পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠক আয়োজন করতে উদ্যোগী ট্রাম্প
প্রকাশ : ১৯-০৮-২০২৫ ১১:০১

ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে একের পর এক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৮ আগস্ট) হোয়াইট হাউসে দিনভর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং ইউরোপের সাতজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার সঙ্গে একাধিক বৈঠক শেষে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির মধ্যে সরাসরি বৈঠক আয়োজনের লক্ষে কাজ তিনি শুরু করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই বৈঠকের পর তিনজনকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকও অনুষ্ঠিত হবে।
ট্রাম্প নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে লেখেন, বৈঠকের দিন-তারিখ ও স্থান এখনো নির্ধারিত না হলেও পুতিনের সঙ্গে এ নিয়ে টেলিফোনে তার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বৈঠক চলাকালেই রুশ প্রেসিডেন্টকে ফোন করেন তিনি, যা চলেছে প্রায় ৪০ মিনিট। ট্রাম্প বলেন, চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের জন্য এ উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাথমিক পদক্ষেপ। পুতিন ও জেলেনস্কি চাইলে আমরা এ যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারব।
হোয়াইট হাউসের বৈঠকে প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো এ নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ইউক্রেনকে খুব শক্তিশালী নিরাপত্তা দেব, যাতে দেশটি ভবিষ্যতে নিরাপদে থাকতে পারে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, যুদ্ধ বন্ধের জন্য ‘নিরাপত্তা নিশ্চয়তা’ই হবে কার্যকর সূচনা বিন্দু।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে। আলোচনার মাঝে পুতিনকে ফোন করার পর আবারও বৈঠক শুরু হয় এবং বৈঠকের শেষে ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন।
ওভাল অফিসে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, বিশ্বে ছয়টি যুদ্ধ আমি থামিয়েছি। ভেবেছিলাম ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হয়তো সহজ হবে, কিন্তু এটি সবচেয়ে কঠিন। তবে আমি আত্মবিশ্বাসী, সমাধান খুঁজে পাব। তিনি আরো বলেন, মানুষ মারা যাচ্ছে, আমরা সেটি থামাতে চাই। আমি বিশ্বাস করি, পুতিনও যুদ্ধ শেষ করতে চান। ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুদ্ধবিরতি নয়, সরাসরি শান্তিচুক্তিই সঠিক পথ।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, সবচেয়ে ভালো বৈঠক হয়েছে। হত্যাযজ্ঞ থামাতে এবং যুদ্ধ বন্ধ করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রচেষ্টার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তিনি জানান, তিনি ট্রাম্পকে যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্র দেখিয়েছেন এবং কোন কোন এলাকা কার দখলে আছে তা ব্যাখ্যা করেছেন। পাশাপাশি পুতিনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার জন্য তিনি প্রস্তুত আছেন বলেও স্পষ্ট করে দেন।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বৈঠককে ‘খুবই সফল’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পকে একজন ‘বাস্তববাদী শান্তিপ্রতিষ্ঠাকারী’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্প চাপ প্রয়োগ করছেন, একইসঙ্গে সমাধানের পথও খুঁজছেন। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আয়োজনের দিকেই আমরা এগোচ্ছি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বৈঠক শেষে জানান, ভবিষ্যতে ইউক্রেনে ইউরোপীয় সেনাদের শান্তিরক্ষার কাজে অংশগ্রহণ করা উচিত হবে। তার ভাষায়, আমাদের একটি শক্তিশালী ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী দরকার। পাশাপাশি শান্তিরক্ষার জন্য ইউরোপীয় মিত্রদের সেনা পাঠানোর প্রয়োজন হবে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি রাশিয়া যুদ্ধ থামাতে না চায়, তবে ট্রাম্প মস্কোর সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারেন। এর উদাহরণ হিসেবে তিনি ভারতের ওপর ট্রাম্পের তেলের বাড়তি শুল্ক আরোপের কথা উল্লেখ করেন।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com