রহিত অধ্যাদেশ যাচাইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, বিরোধীদল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে : আইনমন্ত্রী
প্রকাশ :
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত।
নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, রহিত হওয়া সাতটি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। আমরা সংশোধনের মাধ্যমে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। যারা (বিরোধী দলীয় নেতা) বলছেন, আমরা এটা (অধ্যাদেশগুলো পাস) করিনি, বাদ দিয়েছি, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।
রবিবার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সর্বসম্মতিক্রমে গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির কাছে পাঠানো হয়। বিশেষ কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে গত ২ এপ্রিল সংসদে প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং তা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদীয় প্রক্রিয়া শেষে ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৭টি অপরিবর্তিতভাবে বিল আকারে পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়েছে। এছাড়া ১৩টি অধ্যাদেশ সংশোধনীর মাধ্যমে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে। ৭টি অধ্যাদেশ রহিত ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি ১৬টি অধ্যাদেশ বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী আরও যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, আলোচিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে ব্যাপক আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট বিলগুলোর প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, এসব বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আরও পরামর্শ ও বিস্তারিত যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যেই এসব আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জনগণের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে আইনগুলোকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
পিপলসনিউজ/এসসি