লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানল নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি
প্রকাশ : ১২-০১-২০২৫ ০০:১৮

ছবি : সংগৃহীত
পিপলসনিউজ ডেস্ক
ভয়াবহ দাবানলে পাঁচদিন ধরে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস। ইতিহাস সৃষ্টি করা দাবানলের আগ্রাসী আগুনে জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে লাখো ঘরবাড়ি ও বিষয়-সম্পত্তি। দাবানল পুরো লস অ্যাঞ্জেলেসকে যেন তছনছ করে ফেলেছে। বাংলাদেশ সময় গত শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ তাদের বাড়ি-ঘর ছেড়েছেন এবং আরো দুই লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দাবানলে প্রায় ১০ হাজার অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার থেকে একযোগে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন এ দাবানল।
এদিকে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে দুটি বড় দাবানলের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু করেছেন বলে দাবি করেছেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। দাবানল ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিল ঝড়ো বাতাস। কয়েক দিন ধরে চলা প্রচণ্ড এই বাতাস কমে আসায় শুক্রবার আগুন নিয়ন্ত্রণ আসতে শুরু করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ দাবানলকে যুদ্ধের দৃশ্য হিসেবে কল্পনা করছেন। তিনি বলেন, মনে হয় কেউ যেন বোমা ফেলে দিয়েছে। দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হলিউড। বড় তারকাদের বাড়ি জ্বলে ছারখার হচ্ছে। অনেক তারকা এমন দুর্দোগে মানুষের জন্য সাহায্যের হাতও বাড়াচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার থেকে একযোগে শুরু হওয়া ছয়টি দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির আশপাশের এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। ঘন ধোঁয়ার কারণে মার্কিন কর্মকর্তারা জনস্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের পশ্চিম প্রান্তে প্যালিসেইডস এলাকার আগুন এবং পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত টন এলাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, শুক্রবারের আগপর্যন্ত প্যালিসেইডস ও ইটনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার মাত্রা ছিল শূন্য শতাংশ। শত শত অগ্নিনির্বাপণকর্মী আকাশ ও মাটি থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানোর পরও কয়েক দিন ধরে দাবানল ছিল নিয়ন্ত্রণহীন। অবশেষে প্যালিসেইডসের আগুন আট শতাংশ এবং ইটনের আগুন তিন শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যদিও এরই মধ্যে দাবানলে এই দুই অঞ্চলের প্রায় ৩৪ হাজার একর পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। এরই মধ্যে সাফল্যের খবরও পাওয়া গেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা জানি, আগামী সপ্তাহের শুরুতে বাতাসের তীব্রতা বৃদ্ধি পেতে পারে। সে জন্য লস অ্যাঞ্জেলেসকে প্রস্তুত রাখা ও জীবন বাঁচানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করা আমাদের প্রথম কাজ।’
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচটি দাবানলের আগুন নেভাতে এখনো সংগ্রাম করছেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। এসব দাবানলে লস অ্যাঞ্জেলেস ও ভেনটুরা কাউন্টিতে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, প্যালিসেইডসে ২০ হাজার একর এলাকা পুড়ে গেছে। অঞ্চলটির আগুন আট শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ইটনের আগুন তিন শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পুড়েছে ১৩ হাজার ৯৫৬ একর এলাকা। লিডিয়ায় ৩৯৫ একর পুড়েছে, নিয়ন্ত্রণে এসেছে ৭৫ শতাংশ আগুন। হার্স্ট অঞ্চলে ৭৭১ একর পুড়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে ৩৭ শতাংশ। আর কেনেথ অঞ্চলে ৩৫ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। নতুন করে আগুন ছড়ানো রোধ করতে সক্ষম হয়েছেন অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা।
যেন বোমা হামলা হয়েছে, বললেন বাইডেন
বলেছেন এখানে যেন বোমা ফেলা হয়েছে। তিনি বলেন, এই দাবানল আমাকে যুদ্ধের দৃশ্যের কথা বেশি মনে করিয়ে দিচ্ছে। যেখানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলা হয়েছে। এটি যেন পুরোপুরি যুদ্ধক্ষেত্রের দৃশ্য। গত শুক্রবার ওভাল অফিসে বাইডেনকে দাবানলের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে লুটপাটের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, লুটপাটের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আমরা প্রমাণ পেয়েছি আক্রান্ত এলাকায় অনেকে গিয়ে লুটপাট করছেন। এ ছাড়া দাবানল নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোয় ট্রাম্পের সমালোচনা করেন তিনি।
আবহাওয়া বিষয়ক বেসরকারি সংস্থা অ্যাকুওয়েদার শুক্রবার জানায়, দাবানলে ১৩৫ থেকে ১৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আর এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে লম্বা সময় পাড়ি দিতে হবে।
দাবানলের পেছনে কারণ কী, তদন্তকারীরা কী ভাবছেন
ভয়াবহ দাবানলের ঘটনায় সম্ভাব্য কারণগুলো খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাহাড়ি প্যাসিফিক প্যালিসেইডস এলাকায় জেমি লি কার্টিস ও বিলি ক্রিস্টালের মতো হলিউড তারকাদের বাড়ি। দাবানলে তাদের ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, প্যাসিফিক প্যালিসেইডসের পিয়েডরা মোরাডা ড্রাইভ এলাকার একটি বাড়ির পেছনে ঝড়ো বাতাসময় ওই দাবানলের সূত্রপাত হয়েছে।
ন্যাশনাল ফায়ার প্রটেকশন অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে দাবানলের সূত্রপাত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় একটি কারণ হলো বজ্রপাত। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আগুনের ক্ষেত্রে তেমন কিছু হয়নি বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানলের শুরু হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির পূর্ব দিক থেকে। সেখানকার প্যালিসেইডস এলাকা বা ইটনের দাবানলকবলিত এলাকার আশপাশে বজ্রপাত হয়েছে বলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ওই সব এলাকায় দাবানলে শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে। এরপর আরো দুটি সাধারণ কারণের প্রসঙ্গ চলে আসে। এর একটি হলো ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া এবং বৈদ্যুতিক লাইনে স্ফুলিঙ্গ হওয়া।
১৯৯১ সালে অকল্যান্ড হিলসের দাবানলসহ ক্যালিফোর্নিয়ায় বড় বড় দাবানলের ঘটনায় তদন্ত করার অভিজ্ঞতা আছে জন লেন্টিনির। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সায়েন্টিফিক ফায়ার অ্যানালিসিসের স্বত্বাধিকারী তিনি। লেন্টিনি বলেন, দাবানলের আকার পরিবর্তন হলেই যে এর কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্তের ধরনে পরিবর্তন আনতে, হবে তা নয়।
লেন্টিনি আরো বলেন, এটি একসময় ছোট আকারের দাবানল ছিল। কোথায় দাবানলের শুরুটা হয়েছে, দাবানলের উৎস কী, তা নির্ধারণ, উৎসের আশপাশ খতিয়ে দেখা এবং এর কারণ নির্ধারণের দিকে বেশি মনোযোগ দেবে মানুষ। এখন পর্যন্ত এই দাবানলের ঘটনায় অগ্নিসংযোগের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। বৈদ্যুতিক লাইন থেকেও আগুন লাগার ইঙ্গিত মেলেনি।
ক্যালিফোর্নিয়া পাবলিক ইউটিলিটিজ কমিশনের (সিপিইউসি) যোগাযোগ পরিচালক টেরি প্রসপার বলেন, দাবানলের ঘটনায় বৈদ্যুতিক কোনো কারণের যোগসূত্র থাকার আশঙ্কা করলে কর্তৃপক্ষকে ই-মেইলের মাধ্যমে কমিশনে জানাতে হয়। সিপিইউসির কর্মীরা তখন এ ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্য আইনের লঙ্ঘন হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখেন।
বৈদ্যুতিক পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানি সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন গত শুক্রবার পাসাডেনার নিকটবর্তী ইটন এলাকার দাবানল নিয়ে সিপিইউসিতে একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
এডিসন কর্তৃপক্ষ বলছে, ওই দাবানলের সূত্রপাত হওয়ার সঙ্গে তাদের কোনো সরঞ্জামের যোগসূত্র থাকার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। তবে বিমা কোম্পানির আইনজীবীদের কাছ থেকে প্রমাণ সংরক্ষণের নোটিশ পাওয়ার পর সতর্কতামূলকভাবে তারা প্রতিবেদনটি দিয়েছে।
বজ্রপাত, অগ্নিসংযোগ, বৈদ্যুতিক লাইন ছাড়াও অনেক সময় আবর্জনা পোড়ানো এবং আতশবাজি ফুটানো থেকেও দাবানলের সূত্রপাত হতে পারে। তা ছাড়া দুর্ঘটনায় অসংখ্য উৎস থেকেই আগুন ছড়াতে পারে।
বিবিসির খবরে জানা যায়, ২০২০ সালে এক দম্পতি একটি অনুষ্ঠানের আয়োজনে বেশি ধোঁয়া তৈরি করেÑ এমন বিশেষ ধরনের আতশবাজি পোড়াতে গেলে বড় আকারে দাবানল ছড়িয়েছিল। তখন প্রায় ৩৬ বর্গমাইল এলাকা পুড়ে গিয়েছিল। এতে পাঁচটি বাড়ি এবং আরো ১৫টি ভবন ধ্বংস হয়ে যায়। এ ঘটনায় এক অগ্নিনির্বাপণকর্মী প্রাণ হারান। লেন্টিনি বলেন, আবহাওয়ার বদল হলেই কেবল দাবানল থামতে পারে।
২০১৭ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দাবানলের ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছিল। সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া এডিসন পাওয়ার কোম্পানির বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের স্ফুলিঙ্গ থেকে দাবানলের সূত্রপাত হয়েছিল। তদন্তকারীরা তখন বলেছিলেন, প্রচণ্ড বাতাসের মধ্যে বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ হলে দাবানল ছড়িয়ে পড়ে। ওই ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয় এবং ৪৪০ বর্গমাইলের বেশি এলাকা পুড়ে যায়।
খাবার বিতরণ করলেন হ্যারি-মেগান
লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি খাবার বিতরণ কেন্দ্রে আকস্মিকভাবে দেখা গেল ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাসেক্সের ডিউক যুবরাজ হ্যারি এবং ডাচেস অব সাসেক্স মেগানকে। সিএনএন জানিয়েছে, এই দম্পতি স্থানীয় সময় শুক্রবার দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্থাপিত একটি খাবার বিতরণ কেন্দ্রে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স ১১’-এর একজন সাংবাদিক তাদের দেখতে পান।
এ সময় হ্যারি-মেগান ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের প্রতিষ্ঠাতা জোসে আন্দ্রেস এবং সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন। পাশাপাশি দাবানলে প্রথমদিকের ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে দেখা করে সহানুভূতি জানান।
স্থানীয় প্যাসাডেনা শহরের মেয়র ভিক্টর গর্ডো বলেন, এই ব্রিটিশ জুটি দিনের শুরুতে খাবার বিতরণ কেন্দ্রে ছিলেন। তারা চুপচাপ খাবার পরিবেশন করছিলেন। মুখে মাস্ক পরার কারণে তাদের চেনাও যায়নি।
মেয়র হ্যারি-মেগানকে ‘দুর্দান্ত মানুষ’ উল্লেখ করে বলেন, তারা যতটা সম্ভব আমাদের সহায়ক হতে চায়। সত্যই কেবল সহায়ক হতে চায়। তারা এখানে প্রচারের জন্য আসেনি, বরং তারা এখানে কাজ করতে এসেছিল।
দাবানল গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার স্মারক
দাবানলের কারণে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞকে গাজার ধ্বংসস্তূপের সঙ্গে তুলনা করেছেন ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ। তিনি একে ইসরায়েলের ‘বর্বরতার’ ফল বলে উল্লেখ করেছেন।
সাবেক এই পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া একটি পোস্টে এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর প্রতি সহানুভূতিও প্রকাশ করেন।
প্রেস টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার দাবানল গাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন উল্লেখ করে জারিফ লিখেছেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মর্মান্তিক দৃশ্য গাজায় বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, স্কুল এবং হাসপাতালের স্মৃতি জাগিয়ে তুলছে।
জাওয়াদ জারিফ আরো বলেন, প্রকৃতির প্রলয়ের কারণে সবকিছু হারানো ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করাই মানবিকতা। বিশেষ করে যখন সেখানকার অনেকেই গাজার বাসিন্দাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, ইসরায়েলের বর্বরতায় যারা সবকিছু হারিয়েছেন।
জারিফের এই বক্তব্যটি এমন সময়ে এসেছে, যখন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে ৪৬ হাজারেরও ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরো এক লাখ ১০ হাজার মানুষ।
গাজায় ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে আমেরিকা তাদের প্রধান মিত্র এবং অস্ত্র সরবরাহকারী। শক্তিধর দেশটি একাধিকবার গাজায় যুদ্ধবিরতির পক্ষে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। পাশাপাশি তারা ইসরায়েলকে গোয়েন্দা, আর্থিক এবং সামরিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে।
ইতিহাসের অন্যতম ক্ষয়ক্ষতির দুর্যোগ হবে দাবানল
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দাবানল আর্থিক ক্ষতির দিক থেকে ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল হতে চলছে। দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত প্যাসিফিক প্যালিসেডস এলাকায় গড়ে একেকটি বাড়ির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ ডলার। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন হলিউড তারকা আগুনে তাদের বাড়ি হারিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলীয় ইটনের দাবানল অপেক্ষাকৃত কম ধনী এলাকাগুলোতে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান জেপি মর্গান চেজ জানিয়েছে, দাবানলের কারণে আর্থিক ক্ষতি পাঁচ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে দুই হাজার কোটি ডলার বিমার আওতায় থাকবে।
বিমা বাজারের সংকট : এই দাবানল ক্যালিফোর্নিয়ার ভঙ্গুর বিমা ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো আরো প্রকট করে তুলেছে। বিমা কোম্পানিগুলো ঝুঁকি এড়াতে রাজ্যের বাজার থেকে সরে যাচ্ছে। ২০২২ সালে রাজ্যের চতুর্থ বৃহত্তম গৃহবিমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অলস্টেট পলিসি বিক্রি বন্ধ করে দেয়। চলতি বছরের মার্চে স্টেট ফার্ম ৩০ হাজার বিমা পলিসি বাতিল করেছে, যার মধ্যে এক হাজার ৬০০ পলিসি ছিল প্যাসিফিক প্যালিসেডস এলাকার।
বিমা কোম্পানিগুলো সরে যাওয়ার কারণ হিসেবে দাবানলের ঝুঁকির যথাযথ মূল্যায়ন করতে না পারাকে দায়ী করা হচ্ছে। ১৯৮৮ সালের একটি ব্যালট আইনের কারণে বিমা কোম্পানিগুলো দাবানলের ঝুঁকি অনুযায়ী প্রিমিয়াম বাড়াতে পারেনি। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের ঝুঁকি বাড়লেও বিমা কোম্পানিগুলো এই ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি।
ফলস্বরূপ, ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক বাসিন্দা বাধ্য হয়ে ফেয়ার (ফেয়ার অ্যাক্সেস টু ইনস্যুরেন্স রিকোয়্যারমেন্টস) প্ল্যানে নির্ভরশীল হয়েছেন। এই অলাভজনক প্রতিষ্ঠানটি বিমার শেষ ভরসা হিসেবে কাজ করে। প্যাসিফিক প্যালিসেডস এলাকায় এটির সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলার; যা গত এক বছরে ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই প্ল্যানে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ৩০ লাখ ডলারের বেশি নয়। ফলে অনেক ধনী ব্যক্তি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
এমন পরিস্থিতিতে যারা ক্ষতির মুখে পড়েননি, তারাও ঝুঁকিতে রয়েছেন। ফেয়ার প্ল্যান যদি ক্ষতিপূরণের ব্যয় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এর চাপ রাজ্যে থাকা বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর ওপর পড়বে। তবে আশার কথা হচ্ছে, গত ২ জানুয়ারি থেকে ঝুঁকির মডেলভিত্তিক মূল্যায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে দাবানলের ঝুঁকি আরও সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
বাড়ির দরজা খুলে দিয়েছেন জোলি
প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে যার সাধ্যমতো বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে নিজের বাড়ির দরজা খুলে দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। সূত্রের বরাতে পিপল ম্যাগাজিন বলছে, লস অ্যাঞ্জেলেসের গৃহহারা বন্ধুদের জন্য বাড়ির দরজা খুলে রেখেছেন ‘মেলফিসেন্ট’ অভিনেত্রী।
জোলির ঘনিষ্ঠরা বলছেন, ‘যারা তাদের বাড়ি-ঘর হারিয়েছে বা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের জন্য আবেগাপ্লুত অ্যাঞ্জি। তিনি সাহায্য করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন, এমনকি যাদেরকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছিল- এমন বন্ধুদের জন্য তার বাড়ি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন।’
জোলির মতো অন্যান্য সেলিব্রিটিরাও দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। অভিনেত্রী হ্যালি বেরি তার এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, দাবানলে বিপদগ্রস্তদের মৌলিক চাহিদা পূরণে ‘সেনিটারি ক্লোজেট’ বিতরণ করেছেন তিনি।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য এক মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জেমি লি কার্টিস ও ক্রিস্টোফার গেস্ট। কেউ কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর পাশাপাশি খাদ্য সহায়তা দিয়েও পাশে দাঁড়িয়েছেন।
ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের প্রতিষ্ঠাতা শেফ জোসে আন্দ্রেসের সঙ্গে দেখা গেছে বেন অ্যাফ্লেকের প্রাক্তন স্ত্রী জেনিফার গার্নারকে। ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্য সহায়তা দিচ্ছেন তিনি।
এ ছাড়া লস অ্যাঞ্জেলেসে দাবানলে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১৮৩ কোটি টাকা (১৫ লাখ ডলার) অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াল্ট ডিজনি। এই অনুদান যাচ্ছে অগ্নিনির্বাপক বিভাগের ফাউন্ডেশন ও আঞ্চলিক ফুড ব্যাংকসহ অন্যান্য সংস্থায়।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com