ইরানের দেশপ্রেমিকরা, জাতীয় প্রতিষ্ঠান দখল করুন: ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিক্ষুব্ধ জনতাকে সরকারবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জনতাকে দেশটির জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় ইরানের আন্দোলনরত জনতার উদ্দেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানের দেশপ্রেমিক জনগণ, আপনারা বিক্ষোভ-আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যান— নিজেদের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নিন। হত্যাকারী-নির্যাতনকারীদের নাম নথিবদ্ধ করুন। তাদের অনেক চড়া মূল্য দিতে হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ হিসেবে তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যাবতীয় বৈঠক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে তিনি বলেন, ইরানে বিক্ষোভ দমন করতে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এই নির্বোধ হত্যা যতদিন না বন্ধ হয়, ততদিন পর্যন্ত ইরানের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আমি বৈঠক করব না। (ইরানের বিক্ষোভকারীদের জন্য) সহযোগিতা আসছে। ইরানকে আবার মহান করে তুলুন (মিগা-মেইক ইরান গ্রেট এগেইন)।’
ট্রুথ সোশ্যালে এই পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তরে সাংবাদিকরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, নিজের পোস্টে ‘সহযোগিতা আসছে’ বলতে কী বুঝিয়েছেন তিনি। জবাবে ট্রাম্প বলেন, আমি দুঃখিত (আপনাদের এ ব্যাপারে বলতে পারব না)। আপনাদের এটা খুঁজে বের করতে হবে।
তবে পরে একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অভিযান সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ইরানে হতাহত সংক্রান্ত যাচাইকৃত তথ্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আসেনি। মূলত এ কারণেই ইরানে সম্ভাব্য হামলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত স্থির সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি ওয়াশিংটন।
সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমরা এখনো (হতাহতের) সঠিক সংখ্যা জানি না…যদিও বুঝতে পারছি যে এই সংখ্যাটি নেহায়েত কম নয়, কিন্তু এখনো আমরা নিশ্চিত কোনো তথ্য পাই নি।
তবে ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেষ খেলা হলো জয়, আর আমি জিততে ভালোবাসি।
এদিকে মঙ্গলবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিতে শুরু করে তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা’ নেবে। তবে সেই ব্যবস্থাগুলো প্রকৃতপক্ষে কী হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ফাঁসির বিষয়ে শুনিনি। যদি তারা তাদের ফাঁসি দেয়, তবে আপনারা এমন কিছু দেখবেন... তারা যদি এমন কাজ করে, আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।’
সিবিএস ইভনিং নিউজের উপস্থাপক টনি ডোকুপিল ট্রাম্পের কাছে ইরানে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) থেকে শুরু হতে যাওয়া কথিত ফাঁসি কার্যকর হওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে তিনি ওই মন্তব্য করেন।
‘কঠোর ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক হামলা এবং ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেটের তৎকালীন নেতা আবু বকর আল-বাগদাদিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
পিপলসনিউজ/আরইউ