weather ২৯.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৯% , বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থামছেই না ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব

প্রকাশ :

থামছেই না ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে, যা জাতীয় জনস্বাস্থ্য সেবাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এক দিনে চলতি বছরের সর্বোচ্চ নয়জনের প্রাণহানিতে ডেঙ্গুতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩০ জনে এবং নতুন করে দেড় হাজারের বেশি আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অন্যদিকে, হাম ও এর উপসর্গে দেশে প্রাণহানির সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৯৯ জনে। 

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে আগামী শনিবার থেকে স্বেচ্ছাসেবক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। 

ডেঙ্গুতে বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু: দেশে গত এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের এখন পর্যন্ত এক দিনের হিসাবে রেকর্ড প্রাণহানি।

এই সময়ে নতুন করে ডেঙ্গু নিয়ে ১ হাজার ৫৭১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এ নিয়ে চলতি বছরের এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়াল ১৩০ জনে। আর হাসপাতালে ভর্তি রোগী বেড়ে দাঁড়াল ৪৫ হাজার ৪৭৫ জনে।

নতুন করে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৯৬ জন, দক্ষিণ সিটিতে ১৩৪ জন ভর্তি হন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগে ৪০৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৪২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৭ জন, খুলনায় ২৪২ জন ও ময়মনসিংহে ৭৭, রংপুরে ৭১ জন, রাজশাহীতে ১১৬ এবং সিলেটে আটজন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য রাখে ২০০০ সাল থেকে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে এ রোগ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যুও হয় ওই বছর।

গেল বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় চার শতাধিক মানুষের, শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজারের মত।

সামনে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে: বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষা পরবর্তী সময়কে, অর্থাৎ অগাস্ট থেকে অক্টোবরকে ডেঙ্গুর ‘পিক সিজন’ বা ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ মৌসুম বলা হয়।

অন্যান্য বছরের মতো এ বছরও এই সময়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিলো। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও বেশি খারাপ হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিদিন মশা, লার্ভা ইত্যাদির ওপর একটি সার্ভেইল্যান্স করি আমরা। আমরা ট্র্যাপও ব্যবহার করি। এই সার্ভেইল্যান্সে আমরা দেখেছি, এডিস মশার ঘনত্ব ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য উপযোগী মাত্রায় আছে। এডিস মশার ঘনত্ব, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা, বৃষ্টিপাত, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা-এই কয়েকটি নিয়ে আমরা ফোরকাস্টিং তৈরি করি। ফোরকাস্টিং-এ এটা স্পষ্ট যে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসটা খারাপ যাবে বাংলাদেশের জন্য। 

এদিকে, রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে এখনই আমরা উদ্বেগজনক অবস্থায় আছি। দিনদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে, হামের কারণে আমাদের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এমনিতেই অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে ডেঙ্গু নতুন করে বাড়তি চাপ তৈরি করছে। সব মিলিয়ে এটি আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি নয়, বরং বেশ চাপের।

আরও ২ শিশুর প্রাণ গেল, হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৯৯৯: হাম উপসর্গে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ২৩৬ জন। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় এ তথ্য।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৯৯ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গে ৮৯৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৫৭ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৯ জনের। হাম ও হামের উপসর্গে মোট ১ হাজার ২৩৬ জন আক্রান্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৫৯ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৫০ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৬১ শিশুর শরীরে। এই সময়ের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৮৩৫ শিশুর। 

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা : জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা : জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে ১০০ ডলার ছুঁইছুঁই চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং সদস্যের ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং সদস্যের ছুরিকাঘাতে তরুণ নিহত পাঁচ ইরানি ট্যাংকারে বোমা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, জর্ডানে পাল্টা হামলা ইরানের পাঁচ ইরানি ট্যাংকারে বোমা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, জর্ডানে পাল্টা হামলা ইরানের দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো