weather ২৬.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৪% , শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ঐক্যহীন সংস্কার কিংবা সংস্কারহীন নির্বাচন সম্ভব নয়: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশ : ২৭-১২-২০২৪ ১২:৩৭

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঐক্যবিহীন সংস্কার কিংবা সংস্কারবিহীন নির্বাচন সম্ভব নয়। সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি একইসঙ্গে চলবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন শীর্ষক জাতীয় সংলাপে ভিডিও বার্তায় বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের দায়িত্ব কমিশনের, তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নাগরিকদের সেখানে কিছু করার নেই। তারা সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। ড. ইউনূস বলেন, গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধশক্তির অব্যাহত চক্রান্ত আমাদের ঐক্য আরো মজবুত করেছে। সংস্কারের মহাযজ্ঞে সবাইকে আনন্দের সঙ্গে যুক্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ রূপান্তরে পেছনে ফেরার সুযোগ নেই মন্তব্য করে ড. ইউনূস বলেন, ফ্যাসিবাদ বাংলাদেশকে সব রকমের আদর্শ থেকে বিচ্যুত করে গভীর অন্ধকারে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা আবারো সাম্য, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব।

সংলাপের ভাষণে শুরুতে ড. ইউনূস বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের সব যোদ্ধাদের। বিশেষ করে অভিবাদন জানাই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া ছাত্রজনতাকে। যারা আহত হয়েছেন, চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন, যাদের অঙ্গহানি হয়েছে তাদের প্রতি আমাদের ঋণ শোধ হওয়ার নয়। নতুন বাংলাদেশ গঠনে তাদের প্রেরণা ও অবদান জাতি কখনো ভুলতে পারবে না।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের রূপান্তর পর্বে প্রবেশ করার অধিকার অর্জন করেছি। এই রূপান্তর দ্রুত সফলভাবে কার্যকর করার জন্য আমাদের সব শক্তি নিয়োজিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকতে হবে। পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ আমাদের নেই। আমাদের এই কাঙ্ক্ষিত রূপান্তরের লক্ষ‍্য হবে সব ধরনের বৈষম্য অবসানের রাজনৈতিক আয়োজন নিশ্চিত করা, এ দেশে গণতান্ত্রিক ও নাগরিক সমতাভিত্তিক একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি বলেন, সংলাপে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো— ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’। সংস্কার বিষয়ে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য প্রয়োজন। এই তিন লক্ষ্যের কোনোটিকে ছাড়া কোনোটি সফল হতে পারবে না। ঐক্যবিহীন সংস্কার কিংবা সংস্কারবিহীন নির্বাচন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না। পাশাপাশি আমরা ভুলতে পারি না যে, আমাদের ছাত্রজনতা অটুট সাহসে শিশুহত্যাকারী ও পৈশাচিক ঘাতকদের মোকাবিলা করেছে। মানবতার বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুরতাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। গুম-খুন থেকে জুলাই গণহত্যার বিচারের চ্যালেঞ্জের বিষয়টি আপনারা আপনাদের সংলাপের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এতে আমি আশ্বস্ত হয়েছি।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আজকের ‘সংলাপের’ মূল লক্ষ্য হলো সবার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ কণ্ঠে ঘোষণা দেওয়া যে আমরা এই সুযোগ কিছুতেই হাতছাড়া হতে দেব না। আমরা একতাবদ্ধভাবে এই সুযোগের প্রতিটি মুহূর্ত সর্বোত্তম কাজে লাগাব। সংস্কারের যে মহান দায়িত্ব ঐতিহাসিক কারণে আমাদের কাছে এসে গেছে এই দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেককে, প্রতি নাগরিককে, রাজনৈতিক দলকে, প্রতিটি সামাজিক, অর্থনৈতিক, ব্যবসায়িক এবং ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর প্রত্যেককে দৃঢ়তার সঙ্গে সংস্কারের এই মহাযজ্ঞে আনন্দের সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আজকে আপনাদের সংলাপে ঘোষণা দিন- কে কীভাবে এই মহাগৌরবের দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, সংস্কারের কাজে সব নাগরিককে অংশগ্রহণ করতে হবে। যারা ভোটার তারা তো অংশগ্রহণ করবেনই, তার সঙ্গে যারা ভবিষ্যতে ভোটার হবেন তারাও সর্বাত্মকভাবে সংস্কারের কাজে নিজেদেরকে নিয়োজিত করুন।

ড. ইউনূস বলেন, সংস্কারের কাজটা নাগরিকদের জন্য সহজ করতে আমরা ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করে দিয়েছিলাম। তাদের প্রতিবেদন আমরা জানুয়ারি মাসে পেয়ে যাব। প্রত‍্যেক সংস্কার কমিশনের দায়িত্ব হলো প্রধান বিকল্পগুলো চিহ্নিত করে তার মধ‍্য থেকে একটি বিকল্পকে জাতির জন‍্য সুপারিশ করা। যার যার ক্ষেত্রে সংস্কারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কীভাবে রচিত হবে তা বিভিন্ন পক্ষের মতামত নিয়ে সুপারিশমালা তৈরি করে দেওয়া, নাগরিকদের পক্ষে মতামত স্থির করা সহজ করে দেওয়া।

তিনি বলেন, তবে কমিশনের প্রতিবেদনে সুপারিশ করলেই আমাকে আপনাকে তা মেনে নিতে হবে এমন কোনো কথা নেই। এ জন্য সর্বশেষ পর্যায়ে জাতীয় ঐকমত্য গঠন কমিশন করা হয়েছে।

এ সংলাপ দুদিন চলবে। উদ্বোধন করেন অভ্যুত্থানে আহত ও নিহত পরিবারের সদস্যরা। সংলাপ থেকে নির্বাচন ও সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে। প্রথম দিন দুটি অধিবেশন থাকবে। ‘ঐক্য কোন পথে’ শিরোনামের প্রথম অধিবেশনে রাজনীতিবিদদের মধ্যে থাকবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মাহমুদুর রহমান মান্না, সৈয়দ মহাম্মদ রেজাউল করিমসহ অনেকে। আর উপদেষ্টাদের মধ্যে থাকবেন আদিলুর রহমান খান, শারমীন মুরশিদ ও মাহফুজ আলম।

দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দেবেন উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ অনেকে।

সংলাপের দ্বিতীয় দিনে ‘গুম–খুন থেকে জুলাই গণহত্যা: বিচারের চ্যালেঞ্জ’, ‘সংস্কারের দায় ও নির্বাচনের পথরেখা’ এবং ‘ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা’ শিরোনামে তিনটি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এসব অধিবেশনে উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও এম তৌহিদ হোসেন। রাজনীতিকদের মধ্যে থাকবেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুলাহ মোহাম্মদ তাহের, জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

এ ছাড়া বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ও অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক হুসাইন খান। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেবেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. আলী রীয়াজ।

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ রবিবার সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ রবিবার বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছত্তিশগড়ে অভিযানে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত ছত্তিশগড়ে অভিযানে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত নাটোরে পুরাতন ডিসি বাংলোতে সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার নাটোরে পুরাতন ডিসি বাংলোতে সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার রবিবার জানা যাবে বাংলাদেশে কবে ঈদ রবিবার জানা যাবে বাংলাদেশে কবে ঈদ