চার মাসেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘কূল-কিনারা’পাচ্ছেন না শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ : ২৩-০৬-২০২৬ ১৮:৫১
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন/ ছবি : সংগৃহীত।
চট্টগ্রাম ব্যুরো
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অচলাবস্থার’সঙ্গে তুলনা করে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় চার মাস পরও তিনি মন্ত্রণালয়ের নানা জটিল সমস্যার কোনো ‘কূল-কিনারা’খুঁজে পাচ্ছেন না।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে বর্তমানে ৩০ হাজারেরও বেশি মামলা চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ৬৫ হাজার ৫০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্তহীনতার ফলেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
২০১৭ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি-সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাত্র ২৮৭ জন শিক্ষকের দাবিকে কেন্দ্র করে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দীর্ঘদিন আটকে রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে সমাধান করা সম্ভব ছিল, কিন্তু প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে হাজারো বিদ্যালয় নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়েছে।
উচ্চশিক্ষা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন কলেজে পরিকল্পনাহীনভাবে অনার্স কোর্স চালুর প্রবণতা বাড়ছে। প্রায় সব ক্ষেত্রেই একই ধরনের কয়েকটি বিষয়ে অনার্স চালুর দাবি আসে, অথচ এসব বিষয়ের বাস্তব চাহিদা ও কর্মসংস্থানের দিকটি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয় না।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধিদের বড় একটি অংশ নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, অনার্স কোর্স চালু বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি করার দাবি জানালেও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বা অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে তেমন গুরুত্ব দেন না।
বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা অনেকের কাছে এক ধরনের ‘ব্যবসা’ হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পেছনে সরকার বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। তাই শিক্ষার মান, পরীক্ষার ফলাফল এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
সভায় তিনি স্বতন্ত্র পরীক্ষা হল নির্মাণ, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পিলসনিউজ/এসসি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com