দক্ষিণখানে কিশোরীকে অপহরণের পর গণধর্ষণ করে হত্যা, বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার গ্রেপ্তার ২
প্রকাশ : ০৩-০২-২০২৫ ১৮:১২

ছবি- সংগৃহীত
সিনিয়র রিপোর্টার
রাজধানীর দক্ষিণখানে ১৩ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর পৈশাচিকভাবে গণধর্ষণ করে হত্যার ঘটনার রহস্য উদঘাটনসহ ঘটনায় জড়িত রবিন হোসেন (৩২) ও মো. রাব্বী মৃধা (২৬) নামে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির দক্ষিণখান থানা পুলিশ।
পিপলসনিউজ/এসসি
সোমবার (৩ ফেব্রুলারি) সকালে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
এর আগে, গত (৩০ জানুয়ারি) গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দক্ষিণখান থানা সূত্রে জানা যায়, গত (১৬ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর আড়াইটার দিকে নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর ১৩ বছর বয়সী অষ্টম শ্রেণীতে পড়ুয়া কিশোরী নিখোঁজ হয়। পরে এ সংক্রান্তে গত (১৯ জানুয়ারি) দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন নিখোঁজ কিশোরীর বাবা। পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় জানতে পারেন (১৬ জানুয়ারি) বিকালে দক্ষিণখানের জয়নাল মার্কেটের সামনে থেকে কয়েকজন মিলে কিশোরীকে একটি প্রাইভেটকারে উঠিয়ে নিয়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত (২৭ জানুয়ারি) তিনি দক্ষিণখান থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্তকালে কিশোরীর মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় গত (৩০ জানুয়ারি) রবিন হোসেন ও রাব্বী মৃধাকে গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেপ্তার করে দক্ষিণখান থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের গত (৩১ জানুয়ারি) আদালতে পাঠানো হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তাদের দুইদিনের পুলিশ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পুলিশ রিমান্ডে গ্রেপ্তারদের উক্ত ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে নয়টার দিকে হাতিরঝিল এলাকার রাস্তার ঢাল থেকে ওই কিশোরীর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করা হয়। কিশোরীকে হত্যার দায় স্বীকার করে রবিবার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে গ্রেপ্তার রবিন ও রাব্বি।
জবানবন্দিতে তারা বলে, ঘটনার দিন তারা ভিকটিমকে ফাঁদে ফেলে মহাখালীর একটি বাসায় নিয়ে যায়। এরপর তারা ভিকটিমের হাত, পা ও মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে পাঁচজন মিলে ধর্ষণ করে। পৈশাচিকভাবে ধর্ষণের ফলে কিশোরীটি মারা গেলে লাশ গুম করার পরিকল্পনা করে রবিন ও রাব্বি। পরবর্তীতে তারা লাশটিকে বস্তাবন্দী করে ঘটনার দিন মধ্যরাতে মহাখালী থেকে রিকশায় করে হাতিরঝিলের রাস্তার ঢালে ফেলে দেয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গণধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পিপলসনিউজ/এসসি
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com