পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিলেছে ১২ কোটি টাকা
প্রকাশ : ৩১-০৮-২০২৫ ১১:১৮

ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ পৌর শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন মাস পর পর দানবাক্সগুলো খোলা হলেও এবার চার মাস ১৭ দিন পর ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হয়েছে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ৭টায় ১৩টি দানবাক্স থেকে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। সঙ্গে পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা ও সোনার গয়না। সারাদিন গণনা শেষে দেখা যায়, তাতে রয়েছে ১২ কোটি নয় লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা।
রূপালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আলী হারেছী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মসজিদ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান, পুলিশ সুপার মো. হাছান চৌধুরীর উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয় শনিবার সকালে।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল ১১টি দানবাক্স খোলা হয়। তাতে পাওয়া যায় নয় কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। পাওয়া গিয়েছিল বেশ কিছু বিদেশি মুদ্রা ও সোনা-রুপার অলংকার। অনেকের মনোবাঞ্ছা পূরণের আকুতি পেশ করা চিরকুট এবং চিঠিও পাওয়া গিয়েছিল। এবারও তেমনটি পাওয়া গেছে।
গত ৪ জুলাই থেকে দূরদূরান্তের ভক্তদের জন্য চালু করা হয়েছে ডোনেশন ওয়েবসাইট। জেলা প্রশাসক জানান, দানবাক্সের বাইরে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও গত শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া গেছে পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকা। দানবাক্স এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া এসব টাকা রূপালী ব্যাংকে মসজিদের হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। জনগণের দাবি অনুযায়ী অনুদানের জন্য একটি বাংলা ওয়েবসাইটও খোলা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
শনিবার দুটি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক ও রূপালী ব্যাংকের স্টাফসহ মোট ৪১০ জন সারিবদ্ধভাবে মেঝেতে বসে টাকা গণনায় অংশ নেন। তারা টাকাগুলো মুদ্রামান অনুযায়ী আলাদা করে রাখেন। সেগুলো ব্যাংকের কাউন্টিং মেশিনে গণনা করে ১০০টি নোটের পৃথক বান্ডেল বাঁধা হয়। পুলিশের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন সেনা, র্যাব ও আনসার সদস্যরা।
জেলা প্রশাসক ফৌজিয়া খান বলেন, প্রতি তিন মাস অন্তর দানবাক্স খোলার কথা থাকলেও এবার এইচএসসি পরীক্ষাসহ নানা কারণে খোলা হলো চার মাস ১৭ দিন পর। দানবাক্সের বাইরেও মানতকারীরা গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, কবুতর, দুধ এবং সবজিও দান করে থাকেন। এগুলো প্রতিদিন বিকালে উন্মুক্ত নিলামে বিক্রি করে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়। এখন পর্যন্ত মসজিদের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯১ কোটি টাকা জমা আছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আরো বলেন, পাগলা মসজিদের সাড়ে পাঁচ একর জায়গা আছে। আরো জায়গা কেনা হবে। এখানে একটি ১০ তলা মাল্টিপারপাস মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে। এজন্য বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ দলকে ডিজাইন করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com