নারী রেফারিকে নিপীড়ন, চাকরি হারালেন হিগুয়েইন
প্রকাশ :
ছবি : সংগৃহীত
ক্রীড়া ডেস্ক
এক নারী রেফারিকে ‘এটা মনে রেখো, এটা পুরুষদের খেলা’ বলে মন্তব্য করা এবং হাত মেলানোর সময় তার হাত ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনায় কলম্বাস ক্রুর রিজার্ভ দলের কোচ ফেদেরিকো হিগুয়েইনকে বরখাস্ত করেছে মেজর লিগ সকারের এই ক্লাব। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে তারা।
আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড এবং রিয়াল মাদ্রিদের প্রাক্তন খেলোয়াড় গনজালো হিগুয়েইনের ভাই এই হিগুয়েইন। এই ঘটনার জন্য এর আগেই লাল কার্ড দেখানো হয় তাকে এবং দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও পান তিনি। এরপরই তাকে দল থেকে বরখাস্ত করে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
কলম্বাস ক্রুর জেনারেল ম্যানেজার ইসা তাল বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, ফেদেরিকো হিগুয়েইনকে তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়াই আমাদের ক্লাব, খেলোয়াড় এবং সহায়ক স্টাফদের জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সপ্তাহের আলোচনা এবং গত এক মাসের ঘটনা পর্যালোচনার পর দেখা গেছে, আমাদের দলগুলোর একটির নেতৃত্বদানকারী হিসেবে যে মানদণ্ড প্রত্যাশিত, তা তিনি পূরণ করতে পারেননি।’
দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্লাবের অজ্ঞাতনামা সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ক্লাবের সঙ্গে পরবর্তী আলোচনায় নিজের আচরণ নিয়ে প্রতিফলন বা দায় স্বীকার করতে অনিচ্ছুক ছিলেন হিগুয়েইন। জনসমক্ষে কোনো ক্ষমাও চাননি তিনি। এমএলএসের ডেভেলপমেন্ট লিগ এমএলএস নেক্সট প্রো-র একটি ম্যাচে এই ঘটনা ঘটে।
রেফারিদের ইউনিয়নের ভাষ্যমতে, হিগুয়েইন একজন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুটি ইচ্ছাকৃত শারীরিক নিপীড়ন এবং লিঙ্গবৈষম্যমূলক আচরণ করেছেন। তিনজন বার থামতে বলার পরও তার হাত চেপে ধরে রেখেছিলেন এবং ছাড়েননি।
পেশাদার সকার রেফারি অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, এই শারীরিক হুমকির সঙ্গে যুক্ত হয় ওই কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে অবমাননাকর, লিঙ্গবৈষম্যমূলক এক মন্তব্য, মনে রেখো, এটা পুরুষদের খেলা।
লিগ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাকে ‘যথেষ্ট নয়’ বলে সমালোচনা করেছে এই ইউনিয়ন। অন্তত ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে তারা।
তারা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নারীরা এই খেলার প্রতিটি স্তরকেই আরও সমৃদ্ধ করে তোলেন। এটা প্রমাণ করতে গিয়ে তাদের হুমকি বা অবমাননাকর মন্তব্যের শিকার হতে হবে না।’
তারা আরও বলেছে, ‘আমাদের নারী কর্মকর্তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। অন্যান্য কর্মকর্তাদের মতোই তাদেরও প্রাপ্য একই সম্মান, মর্যাদা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ।’
পিপলসনিউজ/আরইউ