সপ্তাহের জন্য আন্দোলন স্থগিত করেছেন তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা
প্রকাশ : ০৪-০২-২০২৫ ০০:০৪

ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার দাবিতে চলমান আন্দোলন সাত দিনের জন্য স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে লায়েক নুর মোহাম্মদ সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ ঘোষণা দেন।
এর আগে রাত পৌনে ১০টার দিকে মহাখালী রেল ক্রসিং এলাকায় যান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. নুরুজ্জামান। তিনি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির দাবি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত সরকার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এর আগে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
পরে তিতুমীর কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী লায়েক নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার এই মুহূর্তে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের অনুরোধ করেছেন। কারণ, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি দিলে অন্য কলেজগুলোও আন্দোলনে নেমে যাবে। তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সরকারের জন্য কঠিন হবে। তাই আমরা নির্বাচিত সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষা করব।’
এর আগে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে জানিয়ে লায়েক নুর মোহাম্মদ বলেন, এ কমিটি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম ও কলেজ পরিচালনা করবে। আমরা কী এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে সবাই একমত- প্রশ্ন করে সবার মতামত চান তিনি। পরে শিক্ষার্থীরা ‘হ্যাঁ’ বলে সাড়া দেন। এরপর অনশনরত শিক্ষার্থীদের জুস খাইয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
গত কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। সোমবার টানা পঞ্চম দিনের মতো সড়ক অবরোধ করেন কলেজটির শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি এদিন মহাখালি রেলপথও অবরোধ করেন তারা। এতে করে সারাদেশের সঙ্গে রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন ট্রেনযাত্রীরা। ট্রেনচলাচলের সিডিউলও উলট-পালট হয়ে যায়। মহাখালি মোড়ের সড়ক ধরে চলাচল করা গণপরিবহনও এদিন চলাচল করতে পারেনি। এতে করে এই সড়কসহ আশেপাশের সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন রোগীসহ ওইসব পথগামী নগরবাসী। তবে মহাখালি ফ্লাইওভার দিয়ে যান চলাচল করতে দেখা গেছে।
এদিকে শিক্ষার্থীরা রেলপথ অবরোধ করার সময় তাদের ঘিরে ছিল আনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য। এ ছাড়া সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহাখালি রেললাইন এলাকায় চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়। রেলগেটের অদূরেই প্রস্তুত ছিল জলকামান।
অন্যদিকে যেকোনো দাবি-দাওয়ায় সড়ক ও রেল অবরোধে বিরক্তি প্রকাশ করেন পথচারীরা। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে মানুষজন বিরক্ত। অন্যদিকে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, তিতুমীরের বিষয়টি ভেবে দেখছে সরকার। শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর আসছে।
জানা যায়, সোমবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে মহাখালীতে রেলপথ আটকিয়ে তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেন। এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা কলেজের মূল ফটকের সামনে বাঁশ ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। সেখান থেকে বিকালে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে মহাখালী রেল ক্রসিংয়ে যান। অনশনরত শিক্ষার্থীরা এই মিছিলের সামনে হুইল চেয়ারে করে অংশ নেন।
লোকজনকে অতিষ্ঠ করে ফেলছে তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আন্দোলনের মাধ্যমে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা লোকজনকে অতিষ্ঠ করে ফেলছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। সোমবার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংক্রান্ত সভা শেষে এ কথা বলেন উপদেষ্টা।
উপদেষ্টা বলেন, তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা লোকজনকে অতিষ্ঠ করে ফেলছে। দিনের পর দিন কিন্তু তাদের এ দাবি-দাওয়া বেড়েই চলছে। এটির পেছনে কারা জড়িত সেটিও কিন্তু আপনারা জানেন, এটি কিন্তু আপনারা প্রচার করেন না।
কারা জড়িত, আমরা তো জানি না আপনি বলেন- তখন উপদেষ্টা বলেন, আমি কেন বলবো, আপনারা জানেন না? যেটি আপনারা জানেন, সেটি কেন আমি বলবো?
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করণীয় কী জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আপনারা বলেন, এই অবস্থায় আমার কী করা উচিত? এটি শুধু আমার একার দায়িত্ব নয়, এটি দেশবাসী সবার দায়িত্ব। সচিব মহোদয় (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব) যা বলেছেন, সেটি আপনারা ভালোভাবে প্রকাশ করেন, জনগণই তাদের রেললাইন থেকে উঠিয়ে দেবে।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আপনারা (সাংবাদিক) বলেন এই যে জনদুর্ভোগ হচ্ছে, এটি থেকে পরিত্রাণের উপায় হচ্ছে তারা রেললাইন ছেড়ে দিয়ে ক্যাম্পাসে গিয়ে তাদের কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি-দাওয়া পেশ করুক। তারা যাতে জনগণকে দুর্ভোগ না দেয়। তারা যাতে প্রোপার কর্তৃপক্ষের কাছে যায়, রাস্তাটা যাতে ছেড়ে দেয়, জনগণের যাতে কোনো ভোগান্তি সৃষ্টি না হয়।
শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ, যানবাহন না পেয়ে ভোগান্তি
যশোরের কেশবপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। বোন আকলিমা আক্তারকে রাজধানীর মহাখালীর ক্যানসার হাসপাতালে এনেছিলেন চিকিৎসা করাতে। আকলিমার কেমোথেরাপি চলছে। সোমবার একটি কেমোথেরাপি শেষ করে বাড়িতে ফিরবেন। কিন্তু দুপুরে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তারা দেখেন, সড়কে কোনো বাস চলছে না।
দুপুরে তিতুমীরের শিক্ষার্থীরা মহাখালী থেকে গুলশানগামী সড়ক বন্ধ করে দেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া মানুষেরা ভোগান্তিতে পড়েন। তাদেরই একজন যশোরের কেশবপুরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম।
দুই হাতে ব্যাগপত্র নিয়ে মহাখালীর আমতলী মোড়ের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। সঙ্গে ছিলেন ক্যানসারে আক্রান্ত বোন।
জাহাঙ্গীর বলেন, শিক্ষার্থীরা রাস্তা আটকে রেখেছেন। কোনো বাস চলছে না। রিকশা নিতে চেয়েছিলাম। বলল, মহাখালী পর্যন্ত যেতে পারবে না। কলেজের সামনে নামিয়ে দেবে। ভাড়া ৪০ টাকা চাইল। পরে হেঁটেই রওনা দিয়েছি। কিন্তু বোনের কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতাল থেকে কলেজের সামনে পর্যন্ত দুবার জিরিয়ে নিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের কলেজ ফটকের সামনে বাঁশ ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় মহাখালী থেকে গুলশানে যাওয়ার এবং গুলশান থেকে মহাখালী আমতলীর দিকে আসার- উভয় পাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা অসুস্থ রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স বা বাহন বাদে আর কোনো যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছিলেন না। এ সময় অনেক মানুষকেই হেঁটে গন্তব্যে রওনা দিতে দেখা গেছে। কারো হাতে ছিল জিনিসপত্রের বড় ব্যাগ-বস্তা, কারো কোলে ছিল সন্তান। কেউবা বয়স্ক মা-বাবাকে হাতে ধরে হাঁটিয়ে নিচ্ছিলেন। রাস্তা বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়া এসব লোকজনের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সড়ক অবরোধে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন রজ্জব আলী-রাশেদা বেগম দম্পতি। রাশেদা বেগমের বাঁ হাত কনুইয়ের নিচে ব্যান্ডেজে মোড়ানো ছিল। সেই হাত সাবধানে ধরে নিয়ে ধীরগতিতে হাঁটছিলেন তারা। তিতুমীর কলেজের সামনে কথা হয় তাদের সঙ্গে। ধামরাইয়ের বাসিন্দা অটোচালক রজ্জব আলী দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, কোনো গাড়ি নাই। রিকশা ভাড়া তিন-চারগুণ বেশি চাইছে। রাস্তা আটকানোর কারণে কোনো গাড়িও পেলাম না। এখন হাঁটা ছাড়া কোনো গতি নাই। তাদের তো মানুষের কষ্ট বোঝা উচিত। তারাই যদি মানুষের কষ্ট না বোঝে, আর কে বুঝবে?
মহাখালী থেকে গুলশানের রাস্তায় যানবাহন সরাসরি না চললেও মহাখালী থেকে তিতুমীর কলেজের সামনে পর্যন্ত এবং তিতুমীর কলেজের পর থেকে আবার গুলশান পর্যন্ত রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছিল। কিন্তু ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। মহাখালী থেকে তিতুমীর কলেজের সামনে পর্যন্ত রিকশায় জনপ্রতি ৩০ টাকা নেওয়া হয়। সে হিসাবে দুজন যাত্রীর ভাড়া ৬০ টাকা। স্বাভাবিক সময়ে এই ভাড়ায় গুলশানে যাওয়া যায়।
ভাড়া নিয়ে রিকশাচালক ও সাধারণ মানুষদের বাগবিতণ্ডায় জড়াতে দেখা গেছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধে বিরক্ত হয়ে কেউ কেউ গালমন্দও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবির যৌক্তিকতা নিয়েও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কেউ কেউ বিতণ্ডায় জড়ান।
গুলশান ১ নম্বরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শাহজাহান উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যখন মন চাইছে, রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করছে। প্রশাসনও কিছু করছে না। যত কষ্ট, সব সাধারণ মানুষের। আর দুর্ভোগের সুযোগে রিকশাচালকেরা ভাড়া বেশি নিচ্ছেন। সরকার কি মানুষের দুর্ভোগ দেখে না?
স্টেশনে স্টেশনে আটকা ট্রেন
মহাখালীতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধে টঙ্গী জংশন হয়ে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। রেলপথ অবরোধের কারণে কমলাপুরসহ বিভিন্ন স্টেশনে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
কমলাপুরের স্টেশন মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, মহাখালীতে রেললাইন অবরোধের পর বিকাল পৌনে ছয়টা পর্যন্ত ছয়টি ট্রেন আটকে গেছে। সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, কালনী, জামালপুর কমিউটার, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ ছয়টি ট্রেন ছাড়া যায়নি। একইভাবে ঢাকায় প্রবেশ করবে এসব ট্রেনও বিভিন্ন স্টেশনে আটকে যায়। শিক্ষার্থীরা মহাখালী রেলক্রসিংয়ে রেললাইনের উপর বসে পড়লে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি নাখালপাড়ার দিকে আটকা পড়ে। পরে সেটিকে পিছিয়ে তেজগাঁও রেলস্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে প্রতিদিন ৪৩ জোড়া আন্তঃনগর এবং ২৫ জোড়া মেইল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেনের সময়সূচী অনুযায়ী রবিবার বিকালের পর থেকে রাত পর্যন্ত লালমনি এক্সপ্রেস, সিল্কসিটি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, পদ্মা এক্সপ্রেস, টিত্রা এক্সপ্রেস, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, চিলাহাটি এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস, ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশিথা এক্সপ্রেস, এগারো সিন্ধুর গোধুলী, হাওর এক্সপ্রেস, কক্সবাজার এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম মেইল, সুরমা মেইল, তিতাস কমিউটার, ঈশাখাঁন এক্সপ্রেস, ভাওয়াল এক্সপ্রেস, তুরাগ কমিউটার ট্রেন ঢাকার কমলাপুর ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরসহ সাত দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন বিকাল থেকে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে কলেজের মূল ফটকের সামনে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আর বৃহস্পতিবার থেকে বিরতি দিয়ে চলছে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি।
আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘তিতুমীর ঐক্যর’ সাত দফার মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ; ‘বিশ্ববিদ্যালয়’প্রশাসন গঠন করে ২৪-২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা এবং শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা কিংবা শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসিক খরচ বহন করা।
এদিকে সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরে বিশেষ বিবেচনা করিনি বলে শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ যে বক্তব্য দিয়েছেন তা প্রত্যাহার এবং প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর কমিশন গঠনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
গত ২৬ জানুয়ারি রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে সাত কলেজকে মুক্ত করার ঘোষণা দেন।
এই সাত কলেজ নিয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছে সরকার। তবে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা চেয়েছিলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানটিকে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়া হোক।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com