বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন আজ ঢাকায় শুরু
সাত মাসে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ২২: আসক
প্রকাশ : ২৬-০৮-২০২৫ ১১:৩৭

ছবি : সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী- বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) গুলিতে সাত মাসে প্রাণ গেছে অন্তত ২২ বাংলাদেশির; আহত হয়েছেন আরো ৩২ জন।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে গত ১৬ বছরে নিহত হয়েছেন ৬০৭ জন বাংলাদেশি। আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা, ফেলানী হত্যার মতো আলোচিত ঘটনার পরও সীমান্তে রক্তপাত বন্ধ হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত হত্যা নিঃসন্দেহে আইন-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড; যা বন্ধে রাজনৈতিক সমাধান, স্বাধীন কমিশন গঠন এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার বিকল্প নেই। ঠিক এমন পরিস্থিতিতেই ঢাকায় আজ মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) শুরু হচ্ছে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন; যেখানে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানোর অঙ্গীকার আবারো আলোচনায় আসবে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাবে, ২০০৯ সাল থেকে গত ১৬ বছরে বিএসএফ হত্যা করেছে ৬০৭ বাংলাদেশিকে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধে বেসরকারিভাবে দুই দেশ যৌথ কমিশন করতে পারে। তবে রাজনৈতিক সমাধানই প্রধান উপায়। আলোচনায় কাজ না হলে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার পরামর্শ আইনজীবীদের।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি, কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কাঁটাতারে ঝুলে ছিল ফেলানীর লাশ। এ ঘটনা ব্যাপক আলোড়ন তুলে। তবে তাতেও বন্ধ হয়নি বাংলাদেশি হত্যা।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, গেল বছর কোনো কারণ ছাড়াই বিজিবি সদস্য রইসুদ্দিনকে হত্যা করে নিছক ভুলবশত গুলি চালানোর দায়সারা জবাব দিয়েছে বিএসএফ।
২০২৪ সালে দুই দেশের যৌথ সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামাতে আলোচনা হলেও কার্যকর হয়নি কিছুই। এ অবস্থায় রাজনৈতিক সমাধান, জনমত গঠন ও ভারতের ওপর অব্যাহত চাপ প্রয়োগের পরামর্শ বিশ্লেষকদের।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সীমান্ত হত্যা, নিঃসন্দেহে আইন-বহির্ভূত হত্যা। বিষয়টি ভারতকে বোঝাতে হবে। কারণ যারা নিহত হয়েছেন, তাদের কারো হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। তারা কোনো অস্ত্র ব্যবহারও করেননি। সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধে একটি স্বাধীন সিভিল কমিশন গঠন করা জরুরি। সরকারি কমিশন হলে সেটি কার্যকর হবে না।
ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে চার হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সরাসরি পাঁচটি দেশের সীমানা থাকলেও, অন্য দেশের সীমান্তে বাংলাদেশের মতো হত্যার ঘটনা ঘটে না। চীনের সঙ্গে নির্দিষ্ট সীমানায় নিরস্ত্র পাহারার চুক্তি আছে ভারতের। বাংলাদেশও প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার না করার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সে প্রস্তাবের অগ্রগতি হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক বলেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হলে বাংলাদেশকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব এবং প্রতিবাদ জানাতে হবে। কূটনৈতিকভাবে যে প্রতিরক্ষা গ্রহণ করা দরকার, সবই নিতে হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি তুলতে হবে-আর সেই সময়টা এখনই।
এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে ৫৬তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন আজ মঙ্গলবার ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে শুরু হবে। সম্মেলনটি ২৮ আগস্ট শেষ হবে।
সম্মেলনে যোগ দিতে বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) দলজিৎ সিং চৌধুরির নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি ভারতীয় প্রতিনিধিদল সোমবার (২৫ আগস্ট) ঢাকায় পৌঁছেছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে দিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় এবার ঢাকায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com