weather ২৬.৯৯ o সে. আদ্রতা ৭৪% , শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পৃথক ঘটনায় অন্তঃসত্ত্বা, শিশু ও শিক্ষার্থী ধর্ষিত

প্রকাশ : ১০-০৩-২০২৫ ০০:২৩

প্রতীকী ছবি

পিপলসনিউজ ডেস্ক
মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনার পর উত্তাল দেশ। এর মাঝে গত শনিবার ও বৃহস্পতিবার সারাদেশে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অধিকাংশ ঘটনা রবিবার (৯ মার্চ) প্রকাশ্যে আসে। 

এর মাঝে রাজধানীর কেরাণীগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ করেন কিশোর গ্যাংয়ের একাধিক সদস্য। অন্য ঘটনায় রাজধানীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এক রিকশাচালক বাবাকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। আরেক ঘটনায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গত শনিবার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে সে দৃশ্য নিজের স্মার্টফোনে ধারণ করেন এক যুবক। আরেকটি ঘটনায় শেরপুরের নকলা উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে গাজীপুরে এক মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষককে আটক করা হয়। পরে তিনি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, শয়তানের প্ররোচনায় তিনি কাজচি করেছেন। 

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কেরানীগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ: ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে (২০) দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণেরা ‘কিশোর গ্যাংয়ের’ সদস্য বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, যে বাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, সেটি মাসখানেক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এই সুযোগে সন্ধ্যা হলেই সেখানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক ও জুয়ার আসর বসাত।

গত শনিবার দিবাগত রাতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পানগাঁও ঋষিপাড়া এলাকায় পরিত্যক্ত ওই বাড়ি থেকে এক নারীর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীকে উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িত দুজনকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান অভিযুক্ত আরো দুজন।

এ ঘটনায় রবিবার সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। এতে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পানগাঁও বটতলা এলাকার আশরাফুল ইসলাম ওরফে সিয়াম (২০), জীত সরকার (১৯), মো. লিমন (১৮) ও মো. ইয়াসিনকে (১৮) আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আশরাফুল ও জীত গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাকি দুজন পলাতক। স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগী নারীকে রবিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

মামলার এজাহার, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এক বছর আগে ভুক্তভোগী নারী পরিবারের অমতে এক যুবককে বিয়ে করেন। বর্তমানে তিনি সাড়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ১৫ দিন আগে মনোমালিন্য থেকে স্বামী তাকে ঢাকার ভাড়া বাসায় একা রেখে চলে যান। মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। স্বামীর কোনো খোঁজ না পেয়ে ওই নারী বাবার বাড়ি চাঁদপুরে ফিরে যান। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা তাকে আশ্রয় দিতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে গত শুক্রবার সকালে তিনি চাঁদপুর থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় ফিরে আসেন। রাজধানীর একটি মাজারে তিনি ওই রাত যাপন করেন।

শনিবার সন্ধ্যার পর ওই নারী পোস্তগোলা সেতু পার হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় স্থানীয় অটোরিকশাচালক আশরাফুল ও জীত তাকে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশায় করে পানগাঁও ঋষিপাড়া নয়াবাড়ী এলাকার ওই বাড়িতে নিয়ে যান। পরে তারা লিমন ও ইয়াসিন নামের আরো দুজনকে সেখানে ডেকে নেন। রাতে সেখানে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হচ্ছিল। একপর্যায়ে রাত একটার দিকে ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আশরাফুল ও জীতকে আটক করেন। অন্য দুজন লিমন ও ইয়াসিন কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পরে খবর পেয়ে পুলিশ এসে দুজনকে আটক করে এবং অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।

রবিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সাত ফুট উঁচু সীমানাদেয়াল ঘেরা জায়গার মাঝখানে একটি টিনশেড ঘর। ঘরের ফটক তালাবদ্ধ। জানালা আটকানো। জনশূন্য বাড়িটি ভুতুড়ে অবস্থায় পরিণত হয়েছে।

ওই বাড়িটির দেখভাল করেন মন্টু মিয়া নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ‘এই বাড়ির মালিক আমার খালাতো ভাই। সে বিদেশ থাকে। পাঁচ থেকে ছয় বছর আগে এখানে এক পরিবারকে থাকতে দিই। মাসখানেক আগে তারা চলে গেলে বাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকে। রবিবার সকালে লোকমুখে জানতে পারি, কে বা কারা এ বাড়িতে এক মেয়েকে এনে ধর্ষণ করেছে।’

ঋষিপাড়ার বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, ‘শনিবার রাত একটার দিকে ওই বাড়ি থেকে এক মেয়ের চিৎকার শুনতে পাই। তখন ঘরের জানালা খুলে দেখি ওই বাড়িতে লোকজনের ভিড়। পরে সেখানে গিয়ে জানতে পারি, কয়েকজন ছেলে এক মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এ সময় এলাকাবাসী দুই ধর্ষককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঋষিপাড়া এলাকার একাধিক বাসিন্দা বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার আশরাফুল, জীত, তার সহযোগী লিমন ও ইয়াসিন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তারা মাদক ব্যবসা ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত। তারা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে মাদক সেবন ও জুয়া খেলেন। তাদের সঙ্গে কিশোর বয়সী ছেলেরাও আসত। ভয়ে এলাকাবাসী কিছু বলতে সাহস পেতেন না। এলাকাবাসীর মতে, এলাকায় পুলিশের টহল থাকলে এ ঘটনা ঘটত না। তারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, রবিবার ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। এ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তারা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য কিনা, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে রবিবার বিকালে গ্রেপ্তার দুজনকে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের জাজিরা পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন মিয়া বলেন, আদালতে দুই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তাদের প্রত্যেকের চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

ধর্ষণের অভিযোগ, বাবা গ্রেপ্তার: রাজধানীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এক রিকশাচালককে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। রামপুরা থানার এসআই শফিকুর রহমান বলেন, রিকশাচালক আনোয়ারুল ইসলাম ভূক্তভোগী শিশুটির বাবা।

শনিবার রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়া বৌবাজার এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। শফিকুর রহমান বলেন, মাস খানেক আগে তিন সন্তানকে রেখে আনোয়ারুল ইসলামের স্ত্রী মারা যান। একটি ঘরেই তিন মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তিনি। ধর্ষণের শিকার ওই শিশুকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।

এসআই শফিকুর বলেন, পরিবারটি হতদরিদ্র। ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে ওসিসিতে নেওয়া হয়েছে। তার বাবাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ভিডিও ধারণ, অভিযুক্ত যুবক গ্রেপ্তার: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় গত শনিবার তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে সে দৃশ্য নিজের স্মার্টফোনে ধারণ করেন এক যুবক। পরে মো. আরমান মিয়া (২৭) নামের ওই যুবককে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় জনতা।

অভিযুক্ত আরমান মিয়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী ইউনিয়নের মো. শামসুল হকের ছেলে। আর নির্যাতনের শিকার ওই শিশুর (৮) বাড়ি উপজেলার বরমী ইউনিয়নে।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের শালবনের ভেতর থেকে আরমান মিয়াসহ ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ। এদিকে ওই যুবককে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় জনতা। ওই তরুণ ইয়াবা সেবন করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

কয়েক বছর ধরে ঘটনাস্থলের পাশে মাঝেরটেক এলাকায় বন বিভাগের জমিতে কুঁড়েঘর বানিয়ে বসবাস করছেন আরমান। সেখানে থেকে বিভিন্ন জায়গায় দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাজ করেন তিনি।

নির্যাতনের শিকার শিশুর বাবা জানান, শনিবার দুপুর থেকেই তার মেয়েকে বাড়িতে পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর তারা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় বনের ভেতর চিৎকারের শব্দ শুনে সেদিকে এগিয়ে যান স্থানীয় পথচারীরা। পরে বনের ভেতর নির্জন স্থানে হাতেনাতে আটক করা হয় আরমানকে। আটকের পর শিশুটি জানায়, তাকে ধর্ষণ করে সে দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করেছে আরমান। পরে আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ ধারণ করে তার তিন বন্ধুর মোবাইল ফোনে পাঠিয়েছেন। এরপর তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়। পরে পুলিশে খবর দিয়ে আরমানকে তাদের জিম্মায় দেওয়া হয়।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শামীম আখতার বলেন, আরমানকে পুলিশি হেফাজতে আনা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরমান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। 

শেরপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেপ্তার: শেরপুরের নকলা উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে নকলা উপজেলায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে রাতেই বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন নকলা থানার ওসি হাবিবুর রহমান।

গ্রেপ্তার ৬০ বছর বয়সী চান মিয়া ওরফে লছা মিয়ার সঙ্গে ওই শিশুটির প্রতিবেশি দাদা-নাতনি সম্পর্ক। রবিবার লছা মিয়াকে আদালতে পাঠানো হলে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।

মামলার বরাতে পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে চান মিয়া শিশুটিকে ‘মজা খাওয়ানোর’ কথা বলে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। এ সময় শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তাকে ২০ টাকা হাতে দিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন। টের পেয়ে শিশুটির মা ভুট্টা ক্ষেতে গিয়ে দেখেন ভুক্তভোগী শিশুটি মাটিতে কাতরাচ্ছে। শিশুটিকে ফেলে রেখে দৌড়ে পালাচ্ছেন চান মিয়া।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে চান মিয়া শিশু প্রতিবেশি নাতনিকে মজা খাওয়নোর লোভ দেখিয়ে বাড়ির পাশের একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তাকে শান্ত করার উদ্যেশে কিছু কিনে খাওয়ার জন্য ২০ টাকা হাতে দেয়।

শিশুটির মা পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে ধর্ষণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে শিশুর বাবা নকলা থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন। পরে চান মিয়া এলাকার বিভিন্ন জনের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে আপোস-মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।

ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, শিশুকে ধর্ষণে থানায় মামলা হলে অভিযান চালিয়ে রাতেই চান মিয়াকে (লছা মিয়া) গ্রেপ্তার করা হয়। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শেরপুর জেলা সদর হাপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ওসি।

ঠাকুরগাঁওয়ে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ, শিক্ষক কারাগারে: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। গত শনিবার দুপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হক মানিককে আটক করা হয় বলে জেলা পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঘটনার দিন রাতেই সদরের ভুল্লী থানায় শিক্ষক মোজাম্মেল হক মানিকের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। শিশুটিকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শিশুটির মা সাংবাদিকদের বলেন, রোজার মধ্যে অতিরিক্ত ক্লাসের কথা বলে তার মেয়েকে স্কুলে ডেকে নিয়ে যায় শিক্ষক মানিক। তারপর দুপুরে অন্য শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলেন। সবাই চলে গেলে শ্রেণিকক্ষের দরজা বন্ধ করে মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়।

তারপর শিক্ষক নিজের মোটরসাইকেলে করে ছাত্রীকে বাড়ির পাশে রেখে যান। বাড়িতে গিয়ে মেয়ে কান্নাকাটি করে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। স্কুলে যাওয়ার আধা ঘণ্টা পরেই সে বাড়ি চলে আসে। তখন পরিবার তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তণ ছাত্র দাবি করেন, এর আগেও একজন ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ণের অভিযোগে শিক্ষক মানিক ছয় মাস বহিষ্কৃত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রকিবুল আলম চয়ন বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ হয়েছে। বাকি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বিস্তারিত বলা যাবে।

এদিকে এ ঘটনার শিক্ষককে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। রবিবার সকালে তাকে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলামের আদালতে তোলা হলে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিন আদালতে তোলার সময় অভিযুক্ত ওই শিক্ষককে দেখেই উৎসুত জনতা গণধোলাই দেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। অন্যদিকে ধর্ষকের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে ছাত্র-জনতার ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে তারা।

এ সময় তারা ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে আরো কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন। পরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করেন। তাদের শান্ত করতে জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা আশস্ত করে বলেন, কোনোভাবেই যেন অপরাধী আইনের ফাঁক দিয়ে বের না হতে পারে, তা নিশ্চিত করা হবে। প্রমাণিত হলে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে অপরাধীর।

সাভারে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত ছাত্র গ্রেপ্তার: সাভারে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অশ্লীল ভিডিও ধারণের পর তা ইন্টারনেটে ছড়ানোর ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণের অভিযোগে আয়াতুস সিয়াম (২৫) নামে এক কলেজ ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাতে সাভার পৌরসভার বিনোদবাইদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। রবিবার সকালে মামলার একমাত্র আসামি আয়াতুস সিয়ামকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল। 

অভিযুক্ত আয়াতুস সিয়াম সাভার সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও সাভার পৌরসভার বিনোদবাইদ এলাকার হামিদুল হক সুমনের ছেলে। 

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আশিক ইকবাল বলেন, ধর্ষণের অভিযোগে আয়াতুস সিয়ামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্তের মোবাইল ও ল্যাপটপ জব্দ করে ফরেনসিক ল্যাবে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। 

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার শিক্ষক বললেন, শয়তানের ধোঁকায় পড়ে করে ফেলেছি: গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদ্রাসায় শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দেন। পরে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা।

গ্রেপ্তার আবদুল মালেক (২৫) উপজেলার মাওনা এলাকার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেঙ্গুরা গ্রামে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার মাদ্রাসায় সাত বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন শিক্ষক আবদুল মালেক। এর পর থেকে শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাচ্ছিল না। শনিবার সে ওই ঘটনার কথা পরিবারের সদস্যদের জানায়। এদিন সন্ধ্যায় তার পরিবারের সদস্য ও এলাকার লোকজন আবদুল মালেককে আটক করেন। একপর্যায়ে তিনি ধর্ষণচেষ্টার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে আবদুল মালেকের ধর্ষণচেষ্টার কথা স্বীকার করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে আতিকুর রহমান নামের একটি ফেসবুক আইডিতে ৫৪ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করা হয়েছে। ওই ভিডিওতে ধর্ষণচেষ্টার কথা স্বীকার বলে আবদুল মালেক বলছেন, ‘আমি শয়তানের ধোঁকায় পড়ে করে ফেলেছি। এমন কাজ আমি আর কখনো করিনি। তাকে খারাপ কাজ করিনি।’

শ্রীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আখতার বলেন, অভিযুক্ত আবদুল মালেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে শনিবার রাতে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিশুটির বাবা মামলা করেছেন। গতকাল রবিবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। 

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ রবিবার সৌদি আরবে চাঁদ দেখা গেছে, ঈদ রবিবার বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ২৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছত্তিশগড়ে অভিযানে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত ছত্তিশগড়ে অভিযানে ১৬ মাওবাদী গেরিলা নিহত নাটোরে পুরাতন ডিসি বাংলোতে সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার নাটোরে পুরাতন ডিসি বাংলোতে সংসদ নির্বাচনের ১০০ বস্তা ব্যালট পেপার রবিবার জানা যাবে বাংলাদেশে কবে ঈদ রবিবার জানা যাবে বাংলাদেশে কবে ঈদ