ধর্ষণবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সারাদেশ
প্রকাশ : ০৯-০৩-২০২৫ ২২:২২
ছবি : সংগৃহীত
পিপলসনিউজ ডেস্ক
সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে রবিবার (৯ মার্চ) সারাদেশে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিক্ষোভে উত্তাল ছিল। বলা চলে মাগুরার শিশু ধর্ষণসহ সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে তীব্র প্রতিবাদ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘লাঠিমিছিল’: ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে লাঠিমিছিল হয়েছে। ‘ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ প্ল্যাটফর্মের ব্যানারে রবিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে থেকে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। বাঁশের ছোট ছোট লাঠি হাতে রাজু ভাস্কর্য থেকে শুরু করে ভিসি চত্বর, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, শাহবাগ মোড় ঘুরে মিছিলটি আবার রাজু ভাস্কর্যে এসে শেষ হয়।
এই কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্য ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। মিছিলে ‘জান, মালের নিরাপত্তা দে/নইলে গদি ছেড়ে দে’, ‘খুন, ধর্ষণ, নিপীড়ন/রুখে দাঁড়াও জনগণ’, ‘অবিলম্বে ধর্ষকদের/বিচার করো করতে হবে’, ‘ধর্ষকরা ধর্ষণ করে/প্রশাসন কী করে?’, ‘বেগম রোকেয়া শিখিয়ে গেছে/লড়াই করে বাঁচতে হবে,’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়।
এই কর্মসূচি থেকে ধর্ষণসহ অব্যাহত নারী নিপীড়ন প্রতিরোধে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর অপসারণ এবং দ্রুত ট্রাইব্যুনালে সব ধর্ষণ-কাণ্ডের বিচারসহ নয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। নয় দফা দাবি হলো- জননিরাপত্তাদানে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে দায় স্বীকার করে পদত্যাগ; সারা দেশে অব্যাহত ধর্ষণ, নারী নিপীড়ন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, অবিলম্বে পাহাড়, সমতলসহ সারা দেশে ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও নিপীড়নের সব ঘটনার বিচার নিশ্চিত এবং প্রয়োজনে ধর্ষণের ঘটনার বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে; সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে ধর্ষণ ও নারী নিপীড়ন প্রতিরোধের আইনসমূহে প্রয়োজনীয় যৌক্তিক সংযোজন, বিয়োজন ও সংশোধন, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের পদক্ষেপ গ্রহণ; ধর্ষণের মামলা নেওয়া নিয়ে থানায় জটিলতা দূর করা; ভুক্তভোগী ও সাক্ষীকে সকল প্রকার সুরক্ষা প্রদানের জন্য ২০১১ সালে পর্যালোচিত সাক্ষী সুরক্ষা আইন পুনরায় পর্যালোচনা ও প্রয়োগ করা; চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তা, স্লাটশেমিং এবং বরখাস্তের ঘটনা পূর্ণ তদন্ত করে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা; দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ স্লাটশেমিং করলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সমন্বয়ে স্বাধীন যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল কার্যকর করা।
এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন লেখক নিগার সুলতানা। তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে লাঠি নিয়ে এসেছেন। তারা শিশু, নারীসহ প্রত্যেকের নিরাপত্তা চান। ধর্ষণ ও নারী নিপীড়নের বিচার দ্রুত করার আহ্বান জানিয়ে নিগার সুলতানা বলেন, দ্রুত বিচার মানে এই নয় যে কারো সঙ্গে আবার অন্যায় হোক। অপরাধীরা শাস্তি পেলে অপরাধ করার প্রবণতা কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ফেরদৌস নাঈমও এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। কর্মসূচি শুরুর কিছুক্ষণ পর রাজু ভাস্কর্যের সামনে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে লাঠিমিছিলের আয়োজন করা হয়নি।
ঢাকা মেডিক্যালের শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন: মাগুরায় শিশুকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে মুখে লাল কাপড় বেঁধে ধর্ষকের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার বেলা ১১টায় ঢামেকের মিলন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আসেন শিক্ষার্থীরা। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধন কর্মসূচিতে ঢামেকের প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় তারা ‘আমার বোন, তোমার বোন আছিয়া আছিয়া’, ‘আমার সোনার বাংলায় ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, ধর্ষকের কবর দে’, ‘প্রতিরোধের আগুন বুকে, ধর্ষকদের রুখে দাও’, ‘ধর্ষকদের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’- এসব স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে ঢাকা মেডিক্যালের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সেই সঙ্গে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। দেশের নানা প্রান্তে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, বিচার হচ্ছে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে ধর্ষকদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে সমাজব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এখনই ধর্ষকদের বিচার করতে হবে।
রুবিনা প্রমী নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ধর্ষকদের যথাযথ বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে না। তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। যার কারণে এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। এসব ঘটনা প্রতিরোধ করতে হলে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, তাঁতিবাজার মোড়ে অবরোধ: দেশজুড়ে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে এবং দ্রুততম সময়ে দোষীদের শাস্তির দাবিতে পুরান ঢাকার তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা।
রবিবার সন্ধ্যা ৭টার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি তাঁতিবাজার মোড়ে পৌঁছে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন প্রায় ২০ মিনিট। এরপর তারা অবরোধ তুলে নিয়ে মিছিলসহ ক্যাম্পাসে ফিরে যান।
দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। গতকাল রবিবার দুপুরে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে রফিক ভবনের নিচে এসে জমায়েত হন এবং ধর্ষণের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরে তারা মানববন্ধন শেষে বক্তব্য দেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মানববন্ধনে সংগঠনটির এক নারী সদস্য বলেন, ‘আমরা চুপ থাকলে চলবে না। ধর্ষকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আজ অন্য কাউকে ধর্ষণ করা হয়েছে, কাল হয়তো আমাকেও করা হতে পারে। ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, তাহলেই এই ঘৃণ্য অপরাধ রোধ করা সম্ভব হবে।’
সংগঠনের আহ্বায়ক ইভান তাহসীভ বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, অথচ দোষীরা শাস্তির বাইরে থেকে যাচ্ছে। আমরা বলতে চাই, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। আমাদের সমাজব্যবস্থার কাঠামো পরিবর্তন করতে না পারলে নারী নির্যাতন বন্ধ হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রতিবাদে শামিল হতে হবে।’
উত্তরায় বিক্ষোভ মিছিল: বৃহত্তর উত্তরার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। গতকাল দুপুরে তারা উত্তরা বিএনএস সেন্টার ও উত্তরা পূর্ব থানার পাশে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় তারা স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে বিএনএস সেন্টার ও আজমপুর এলাকা।
শিক্ষার্থীরা উত্তরা বিএনএস সেন্টার থেকে মিছিল করে আজমপুর পূর্বথানা এলাকায় এসে জড়ো হন। সেখানে তারা বক্তব্য শেষে মিছিল করতে করতে রাজলক্ষী হয়ে উত্তরা বিএনএস সেন্টারে গিয়ে আবারো জড়ো হয়ে সেখান থেকে ব্যানার হাতে স্লোগান দিতে দিতে মুগ্ধ মঞ্চে গিয়ে মিছিল শেষ করেন।
রূপগঞ্জে মানববন্ধন: সারাদেশে অব্যাহত ধর্ষণের তীব্র প্রতিবাদ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেছেন স্থানীয় ছাত্র ও যুব সমাজ।
রবিবার দুপুরে মুড়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠ থেকে প্রতিবাদ মিছিলটি বের করে উপজেলা পরিষদের সামনে এসে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
এসময় বক্তারা বলেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু আইনের শিথিল প্রয়োগ, অপরাধীদের প্রভায় এবং বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে ধর্ষণের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। এটি সমাজের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। আমরা মনে করি, ধর্ষণ প্রতিরোধে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া আবশ্যক। আমরা সচেতন নাগরিক, মানবাধিকার কর্মী ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করুন।
ময়মনসিংহ গৌরীপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ: মাগুরায় শিশুধর্ষণসহ সারাদেশে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম অপকর্মে জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসি দেওয়ার দাবিতে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে গতকাল রবিবার ধর্ষণ-নিপীড়ন আর নয় স্লোগানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল বের হয়।
এ সময় বক্তারা বলেন, মাগুরায় একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বাসে-ট্রেনে, লঞ্চে চলছে ধর্ষণের মতো জঘন্যতম ঘটনা। এধরণের ধর্ষণে জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সাত দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
জামালপুরে ব্যবসায়ীদের মানববন্ধন: ধর্ষণের প্রতিবাদে সেভেন স্টার গ্রুপ ও জামালপুর মোবাইল ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে জামালপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে শহরের বিউটি প্লাজার সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
জামালপুরের মাদারগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের মানববন্ধন: ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং ধর্ষকের ফাঁসীর দাবীতে জামালপুরের মাদারগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মানববন্ধন করেছে। রবিবার দুপুরে বালিজুড়ী বাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন: দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। রবিবার দুপুরে পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
কুবিতে ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন: সারাদেশে ধর্ষণের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীরা। রবিবার দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে এ মানববন্ধন করেন তারা।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ শেখ ও আরাফ ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় এ মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সংহতি প্রকাশ করেন।
রাবিতে ক্লাস পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা: ধর্ষণের বিচার সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস পরীক্ষা আজ সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, নারীদের নিরাপত্তা না দিতে পারলে এই সরকারের প্রয়োজন নেই। ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সবার আগে নারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে। তারপর অন্য কাজ করতে হবে। এদিকে একই দাবীতে নগরীর বাটার মোড় এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল রাজশাহী মহানগর শাখার নেতাকর্মীরা। রবিবার দুপুরে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে দেশে বিভিন্ন স্থানে যে সব ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে তার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশের নারীদের নিরাপত্তা বিধানে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।
শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ধর্ষকের ফাঁসির দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ: মাগুরার সেই শিশুকে ধর্ষণের প্রতিবাদ ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন গাইবান্ধা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে রবিবার বেলা ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এসময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে কলেজের মেইন গেটের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে।
এসময় বক্তারা বলেন, দেশে একটার পর একটা ধর্ষণ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা অপরাধীদের কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে পাইনি। আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো সরকার বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ধর্ষকের পরিপূর্ণ শাস্তি কার্যকর করতে পারেনি। এটা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চরম ব্যর্থতা।
পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ: দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ ও ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। রবিবার দুপুরে পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা জানান, শান্তিপূর্ণ এ দেশে ধর্ষণের মতো ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায় দিন দিন এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। শিশু থেকে বৃদ্ধ কোন নারীই এখন নিরাপদ নয়। ধর্ষকদের গ্রেপ্তার করে জনসম্মুখে ফাঁসি দেওয়া গেলে এই কলঙ্ক থেকে দেশ মুক্তি পাবে বলে দাবি করেন তারা। এ সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ধর্ষকের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
রাণীশংকৈলে মানববন্ধন: দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারী ও শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে ছাত্র জনতার উদ্যোগে রবিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে শিশু ধর্ষণসহ সারাদেশের নারী-শিশু নির্যাতনের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com