weather ২৫.৭৯ o সে. আদ্রতা ৯৩% , বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আখাউড়ায় নারীকে হত্যা

খুনের বর্ণনা দিয়ে জবানবন্দি দিলেন ফারহান

প্রকাশ : ২৬-১২-২০২৪ ১২:১৩

ছবি : সংগৃহীত

পিপলসনিউজ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আখাউড়ায় শারমীন বেগম ওরফে হরলুজা বেগমের (৪৭) মাথা বিচ্ছিন্নের পর শরীর আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আসামি ফারহান ভূঁইয়া রনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জহিরুল ইসলাম তার জবানবন্দি নথিভুক্ত করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) শারমীন বেগমের বড় মেয়ে রুমা আক্তার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। 

পুলিশের দাবি, জবানবন্দিতে রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন ঘাতক রনি। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের একমাত্র মূল হোতা ফারহান। তিনি আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ ভূঁইয়ার ছেলে। স্থানীয়রা তাকে মাদকাসক্ত ও ছিনতাইকারী হিসেবে চিনেন।

স্থানীয়রা জানান, রনিকে কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন শারমীন বেগম। ফারহানের স্বজনের জায়গাতেই থাকতেন শারমীন ও তার স্বামী সন্তানেরা। পারিবারিকভাবে তাদের মধ্যে একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। এ অবস্থায় শারমীনকে পৈশাচাশিকভাবে হত্যার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না শারমীনের পরিবার। ওই পরিবারে এখন শোকের মাতম। ঘাতক ফারহানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন তারা।

পুলিশকে যা বলেছেন ফারহান

গত মঙ্গলবার ঘটনাস্থল থেকে আটকের পর ফারহান পুলিশকে একেক সময় একেক তথ্য দিয়ে আসছিলেন। তবে পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানান, হত্যার শিকার হরলুজার স্বামী নুরুল ইসলাম তাদের বাড়িতে থেকে পাঁচ দশক ধরে তার বাপ-দাদার জমিতে চাষাবাদের কাজ করছেন। সেই সুবাদে ফারহানের দাদা তাদের জায়গায় নুরুল ইসলামকে একটি ঘর তুলে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে নুরুল ইসলাম তার স্ত্রী হরলুজা বেগমসহ তিন কন্যা নিয়েই তাদের জায়গায় থাকতেন। 

তার দাবি, নুরুল ইসলাম কৃষি জমির পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদে কলা বিক্রি করতেন। এর মধ্যে তার বিবাহিত তৃতীয় মেয়ে তাদের বাড়িতে থাকছেন। গৃহবধূ হরলুজা তার তৃতীয় মেয়েকে ফারহানের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার জন্য খাবারের সঙ্গে প্রায়শই ঝাড়ফুঁক, তাবিজ ইত্যাদি করতেন। উদ্দেশ্য ছিল, যদি তার তৃতীয় মেয়েকে বিয়ে করেন, তাহলে তাদের সম্পদের একটা বড় অংশের মালিক বৈবাহিক সূত্রে নুরুল ইসলামের মেয়ে হবেন। এই বিষয়টি তিনি আঁচ করতে পারেন বলে দাবি করেন। এরপর হরলুজা বেগমের আচরণ নিয়ে প্রায়শই ক্ষুব্ধ হতেন। একপর্যায়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ওই নারীকে ভোর ৬টার দিকে বাবার অসুস্থতার কথা বলে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আসেন। পরে তাকে প্রথমে শ্বাসরুদ্ধ ও পরে জবাই করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। যেন কেউ তাকে চিনতে না পারেন।

ফারহান জানান, বাড়ির একটি পরিত্যক্ত টিনশেডের ঘরের ভেতরে গর্ত ভরে মস্তকবিহীন হরলুজার দেহটি আগুনে পুড়িয়ে দেন। আগুনে পোড়ার সময় ঘটনাস্থল বসাই ছিলেন ফারহান। একপর্যায়ে পাশের বাড়ির লোকজন তাদের বাড়ি থেকে রাতে চুরি হওয়া হাঁস খুঁজতে গিয়ে পরিত্যক্ত ঘরের ভেতর তাকে দেখতে পান। এ সময় ঘরের ভেতরে ধোঁয়া বের হতে দেখেন তারা, পরে সেখানে এগিয়ে যান। পরিত্যক্ত ঘরের ভেতরে কী হচ্ছে জানতে চান হাঁসের মালিক এনামুল-রুমান ও তাদের চাচাতো ভাই উবায়দুল। এ সময় ফারহান তাদের ঘরের ভেতরে না আসার জন্য বারণ করে এবং হুমকি দেন। একপর্যায়ে হারিয়ে যাওয়া হাঁসের মালিক তার আচরণ দেখে মধ্যে সন্দেহ জাগে, মনে করেন তাদের হারিয়ে যাওয়া হাঁস নিশ্চয়ই ফারহান চুরি করেছেন। পাশাপাশি সেখানে সে একটা কিছু করছে। পরে হাঁসের মালিক দুই ভাই এলাকার লোকজনকে ডেকে এনে সন্দেহজনকভাবে তাকে ধরে ফেলেন। একপর্যায়ে তারা ঘরের ভেতরে গিয়ে দেখেন ওই নারীর মস্তকবিহীন দেহ তিনি আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন। এ সময় ওই নারীর দেহ দেখে বোঝার উপায় ছিল না এটা কোনো পুরুষ না মহিলা।

খবর পেয়ে আখাউড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের অঙ্গার দেহ উদ্ধার করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ফারহানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করেন।

মামলার বাদীর বক্তব্য

এ ঘটনার পর নিহতের বড় মেয়ে রুমা আক্তার বাদী হয়ে ফারহান ভূঁইয়া রনিকে একমাত্র আসামি করে আখাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। রুমা বলেন, ঘাতক ফারহানসহ ওর ভাইবোনের জন্ম আমার মায়ের হাতের ওপর দিয়ে হয়েছে। তার প্রতিদান এভাবে দেওয়া হবে আমরা ভাবিনি। ওর বাবাকেও আমার মা-ই বিয়ে করিয়েছেন। এমন রোমহর্ষক ঘটনা ঘটাবে, আমরা চিন্তাও করিনি। তিনি দাবি করেন, চুরি করা হাঁস জবাই করে রান্না করার জন্য রনি মা হরলুজা বেগমকে চাপ দিয়েছিলেন। সেটি না করার কারণেই ক্ষুব্ধ হয়ে রনি এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ফাঁসি দাবি করছি।

মামলার এজাহারে বাদী বলেন, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ছয়টার দিকে আমার বাবা কলা বিক্রির জন্য ঘর থেকে বের হন। সকাল ৬টা ২০ মিনিটের দিকে সেখানে যান ফারহান। বাবা অসুস্থ বলে মাকে নিজেদের বাড়িতে যেতে অনুরোধ করেন। পরে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রহিমপুর পূর্বপাড়ায় ফারহানের পরিত্যক্ত ও ভাঙা ঘরের দোচালা টিনের চালের নিচে মাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছুরি দিয়ে গলা কেটে হরমুজাকে হত্যা করেন ফারহান। একপর্যায়ে মাথা সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে ৩০০ গজ দূরে পুকুরের দক্ষিণ পাশের জমিতে গর্ত করে রাখেন ফারহান। এরপর তিনি মাথাবিহীন শরীরের বাকি অংশে কম্বলে পেঁচিয়ে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করেন।

পুলিশের ভাষ্য

ঘটনা সম্পর্কে আখাউড়া থানার ওসি ছমিউদ্দিন জানান, দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে হরলুজা বেগম স্বামী-সন্তান নিয়ে ফারহানদের জায়গায় বসবাস করছিলেন। তিনি মাদকাসক্ত। প্রায়শই চুরি-ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় মাদক মামলা, চুরি ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে। আমরা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়েছি। পাশাপাশি নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, যেহেতু এই মামলার একমাত্র আসামি ফারহান, তাই মামলাটির তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ হবে বলে আশা করছি। আসামিও নিশ্চয়ই আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

কোনো সরকারপ্রধান ‘ভিক্ষার ঝুলি’নিয়ে যান না : চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সরকারপ্রধান ‘ভিক্ষার ঝুলি’নিয়ে যান না : চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন,নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন,নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায়, প্রকল্প চূড়ান্ত : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায়, প্রকল্প চূড়ান্ত : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আসামির দায়ের কোপে লালমনিরহাটে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত আসামির দায়ের কোপে লালমনিরহাটে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত