংয়ের শিকার হয়েছে। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালে আরেকটি এল নিনো চক্র শুরু হলে প্রবালপ্রাচীর সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারবে না।

প্রবাল যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ পানির মধ্যে থাকে, তখন তার ভেতরে বসবাসকারী রঙিন শৈবালগুলো বের হয়ে যায়। এতে প্রবাল সাদা হয়ে পড়ে— এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ব্লিচিং। দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা বেশি থাকলে প্রবাল শেষ পর্যন্ত মারা যায়।

যদিও সমুদ্রপৃষ্ঠের মাত্র এক শতাংশ এলাকায় প্রবালপ্রাচীর বিস্তৃত, তবু সাগরের প্রায় ২৫ শতাংশ সামুদ্রিক প্রাণী প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর ওপর নির্ভরশীল।

আগে উষ্ণ এল নিনো বছরের পর সাধারণত শীতল পানির লা নিনা পর্যায় আসত, যা প্রবালপ্রাচীরকে পুনরুদ্ধারের সময় দিত। কিন্তু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এখন এল নিনো আরো শক্তিশালী ও ঘন ঘন হচ্ছে। ফলে পানি শীতল হওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের এক্সিটার ইউনিভার্সিটির গ্লোবাল সিস্টেমস ইনস্টিটিউটের পরিচালক টিম লেন্টনের মতে, ‘আমরা যেভাবে প্রবালপ্রাচীরকে চিনি, সেই রূপে এগুলোর টিকে থাকা আর সম্ভব নয়।’

গত বছর প্রকাশিত ১৬০ জন বিজ্ঞানীর তৈরি গ্লোবাল টিপিং পয়েন্টস রিপোর্টেও বলা হয়েছে, প্রবালপ্রাচীর ইতোমধ্যেই তাদের সহনশীলতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে।

গবেষণা অনুযায়ী, প্রাক্‌-শিল্প যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা এক দশমিক দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেই ব্যাপক ব্লিচিং শুরু হয়। বর্তমানে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ইতোমধ্যেই প্রায় এক দশমিক চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি।

সামান্থা গারার্ডের আশঙ্কা, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে প্রবালপ্রাচীর একসঙ্গে বড় ধরনের ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। তবে কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে। মিসরের কাছে আকাবা উপসাগর এবং মাদাগাস্কারের প্রবালপ্রাচীর তুলনামূলকভাবে বেশি তাপ সহনশীল বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া গভীর সমুদ্রের প্রবালপ্রাচীরগুলো শীতল পানির স্তরের কারণে কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকতে পারে।

তবে সামগ্রিকভাবে প্রবালপ্রাচীর রক্ষা করতে হলে দ্রুত কার্বন নিঃসরণ কমানো ছাড়া বিকল্প নেই। বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনা সবচেয়ে জরুরি কাজ। 

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের বিল সংসদে সাত মাসে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজের জিডি সাত মাসে ১৫ হাজার শিশু নিখোঁজের জিডি নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২২৫ নেপাল ও তিব্বতে আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২২৫ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৪ কর্মকর্তা বরখাস্ত বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২ বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ২ জেলের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ২