weather ২৬.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৪% , শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নিহত ৪৬

প্রকাশ : ২৬-১২-২০২৪ ০১:০৩

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই তথ্য জানিয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় প্রতিবেশী দেশটির বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে আফগানিস্তানের ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তালেবান।

তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশের বারমাল জেলায় চারটি স্থানে বোমাবর্ষণ করে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের এই বোমা হামলায় মোট ৪৬ জন নিহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিশু ও নারী। এ ছাড়া এই হামলায় ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানান তালেবান সরকারের এই মুখপাত্র।

পাকিস্তানের হামলার নিন্দা জানিয়ে তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের হামলাকে বর্বর ও স্পষ্ট আগ্রাসন বলে অভিহিত করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এই কাপুরুষোচিত কাজের জবাব দেওয়া হবে। ভূখণ্ড ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার বিষয়টিকে আফগানিস্তান তার অবিচ্ছেদ্য অধিকার বলে মনে করে। তবে এই হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের সরকার এবং সামরিক কর্মকর্তাদের মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স। 

আফগানিস্তানের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোওয়ারাজমি বলেন, ‘আফগানিস্তান এই নৃশংস হামলার ঘটনাকে সমস্ত আন্তর্জাতিক নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং পরিষ্কার আগ্রাসন বলে মনে করে... ইসলামি আমিরাত আফগানিস্তান এই কাপুরুষোচিত হামলার জবাব দেবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, আফগানিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আফগানিস্তানের বারমালের বাসিন্দা মালেল এএফপিকে বলেছেন, মঙ্গলবারের হামলায় এক পরিবারের ১৮ সদস্য নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, পাকিস্তানি বিমান থেকে দুই থেকে তিনটি বাড়িতে বোমাবর্ষণ করা হয়েছে। এতে কেবল একটি বাড়িতে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় ওই বাড়ির পুরো পরিবারের প্রাণহানি ঘটেছে।

এ ছাড়া অন্য একটি বাড়িতে হামলায় তিনজন নিহত ও আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মালেল। তিনি বলেন, পাকিস্তানি হামলায় আহতদের উদ্ধারের পর নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তালেবান কর্মকর্তারা বলেছেন, নিহতরা স্থানীয় বাসিন্দা এবং ওয়াজিরিস্তান থেকে পাকিস্তান সীমান্তে পালিয়ে এসেছিলেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের একজন সিনিয়র নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেছেন, ‘যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহার করে আফগানিস্তানের ভেতরে সন্ত্রাসীদের আস্তানাগুলোকে লক্ষ্য করে’ হামলাগুলো করা হয়েছিল।

মার্চে আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে মারাত্মক বিমান হামলার চালিয়েছিল পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। এর পরই দুদেশের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয়। তালেবান কর্তৃপক্ষের মতে, ওই হামলায় আটজন বেসামরিক নিহত হন।

পাকতিকার সীমান্তবর্তী উত্তর ওয়াজিরিস্তান ঐতিহাসিকভাবে জঙ্গিদের আস্তানা। ৯/১১-এর পর আফগানিস্তান দখলের সময় এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে চলমান পাকিস্তানি সামরিক আক্রমণ এবং মার্কিন ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল।

তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবান এবং তাদের আফগান সমকক্ষরা একটি অভিন্ন মতাদর্শ ভাগ করে নেওয়ার পরই এই হামলা হয়েছে। গত সপ্তাহে আফগানিস্তানের সীমান্তের কাছে একটি সেনা চৌকিতে অভিযান চালানোর দাবি করেছে পাকিস্তানি তালেবান। ওই হামলায় ১৬ পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন।

আফগানিস্তানের শাসনে তালেবান সরকার ফিরে আসার পর থেকে পাকিস্তান দেশের পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চলে জঙ্গি সহিংসতার পুনরুত্থানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে।

কাবুলের তালেবান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করেছে পাকিস্তান। দেশটি তাদের দায়মুক্তির সঙ্গে পাকিস্তানের মাটিতে হামলা করার অনুমতিও দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে ইসলামাবাদের।

তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে কাবুল। আফগানিস্তানের মাটি থেকে বিদেশি জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে উচ্ছেদ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।

তবে জুলাইয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, দেশটিতে প্রায় ছয় সাড়ে ছয় হাজার টিটিপি জঙ্গি রয়েছে। সেটিতে আরো বলা হয়, ‘তালেবানরা টিটিপিকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে কল্পনা করে না’।

সীমান্তে হামলার বৃদ্ধি ইসলামাবাদ-কাবুল সম্পর্ককে তিক্ত করে তুলেছে। নিরাপত্তার যুক্তি দেখিয়ে গত বছর কয়েক হাজার অনথিভুক্ত আফগান অভিবাসীকে উচ্ছেদের অভিযান চালিয়েছিল পাকিস্তান। এটিকেও চলমান উত্তেজনার অন্যতম একটি কারণ বলে মনে করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার, কাবুল সফরে থাকা আফগানিস্তানের জন্য পাকিস্তানের বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন উচ্চ-পর্যায়ের তালেবান কর্মকর্তারা।

২০২১ সালে আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান। এরপর থেকে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বেড়ে চলছে।

পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ জঙ্গিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। জঙ্গিদের পাকিস্তানের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সুযোগ দিচ্ছে। তবে ইসলামাবাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে কাবুল।

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ রবিবার সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ রবিবার বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছত্তিশগড়ে অভিযানে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত ছত্তিশগড়ে অভিযানে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত নাটোরে পুরাতন ডিসি বাংলোতে সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার নাটোরে পুরাতন ডিসি বাংলোতে সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার রবিবার জানা যাবে বাংলাদেশে কবে ঈদ রবিবার জানা যাবে বাংলাদেশে কবে ঈদ