গাজা দখলের পরিকল্পনা অনুমোদন করলো ইসরায়েল
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফিলিস্তিনের গাজা ইসরায়েলি হামলায় সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। এর মাঝেই হামলা আরো সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইসরায়েল পুরো গাজা দখল করতে চায়। এ ছাড়া গাজায় ত্রাণ সহায়তা দিতে একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর ব্যাপারেও আলোচনা হয়েছে। সোমবার (৫ মে) দেশটির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে এ নিয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে একজন মন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। গাজায় হাজারো রিজার্ভ সেনা তলব করার কয়েক ঘণ্টা পরই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলের এ পরিকল্পনাকে ‘রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইল’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েল সম্পূর্ণ গাজা দখল করবে ও বিজয় ঘোষণা করবে। এ ক্ষেত্রে হামাসের বিরুদ্ধে আরো কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনা হয়েছে। হামলা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তর করা হবে দক্ষিণ গাজায়। এভাবে পুরো গাজা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। আল জাজিরা জানায়, বর্তমানে গাজার প্রায় ৫০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল।
রয়টার্স জানায়, এরই মধ্যে গাজায় হামলা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৮ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়েছে। গত ১৮ মাসে অন্তত ৫২ হাজার ৫৬৭ ফিলিস্তিনি নিহত ও এক লাখ ১৮ হাজার ৬১০ জন জন আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি মাসের মাঝামাঝি মধ্যপ্রাচ্য সফর করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সফরের আগেই গাজায় হামলা সম্প্রসারণ করা হবে।
এদিকে রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর সামনেই তর্কে জড়ান জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির। তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করছিলেন নেতানিয়াহু। বেন গভির যখন বলেন, গাজায় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশের কোনো দরকার নেই, বরং হামাসের খাদ্যভান্ডারে বোমা হামলা করা উচিত। এ কথা শুনে ক্ষেপে যান সেনাপ্রধান ইয়াল জামির। তিনি বলেন, আপনি আমাদের সবাইকে বিপদে ফেলতে চাইছেন। এ সময় নেতানিয়াহু দু’জনকে থামিয়ে দেন। ইয়াল জামির যুক্তি দেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে গাজায় ত্রাণ সহায়তা দিতে ইসরায়েল বাধ্য।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র দপ্তরও স্বীকার করেছে, হামাসকে এড়িয়ে গাজায় ত্রাণ সহায়তা সরবরাহের প্রক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে গাজায় কর্মরত মানবিক সংস্থাগুলো নতুন ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বক্তব্য, ওষুধ-পানিসহ জীবন রক্ষাকারী পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্যই ইসরায়েল নতুন পথ খুঁজছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা এমন কোনো পরিকল্পনার পক্ষে সমর্থন দেব না; যা মানবতাকে ভূলুণ্ঠিত করবে।
এদিকে গাজায় নতুন করে অভিযানের জন্য হাজারো সেনা তলবের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে ইসরায়েলি জনগণ। সাবেক ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিঙ্কাস মনে করেন, সেনা অনেকেরই অভিযানে যোগ না দেওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ১৮ মাসে যা অর্জিত হয়নি; হামলা বাড়িয়ে তা অর্জন সম্ভব না। ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিডও নেতানিয়াহুর ১০ হাজার রিজার্ভ সৈন্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের জন্য একটি উপহার রেখে গেছেন প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিস। সেই উপহার এরই মধ্যে ফিলিস্তিনে পৌঁছে গেছে। উপহারটি মূলত প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসের পাঠানো একটি গাড়ি (পোপমোবাইল)। তিনি গাজার শিশুদের জন্য স্বাস্থ্য ক্লিনিকের কাজে গাড়িটি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষভাবে নকশা করা ওই গাড়িতে পোপ জনসমক্ষে আসতেন।
হামাস জানিয়েছে, তারা গাজার জনগণকে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে দেবে না। খাদ্য সংকটের মধ্যে লুটপাট চালানোয় একটি সশস্ত্র গ্রুপের ছয় জনকে হত্যা করেছে তারা। কাসসাম ব্রিগেড দক্ষিণ গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর বড় হামলার দাবি করেছে। খান ইউনিসে তারা ‘আল-ইয়াসিন ১০৫’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে দুটি ইসরায়েলি ট্যাঙ্ক এবং একটি সামরিক বুলডোজার ধ্বংস করেছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ