weather ২৬.৯৯ o সে. আদ্রতা ৬৯% , শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেশে ফিরে উচ্ছ্বসিত ফুটবলার হামজা চৌধুরী

প্রকাশ : ১৭-০৩-২০২৫ ২০:১৫

ছবি : সংগৃহীত

ক্রীড়া প্রতিবেদক
অপেক্ষার প্রহর শেষে দেশের মাটিতে পা রাখলেন হামজা চৌধুরী। সিলেটের এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ওয়েলকাম টু মাদারল্যান্ড হামজা- এমন সব স্লোগানে মুখর ছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাদের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী।

গত ডিসেম্বরেই ফিফা থেকে বাংলাদেশের হয়ে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন হামজা। এরপর থেকেই দেশের ফুটবল অঙ্গনে তাকে ঘিরে তৈরি হয় ব্যাপক উন্মাদনা। সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ হয় যখন কোচ হাভিয়ের কাবরেরা ভারত ম্যাচের প্রাথমিক স্কোয়াডে রাখেন তাকে। এখন চূড়ান্ত দলে হামজার থাকা একপ্রকার নিশ্চিত।

ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলে সরাসরি সিলেটের বিমানে ওঠেন হামজা। বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাত দু’টায় বাংলাদেশ বিমানের ম্যানচেস্টার থেকে সিলেট ফ্লাইটে রওনা হন হামজা। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট পৌঁছান তিনি। 

হামজা ও তার পরিবারকে বরণ করে নিতে এয়ারপোর্টে বাফুফের সাত জন নির্বাহী সদস্য ছিলেন। ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার পরপরই হামজাকে বরণ করে নেন বাফুফে কর্তারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন হামজার বাবা মোরশেদ দেওয়ান চৌধুরী। 

হামজা আগেও বাংলাদেশে এসেছেন। তবে এবারের আসাটা বিশেষ। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ ফুটবল দলের খেলোয়াড় হয়ে দেশে এসেছেন তিনি। স্মরণীয় এ সফরে তার সঙ্গী মা, স্ত্রী ও সন্তানেরা।

জানা যায়, বিমানবন্দরে হামজাকে অভ্যর্থনা জানান সিলেটের ক্রীড়ানুরাগী ও ক্ষুদে ফুটবলাররা। হামজার আগমন সামনে রেখে রবিবার সিলেট বিমানবন্দর সড়কসহ তার গ্রামের বাড়িতে একাধিক তোরণ নির্মাণ করা হয়েছিল। 

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে হামজাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। তাকে এসকট করে নগরী পার করে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে জেলা পুলিশও সড়কে তার নিরাপত্তা দিয়েছে।

হামজার আগমন ঘিরে নিজ গ্রাম স্নানঘাটসহ পুরো জেলায় বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। সাজসাজ রব পড়ে হামজার নিজ গ্রামেও। তাকে অভিনন্দন বার্তা জানিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে ছেয়ে যায় পুরো এলাকা। 

শান্ত ও নম্র স্বভাবের হামজা খেলোয়াড়ি জীবনে যেমন ছড়িয়েছেন খ্যাতি, তেমনি গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছেও অত্যন্ত প্রিয়। তাই তো হামজাও দিচ্ছেন তাদের আস্থার প্রতিদান। গ্রামের বাড়ি স্নানঘাটে গড়ে তুলেছেন একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা। যেখানে পড়াশোনা করছে এতিম শিশুরা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, প্রায় ১১ বছর পর দেশে এসেছেন হামজা চৌধুরী।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ভাত-গরুর মাংস তার প্রিয় খাবার। দেশি সবজিও তার পছন্দের।

সফর আলী নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আমাদের গ্রামের সন্তান দেশের জার্সি গায়ে দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন, এটি আমাদের জন্য গৌরবের। তার আগমন ঘিরে আমরা উচ্ছ্বসিত। হামজা যখন ছোট সময়ে বাড়িতে আসতেন, তখন আমিও তার সঙ্গে ফুটবল খেলেছি। ফুটবলের প্রতি ছোটবেলা থেকেই তার টান ছিল।

শুধু হামজা নন, তার মতো আরো প্রবাসী ফুটবলারের বাংলাদেশের হয়ে খেলতে দেখতে চান হামজার বাবা দেওয়ান মুর্শেদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) ঢাকায় আসতে পারেন হামজা। এরপর যোগ দেবেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে অভিষেক হবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে খেলা এই মিডফিল্ডারের। ২০ মার্চ বাংলাদেশ দল রওনা দেবে শিলংয়ের পথে, আর এর আগে মঙ্গলবার কোচ কাবরেরা সংবাদ সম্মেলনে হাজির করবেন অধিনায়ক ও হামজাকে।

ইনশাআল্লাহ আমরা উইন খরমু, বড় স্বপ্ন আছে: ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে ফেরা হামজা চৌধুরীকে নিয়ে তখন সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে ভক্তদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন বাফুফে কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা।

তার মধ্যেই তিনি গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন। কিন্তু বিমানবন্দরের ভিআইপি গেইটে তখন শত শত ক্যামেরা, মোবাইল ফোন আর মানুষের ভিড়। অনবরত হামজা-হামজা স্লোগান। সবাই যেন হামজার মুখ থেকে কিছু শুনতে চাইছেন।

তবে ফুটবলার হামজা শোনাবেন কীভাবে? চারপাশের ঢাক-ঢোলের শব্দ আর হামজা-হামজা স্লোগানে কান ঝালাপালা হওয়ার অবস্থা।

তখন কে কী বলছে সেটা বোঝাও মুশকিল। সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা চালালেন হামজার আশপাশে থাকা কয়েকজন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় ওই কোলাহলের মধ্যেই প্রশ্ন নিলেন হামজা, যার কিছুই ভালোভাবে বুঝা যাচ্ছিল না। তবে ভক্তদের দেখে হামজার মুখে হাসি লেগেই ছিল।

খেলার বিষয়ে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে হামজা সিলেটি ভাষায় বললেন, ইনশাআল্লাহ, আমরা উইন খরমু।

এ সময় দেশে ফেরা এবং মানুষের ভিড় নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে হামজা বলেন, অ্যামাজিং, অ্যামাজিং। সঙ্গে ইংরেজিতে যোগ করেন, অনেক দিন পর ফিরলাম। আমি রোমাঞ্চিত।

খেলার বিষয়ে জিজ্ঞাস করা হলে প্রথমে হট্টগোলের কারণে বুঝতেই পারেননি হামজা। নিজেই পাল্টা জিজ্ঞেস করেন, আমি বুঝছি না, বুঝছি না।

এরপর আবার বুঝিয়ে বললে হামজা বলেন, ইনশাআল্লাহ আমরা উইন খরমু। আমার বড় স্বপ্ন আছে। কোচ হাভিয়েরের সঙ্গে কাজ করব। ইনশাআল্লাহ আমরা উইন করিয়া প্রোগ্রেস করতে পারমু।

আরো প্রশ্নের উত্তর দিতে চেয়েছিলেন হামজা। তবে বাফুফে কর্মকর্তারা তাকে সরিয়ে নিয়ে যান। সিলেট বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে হবিগঞ্জের দিকে রওনা দেন হামজা।

হবিগঞ্জের পৈতৃক বাড়িতে ফুলেল বরণ: হামজা চৌধুরী সোমবার হবিগঞ্জের পৈতৃক বাড়িতে এসে পৌঁছেন। প্রথমবারের মতো সেই বাড়িতে পা রেখেছেন তার স্ত্রী ও তিন সন্তান।

সোমবার বেলা পৌনে ৪টার দিকে হামজা চৌধুরীর গাড়িবহর বাহুবল উপজেলার স্নানঘাটের বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্ত্রী ও সন্তানদের ফুল দিয়ে দেশীয় সংস্কৃতিতে বরণ করে নেন পরিবারের সদস্যরা।

হামজা বাড়িতে আসার আগ থেকেই শত শত মানুষ সেখানে অপেক্ষায় ছিলেন। বাড়িভর্তি ছিল আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামের মানুষে। পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাও ছিল। হামজা তার বাবার বাড়িতে আগেও এলেও তার স্ত্রী ও সন্তানরা এই প্রথমবারের মতো বাড়িতে এসেছেন।

বাড়িতে তিনি সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। সেখানে আধা ঘণ্টার মতো বিশ্রামের পর চলে যান বাড়ির পাশের মাদ্রাসার মাঠে। সেখানে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’: হামজার হবিগঞ্জের বাড়ির সীমানা প্রাচীরের অন্যপাশে তৈরি করা হয়েছিল মঞ্চ। তাতে তিল পড়ার জায়গা ছিল না। সামনে ছিল শত শত উৎসুক জনতা। এক সময় হামজা মঞ্চে এলেন। ঝাঁকড়া চুলের মাথায় গাঁদা ফুল। মাথা অনেকটা হলুদ রং নিয়েছে। গায়ে টি শার্ট। হামজাকে দেখতে উৎফুল্ল লাগছিল। মুখে হাসি। এত ভিড় সম্ভবত তিনি উপভোগ করছিলেন।

এক সময় হামজা মাইক্রোফোনের সামনে এলেন। লোকজনের অপেক্ষা কী বলেন। হামজা সবাইকে সালাম দিলেন প্রথমেই। পরের বাক্যগুলো একটু অন্যরকম। হামজা বললেন, আমার খুব ভালো লাগছে। আফনারা সবাই আসছেন আমাকে দেখবার লাগি।

এটুক বলে হঠাৎ বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলা শুরু করলেন। ইংল্যান্ডের শীর্ষ স্তরে খেলা ২৭ বছর বয়সী ফুটবলার বলে যান, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ (সমর্থকেরাও তখন বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলতে থাকেন)...বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

দুই-তিনবার বাংলাদেশ জিন্দাবাদ বলে ছোট্ট শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষ  করেন বাংলাদেশের ফুটবলের মহাতারকা। ঘোষকও কম যাননি। ধন্যবাদ হামজা। আমরা তোমার জন্য গর্বিত। তুমি এখানে এসেছ। আমরা বাংলাদেশি। লাল সবুজ রং আমাদেরÑ এই বলে ঘোষক ইতি টানলেন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ রবিবার সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ রবিবার বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছত্তিশগড়ে অভিযানে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত ছত্তিশগড়ে অভিযানে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত নাটোরে পুরাতন ডিসি বাংলোতে সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার নাটোরে পুরাতন ডিসি বাংলোতে সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার রবিবার জানা যাবে বাংলাদেশে কবে ঈদ রবিবার জানা যাবে বাংলাদেশে কবে ঈদ