ইসির সীমানা পুনর্নির্ধারণ শুনানিতে হাতাহাতি
রুমিন ফারহানা ও এনসিপি নেতাদের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
প্রকাশ : ২৫-০৮-২০২৫ ০০:১৪

ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) শুনানিতে হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কি, কিল-ঘুষি এমনকি প্রকাশ্যে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রবিবারের (২৪ আগস্ট) এ ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতারা অভিযোগ করেছেন, বিএনপির নেত্রী রুমিন ফারহানা ও তার সমর্থকরা দায়ী। এনসিপি পরে ইসিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এ সময় এনসিপির নেতারা রুমিন ফারহানার গ্রেপ্তার দাবি করেন। আর হামলার ঘটনায় বিচার না হলে ইসি পুনর্গঠনের দাবিও জানান।
ঘটনার ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ইসির শুনানির মঞ্চেই নেতাকর্মীরা পরস্পরকে মারধর করেছেন, একজন নেতাকে লাথি মেরে ফেলে দেওয়া হয়, ছিঁড়ে ফেলা হয় পাঞ্জাবি, আহত হন অনেকে। অপরদিকে, রুমিন ফারহানা পাল্টা অভিযোগ করেছেন, তাকে এবং তার দলকে উসকানি দিয়ে আক্রমণের শিকার করা হয়েছে।
ঘটনার পেছনে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ ঘিরে বিরোধ। এনসিপি দাবি করছে, জনগণের মতো উপেক্ষা করে তিনটি ইউনিয়ন ভৌগোলিক ও সামাজিক বাস্তবতা না মেনে কেটে ফেলা হয়েছে, যা তারা মেনে নিতে পারছেন না। অন্যদিকে, রুমিন ফারহানা যুক্তি দিচ্ছেনÑভোটার ভারসাম্য ও ভৌগোলিক যুক্তির দিক থেকে এই পরিবর্তন সঠিক। এ ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে ইসিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করা হয়। ইসি কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ পুরো ঘটনার সময় তারা ছিলেন নির্বিকার। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের ওপর জমা হওয়া আবেদনের ওপর শুনানি চলে গতকাল। দুপুর ১২টায় এই শুনানি শুরু হয়। শুনানিকালে বেলা একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহর অভিযোগ, তিনিসহ তার দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। হামলা চালিয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ও তার সঙ্গে থাকা দলীয় নেতা-কর্মীরা।
রুমিন ফারহানার দাবি, আতাউল্লাহ পরিচিত মুখ নন। তিনি এনসিপি থেকে এসেছেন, না জামায়াত থেকে এসেছেন, তা তিনি জানেন না। প্রথমে তাকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। তারপর তো আর তার লোকজন বসে থাকবেন না। তার লোকজনও জবাব দিয়েছেন।
আতাউল্লাহর দেখানো একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রুমিন ফারহানা স্টেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। পেছন আতাউল্লাহ নিচে পড়ে আছেন। তাকে কয়েকজন লাথি-কিল-ঘুষি দিচ্ছেন।
আতাউল্লাহ বলেন, শুনানিতে রুমিন ফারহানা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। কিন্তু যখন আমি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে যাই, তখন রুমিন ফারহানা আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়ে স্টেজ দখলে নেন। পরে তার নেতাকর্মীরা আমাকে ফুটবলের মতো লাথি দেওয়া শুরু করেন। যেভাবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমাদের ক্যাম্পাসে পিষত, সেভাবে সবার সামনে আমাকে নিচে ফেলে পিষছে। আমার পাঞ্জাবি ছিঁড়ে ফেলেছে। হাতে আঘাত করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন তখন কী করেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে আতাউল্লাহ বলেন, নির্বাচন কমিশন তখন আর কাউকে কথা বলতে দেয়নি। বিএনপি ছাড়া শুনানিতে জামায়াতে ইসলামীকেও কথা বলতে দেওয়া হয়নি।
এনসিপির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল হক চৌধুরী বলেন, আমাদের দাবি হলো বিজয়নগরকে একত্র রাখা। রুমিন ফারহানা তিনটি ইউনিয়নকে বাগিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। যখন আমরা শুনানি করতে যাই, তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনের সামনে রুমিন ফারহানা ও তার গুন্ডাবাহিনীর সদস্যরা আমাদের ওপর হামলা করেন। সবার সামনে আমাদের নিচে ফেলে যেভাবে পিষেছে, তাতে বোঝায়, এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন কখনো হবে না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসন থেকে কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ)-এর সঙ্গে যুক্ত করার খসড়া করেছে ইসি। এই ইউনিয়নগুলো হলো বুধন্তী, চান্দুরা ও হরষপুর। এর পক্ষে রুমিন ফারহানা।
মারামারির বিষয়ে খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, এখানে আসলে এনসিপির সঙ্গে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার একটা তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। এটা আসলে দুঃখজনক ও অনাকাক্সিক্ষত। এই লেভেলে এসে এই ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক।...কমিশন শুনানি নিয়েছে। কিছু হট্টগোল হয়েছে, যেখানে আমাদের প্রতিপক্ষ অনেক ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছে, যেগুলো কোনো যৌক্তিক নয়। আমরা মনে করি, এই তিনটি ইউনিয়ন সদর বিজয়নগরের সঙ্গেই থাকা উচিত।
খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, বিজয়নগরের ১০টি ইউনিয়ন থেকে তিনটি ইউনিয়ন আশুগঞ্জ ও সরাইলের সঙ্গে নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের খসড়া করা হয়েছে। কিন্তু বিজয়নগরের এই তিন এলাকার লোকজন সরাইল ও আশুগঞ্জের সঙ্গে যেতে চাচ্ছেন না। তারা এই তিনটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সঙ্গে রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
শুনানির শুরুতে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা পেশাদারত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। আইন অনুযায়ী খসড়া সীমানা নিয়ে দাবি আপত্তির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আপনাদের আবেদনগুলো আমরা বিবেচনায় নিয়েছি। এখন শুনানিতে যৌক্তিক বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
১৫ বছরে যেটা হয়নি, আজ সেটাই হলো-রুমিন ফারহানা: আমি ভেবেছিলাম, নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা রক্ষায় কেউ গুন্ডাপান্ডা নিয়ে ঢুকবে না। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী (খালেদ হোসেন মাহবুব) ২০ থেকে ২৫ জন নিয়ে এসে গুন্ডামি করেছেন। ১৫ বছরে যেটা হয়নি, আজ সেটাই হলোÑঅলমোস্ট আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যে বিএনপির নেতা-কর্মীদের জন্য ১৫ বছর লড়েছি, তারাই আমাকে ধাক্কা দিল। কথাগুলো বলেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা।
রবিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে শুনানিতে ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুষির ঘটনার পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রুমিন ফারহানা।
অভিযোগ করে রুমিন ফারহানা বলেন, কমিশনে আমি ভদ্রলোক নিয়ে এসেছি, গুন্ডা নয়। কিন্তু তারা আবোল-তাবোল বলে যাচ্ছিল। শেষ দিকে আমি বক্তব্য দিতে দাঁড়ালে আমাকে ধাক্কা দেওয়া হয়। আমার লোকজনকে মারধর করা হলে তারাও প্রতিউত্তর দিয়েছে।
দুপুর ১২টার দিকে নির্বাচন কমিশনের এই শুনানি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পর রুমিন ফারহানার এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও পাশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে শুনানি হয়। এর এক পর্যায়ে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে।
সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সব সময় বলেছেন, ২০০৮ সালের আগের সীমানায় বিএনপি নির্বাচন করতে চায়। বর্তমান সীমানা ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের সুবিধায় নির্ধারণ করেছে। আমরা চাই, ২০০৮ সালের আগের সীমানায় ফিরে যাওয়া হোক।
এই অবস্থানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, বর্তমান সীমানায় ভোটার সংখ্যায় ভারসাম্য নেই। আমাদের আসনে ভোটার প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার, বিজয়নগরে ৬ লাখ ১০ হাজার আর সদরে ৬ লাখ। সরাইলের সঙ্গে যদি বুধন্তী, চান্দুরা ও হরষপুর ইউনিয়ন যুক্ত হয়, তবে ভোটার সংখ্যায় ভারসাম্য তৈরি হবে।
ওই তিন ইউনিয়নের বাসিন্দারা ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে সরাইলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, তাদেরকে দাপ্তরিক কাজ ও জমি রেজিস্ট্রি সরাইল উপজেলাতেই করতে হয়। যাতায়াতের দিক থেকেও সরাইল তাদের জন্য সহজ।
রুমিন ফারহানার গ্রেপ্তার দাবি এনসিপির, ইসি পুনর্গঠনের হুঁশিয়ারি: ইসির শুনানিতে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে নির্বাচন ভবনে বিএনপির হামলার বিচার না হলে কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে দলটি। রবিবার নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান এনসিপির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, রুমিন ফারহানার নেতৃত্বে ও নির্দেশে আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। হামলা ঠেকাতে নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হয়েছে। তাকে (রুমিন ফারহানা) গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আমরা সিইসি ও অন্যান্য কমিশনারদের পদত্যাগ দাবি করবো।
বিএনপির ‘আওয়ামী লীগবিষয়ক সম্পাদকদের’ মধ্যে অন্যতম রুমিন ফারহানা-হাসনাত আব্দুল্লাহ: এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে রুমিন ফারহানাকে ‘বিএনপির আওয়ামী লীগবিষয়ক অন্যতম সম্পাদক’ বলেছেন দলটির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি অভিযোগ করেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি কীভাবে ভোটকেন্দ্র দখল করবে তার একটি ‘টেস্ট ম্যাচ’ হয়ে গেল শুনানিতে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে।
রুমিন ফারহানার সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপির আওয়ামী লীগবিষয়ক সম্পদক রয়েছেন অনেকেই। যারা আওয়ামী লীগ থেকেও বেশি আওয়ামী লীগ। বিএনপির আওয়ামী লীগবিষয়ক সম্পাদক যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম রুমিন ফারহানা। আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী, আওয়ামী লীগের ফ্ল্যাটভোগী এবং যারা গুন্ডা দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঠাণ্ডা করে দিকে চায়, একটি প্রেসক্রিপটিভ ইলেকশনের দিকে আবার যেতে চায়, আমরা বিএনপির এই আওয়ামীবিষয়ক সম্পাদকদের বলব- আপনারা জনগণের পালসকে বুঝুন, ২৪-পরবর্তী জনগণের পালসকে বুঝুন। নতুবা আবার বাংলাদেশ সংকটের দিকে যাবে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ন্যক্কারজনক ঘটনাই প্রমাণ করছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের সন্ত্রাসীরা কী ভূমিকা রাখবে আর পুলিশ কেমন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করবে।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করে বলেন, রুমিন ফারহানা নিজেই বলেছেন, আমরা চাইলে গুন্ডা আনতে পারতাম। এর মানে তারা গুন্ডাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে। আজকের ঘটনা আসলে একটি টেস্ট ম্যাচ, কীভাবে তারা ভোটকেন্দ্র দখল করবে। আমরা পুলিশকে দেখেছি বিএনপির পক্ষে সুবিধা দিচ্ছে, আমাদের বাধা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে এই কমিশন আসলে একটি পার্টি অফিসে পরিণত হবে। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন চাই। সেজন্য কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। অন্যথায় পুনর্গঠন ছাড়া উপায় থাকবে না।
এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জমা দেব এবং পর্যবেক্ষণ করব তারা কী ব্যবস্থা নেয়। জনগণের জন্যই পুলিশের কাজ হওয়া উচিত, ক্ষমতার দাস হওয়া নয়। যদি জনগণ পাশে থাকে, তাহলে গুন্ডাতন্ত্র টিকে থাকতে পারবে না। আমরা চাই, নির্বাচন কমিশনের বস্তুনিষ্ঠ আচরণ। না হলে এই কমিশনের পুনর্গঠন জরুরি। আমরা শিগগিরই কমিশনের নানা অনিয়ম আপনাদের সামনে তুলে ধরব। বিএনপির আগ্রাসী মনোভাব, গুন্ডাতন্ত্র ও তোষণ নীতি যদি তারা সংশোধন না করে, তবে তাদের গণপ্রতিরোধের মুখে পড়তে হবে।
এ সময় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন (শিশির) বলেন, আমরা প্রতিবাদ জানাতে এখানে এসেছি। আমরা ইসির কাছে কোনো ভিক্ষা চাইতে আসিনি, দয়া চাইতেও আসিনি। আমরা বিশ্বাস করি, ইসির দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষ থাকা। কিন্তু যদি ইসি কোনো দলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে আচরণ করে, নয়াপল্টনের দপ্তরের ভূমিকা পালন করতে চায়, তবে সেটা বাংলাদেশে হতে দেওয়া যাবে না। আমরা বহুবার বলেছিÑ এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। যার প্রমাণ ইসির সামনেই আমাদের নেতা আতাউল্লাহর ওপর হামলা।
ইসিতে অভিযোগ দায়ের এনসিপি নেতার: ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ও নির্বাচন কমিশনারদের (ইসি) বিরুদ্ধে সংস্থাটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সংগঠক আতাউল্লাহ। গতকাল রবিবার ইসির সিনিয়র সচিব বরাবর এ অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
অভিযোপত্রে আতাউল্লাহ বলেন, অত্যন্ত সংক্ষুব্ধ চিত্তে জানাচ্ছি, নির্বাচন কমিশন আমার নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সীমানা পুননির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সেখানে বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সংযুক্ত করলে এলাকাবাসী সংক্ষুব্ধ হয়। তাদের অনুরোধে এবং তাদের পক্ষে আমি নির্বাচন কমিশনে সীমানা নির্ধারণের বিরুদ্ধে আপত্তি দাখিল করি। এরপর থেকেই বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানার ক্যাডাররা আমাকে আপত্তি সংক্রান্ত শুনানিতে অংশ না নেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়।
এনসিপির এ নেতা বলেন, আমি ও আমার এলাকার প্রতিনিধিরা আজ নির্ধারিত শুনানিতে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে গেলে আপনার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা আমাকে শুনানিস্থলে প্রবেশে বাধা দেন। পরবর্তীকালে আমি শুনানি শুরু হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে প্রবেশ করতে সক্ষম হই। এ অবস্থায় আপনার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনারদের উপস্থিতিতে রুমিন ফারহানার সন্ত্রাসী বাহিনী আমিসহ আমার নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দদের মারধর করেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকলো। স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনামলেও নির্বাচন কমিশনে কমিশনারদের সামনে কেউ সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে এমন নজির নেই। এর মাধ্যমে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতাও প্রমাণ হলো এবং একটি জাতীয় নির্বাচনে আপনারা কী ভূমিকা পালন করতে পারবেন তার একটি পরীক্ষা হয়ে গেল।
আতাউল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, রুমিন ফারহানার সন্ত্রাসী ক্যাডাররা যখন আমিসহ এনসিপি নেতৃবৃন্দের ওপর হামলা চালাচ্ছিল, তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনাররা নিবৃত্তচিত্তে গালে হাত দিয়ে মঞ্চে বসা ছিলেন।
তিনি বলেন, প্রায় দুই হাজার শহীদ ও ৩০ হাজার আহত যোদ্ধার অপরিসীম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি, যে বাংলাদেশ হবে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সেই আকাক্সক্ষা পূরণ করতে আপনি সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এবং কমিশনাররা তাদের দায়িত্ব নিয়েছেন। অথচ আজ বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানার কর্মকাণ্ড এবং আপনাদের অবস্থান হাসিনার শাসনামলকেও হার মানিয়েছে। এটা শহীদদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা।
তিনি আরো বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী কালো আইনের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আহ্বান, রুমিন ফারহানাসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য যথাযথ ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ, নির্বাচন কমিশনকে সত্যিকারের জনগণের একটি কমিশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আপনারা যদি নিরপেক্ষ থাকতে না পারেন তাহলে প্রয়োজনে পদত্যাগ করে যোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেবেন।’
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com