শি-পুতিনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন মোদি
প্রকাশ : ৩১-০৮-২০২৫ ১১:২৪

ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সাংহাই কোঅপারেশন অরগানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে জাপান থেকে শনিবার (৩০ আগস্ট) চীনে পৌঁছেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সম্মেলনে যোগ দিতে ইতোমধ্যে চীনে পা রেখেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের পর চীনে মোদির এটি প্রথম সফর। দেশটির স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ আগস্ট) বিকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মোদির বহুল প্রত্যাশিত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মোদি এমন সময় চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন যখন তার দেশের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই মোদি ও শির বৈঠক ঘিরে বিশ্বের অনেকে তাকিয়ে আছেন। এরইমধ্যে উভয় দেশই পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছে।
অন্যদিকে শির সঙ্গে বৈঠকের পর আগামীকাল সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মোদি। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে মার্কিন প্রশাসন।
তবে ভারত এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, তারা রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা কমাবে না। অন্যদিকে রাশিয়াও ভারতের পাশে থাকার দৃঢ় বার্তা দিয়েছে। তাই মোদির সঙ্গে পুতিনের আগামীকালের বৈঠকও গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি বিশ্লেষকদের।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, মার্কিন আধিপত্য ঠেকাতে বিশ্ব এবার নতুন জোটের দেখা পেতে পারে।
এদিকে চীনের মাটিতে পা রাখার কিছুক্ষণ পর মোদিকে ফোন করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন যে তিনি যেন এসসিও সম্মেলনে রাশিয়া এবং অন্য দেশের নেতাদের 'যথাযথ সংকেত' পৌঁছে দেন।
গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ভারতের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে। দুই দেশের মধ্যে এত অল্প সময়ের মধ্যে কতটা আস্থা নষ্ট হয়েছে, তা মার্কিন কর্মকর্তারা পুরোপুরি বুঝতে পারছেন কিনা, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই।’
এ গবেষক বলেন, চীনের জন্য দুই দিনের এ সম্মেলনটা এর থেকে ভালো সময়ে আর হতে পারত না। মোদি এমন সময় চীনে থাকছেন, যখন বেইজিং ও নয়াদিল্লির মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠছে। একই সঙ্গে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দুর্বল হয়েছে। চীনের জন্য এটি একটি বড় সম্ভাবনা।
ভারতে বেঙ্গালুরুভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তক্ষশিলা ইনস্টিটিউটের ইন্দো-প্যাসিফিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান মনোজ কেওয়ালরামানি বলেন, চীনের কিছু মানুষ যে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা উপভোগ করছেন, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। আর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ করতে এ মুহূর্তটিকে কাজে লাগাতে চাইছেন পুতিন।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com