weather ২৭.৯৯ o সে. আদ্রতা ৮১% , সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অটোগ্যাসের দামও বেড়েছে

সংকটের মাঝে এলপিজির দাম বাড়লো

প্রকাশ :

সংকটের মাঝে এলপিজির দাম বাড়লো

ছবি : সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
সরবরাহ সংকট ও বাজারে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগের মধ্যেই অক্টোবর মাসে আবারো বাড়ল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) রোববার (৪ অক্টোবর) ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ১১ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা। নতুন দর কার্যকর হয়েছে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে। 

তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এলপিজির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি করেছে।

বিইআরসি বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ীদের প্রিমিয়াম বৃদ্ধির কারণে অক্টোবরের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, চলতি মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হবে ১৮৩৭ টাকায়, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ১৫৮৫ টাকা।

যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও বড় অঙ্কে বেড়েছে। প্রতি লিটারের দাম ৭৩ টাকা ৯ পয়সা থেকে ১১ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন দর পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

এলপিজির দাম খুচরা পর্যায়ে ভ্যাটসহ সেপ্টেম্বরে ছিল ১৩২ টাকা ১২ পয়সা। সে হিসাবে প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ২০ টাকা ৯৪ পয়সা।

অক্টোবরের সমন্বয়ে পাঁচ দশমিক পাঁচ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৮৪২ টাকা, ১২ দশমিক পাঁচ কেজির সিলিন্ডার এক হাজার ৯১৩ টাকা, ১৫ কেজির সিলিন্ডার দুই হাজার ২৯৬ টাকা এবং ১৬ কেজির সিলিন্ডার দুই হাজার ৪৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১৮ কেজির সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার ৭৫৫ টাকা, ২০ কেজির সিলিন্ডার তিন হাজার ৬১ টাকা, ২২ কেজির সিলিন্ডার তিন হাজার ৩৬৭ টাকা, ২৫ কেজির সিলিন্ডার তিন হাজার ৮২৭ টাকা এবং ৩০ কেজির সিলিন্ডার চার হাজার ৫৯২ টাকা করা হয়েছে।

৩৩ কেজির সিলিন্ডারের দাম পাঁচ হাজার ৫১ টাকা, ৩৫ কেজির সিলিন্ডার পাঁচ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং ৪৫ কেজির সিলিন্ডার ছয় হাজার ৮৮৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রেটিকুলেটেড পদ্ধতিতে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির ভ্যাটসহ দাম প্রতি কেজি ১৪৯ টাকা ৩১ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তা ছিল ১২৮ টাকা ৩৭ পয়সা।

একই পদ্ধতিতে গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি লিটার শূন্য দশমিক ৩৩১৯ টাকা বা প্রতি ঘনমিটার ৩৩১ টাকা ৯০ পয়সা করা হয়েছে।

বিইআরসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরামকোর অক্টোবর মাসের প্রোপেন ও বিউটেনের সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি অনুযায়ী নতুন দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

অক্টোবরে প্রোপেনের সৌদি সিপি প্রতি টন ৬৮০ ডলার এবং বিউটেনের ৭৩০ ডলার। দাম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে প্রোপেন ও বিউটেনের অনুপাত ৩৫:৬৫ ধরে গড় সৌদি সিপি প্রতি  টন ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি।

সেপ্টেম্বরে প্রোপেনের সৌদি সিপি ছিল প্রতি টন ৬২৫ ডলার এবং বিউটেনের ৬৬০ ডলার। ওই মাসে গড় সৌদি সিপি ছিল প্রতি টন ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার। সে হিসাবে এক মাসে গড় সৌদি সিপি প্রতি  টনে ৬৪ দশমিক ৭৫ ডলার বেড়েছে।

অক্টোবরের মূল্য সমন্বয়ে এলপিজি আমদানিতে জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ির প্রিমিয়াম প্রতি টন ২৫০ ডলার বিবেচনায় নিয়েছে বিইআরসি।

সেপ্টেম্বরে এ খাতে ধরা হয়েছিল প্রতি টন ১৬০ ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে এলপিজির দাম হিসাবের ক্ষেত্রে জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ির প্রিমিয়াম প্রতি  টনে ৯০ ডলার বেড়েছে।

অক্টোবরের দাম নির্ধারণে প্রতি ডলারের গড় বিনিময় মূল্য ১২৩ টাকা ১৮ পয়সা ধরা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে তা ছিল ১২৩ টাকা ৩০ পয়সা।

সরকারি এলপিজির দাম এবারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১২ দশমিক ৫০ কেজির সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের ভোক্তা পর্যায়ের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে।

এর আগে সেপ্টেম্বরে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১৩ টাকা কমিয়ে এক হাজার ৫৮৫ টাকা করেছিল বিইআরসি।

আগস্টে এ সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১৫৯৮ টাকা করা হয়েছিল। তার আগে জুলাইয়ে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় ৩৫৭ টাকা কমিয়ে এক হাজার ৫২৮ টাকা করা হয়েছিল। জুনে ৫৫ টাকা কমিয়ে দাম করা হয়েছিল এক হাজার ৮৮৫ টাকা। এর আগে ১৯ এপ্রিল ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে এক হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছিল। তারও আগে ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে দাম করা হয়েছিল এক হাজার ৭২৮ টাকা।

সে হিসাবে এপ্রিলে দুই দফায় ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৯৯ টাকা বেড়েছিল। এরপর জুন ও জুলাইয়ে দুই দফায় মোট ৪১২ টাকা কমে। আগস্টে ৭০ টাকা বাড়ার পর সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমেছিল। অক্টোবরে আবার ২৫২ টাকা বাড়ল।

বিইআরসি বলেছে, এলপিজি মজুত ও বোতলজাতকরণ, পরিবেশক এবং খুচরা বিক্রেতাসহ কোনো পর্যায়েই কমিশন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বোতলজাত এলপিজি, রেটিকুলেটেড এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না।

গত তিন সপ্তাহ ধরে চাহিদার চেয়ে এলপিজি সরবরাহ কমেছে বাজারে। এতে করে ১২ কেজি এলপিজির সিলিন্ডার ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত।

এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি।

কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারার গোয়েন্দা প্রতিবেদন ছিল: বাজারে গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কয়েকটি এলপিজি অপারেটর (কোম্পানি) বড় ধরনের মুনাফা তুলে নিতে পাঁয়তারা করছে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার এমন প্রতিবেদনে ছিল। 

সংস্থা দুটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে জানানোয় শনিবার দেশের এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) সঙ্গে বৈঠক করেছেন জ্বালানিমন্ত্রী। সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এলপিজি মজুতের বিষয়টি তোলা হয়। 

অভিযোগ অস্বীকার করে লোটাব নেতারা জানিয়েছিলেন, এলপিজির দাম বেশি বাড়ানো হলে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসতে পারে। কারণ আন্তুর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম অনেক বেশি। 

জানা গেছে, ২২ সেপ্টেম্বরের পর বাজারে এলপিজির মহাসংকট চলছে। এক হাজার ৫৮৫ টাকার এলপিজি বিক্রি হচ্ছিল আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। 

এদিকে, এলপিজি মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, মেঘনার ফ্রেশ এলপিজি কোনো মজুত করেনি। সেপ্টেম্বরে ফ্রেশ আগের তুলনায় অনেক কম এলপিজি আমদানি করেছে। এটা এনবিআরের রেকর্ডও আছে। এলপিজি সংকট কখন কাটবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এক-দেড় মাসের মধ্যে ফ্রেশ আরও বেশি এলপিজি আমদানির চেষ্টা করছে।

ওমেরা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, ওমেরাসহ কয়েকটি কোম্পানি এলপিজি মজুত করেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করে। কিন্তু এটা সত্য নয়। ওমেরা কোনো এলপিজি মজুত করেনি। তিনি আরও বলেন, বাজারে এলপিজির সংকট কাটাতে সরবরাহ বাড়াতে হবে। আর এলপিজির দাম বাড়লে কোম্পানিগুলোর ক্ষতি। কারণ বেশি দাম বাড়লে গ্রাহকরা কম এলপিজি ব্যবহার করেন।

দেশে প্রতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি ব্যবহার হয়। এর ৯৮ শতাংশ এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি কোম্পানিগুলো। ১২ থেকে ১৪টি কোম্পানি এলপিজির বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করে। দেশে ২৯টির মতো এলপিজি কোম্পানি সক্রিয় থাকলেও সেপ্টেম্বরে এলপিজি আমদানি করেছে ১০টি কোম্পানি। বিইআরসি জানায়, আগস্টে দেশে এক লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে একই পরিমাণে এলপিজি দেশে এসেছে।

সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী অভিযান: সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ১৬ জেলায় পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার অধিদপ্তরের ২৩টি টিম একযোগে ডিলার, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অভিযান পরিচালনা করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা, গ্যাস সিলিন্ডারের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় ঠেকাতে এ তদারকি চালানো হয়। 

অভিযানে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিধি প্রতিপালন এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কি না তা যাচাই করা হয়।

একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত ও সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে।

পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে এলপিজির দাম: পাঁচ বছরে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১ সালের এপ্রিলে ৯৭৫ টাকা থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের এপ্রিলে দাম বেড়ে দাঁড়ায়— এক হাজার ৯৪০ টাকা। অর্থাৎ ৯৬৫ টাকা বা প্রায় ৯৯ শতাংশ বৃদ্ধি। এই সময়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দফায় দফায় দাম বাড়ানোর পাশাপাশি কমিয়েছেও; তবে মাসভিত্তিক সমন্বয়ের পরও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী থেকেছে এলপিজির দাম। 

২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবার বেসরকারি পর্যায়ের এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৯৭৫ টাকা। এরপর বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে দাম পরিবর্তন করা হয়।

প্রথম বছরেই দাম কয়েক দফা ওঠানামা করে। ২০২১ সালের এপ্রিলের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে মে ও জুনে দাম কমে ৯০৬ ও ৮৪২ টাকায় নেমেছিল। এরপর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত টানা পাঁচদফা দাম বাড়ে। ওই বছরের নভেম্বরের শেষে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম দাঁড়ায় এক হাজার ৩১৩ টাকা। পরে ডিসেম্বরে এক দফায় ৮৫ টাকা কমিয়ে এক হাজার ২২৮ টাকা করা হয়।

২০২২ সালে দাম বাড়ে সাতদফা, আর দাম কমে পাঁচ বার। তবে বছর শেষে ডিসেম্বরে গিয়ে দাম দাঁড়ায় এক হাজার ২৯৭ টাকা আর পরের জানুয়ারিতে যা ছিল এক হাজার ১৭৪ টাকা। ২০২৩ সালেও সাতদফা বাড়ানোর বিপরীতে পাঁচদফা দাম কমানো হয়। ওই বছরের শুরুতে থাকা এক হাজার ২৩২ টাকা থেকে ডিসেম্বরের শেষে দাম দাঁড়ায় এক হাজার ৪০৪ টাকা। যদিও ওই বছর সবচেয়ে কম দাম ছিল জুন মাসে ৯৯৯ টাকা।

২০২৪ সালে সাত দফায় সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়। বছরের শুরুতে এক হাজার ৪৩৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৪৭৪ এবং মার্চে এক হাজার ৪৮২ টাকায় ওঠে। এরপর কয়েক দফা কমা-বাড়ার পর নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে দাম ছিল এক হাজার ৪৫৫ টাকা।

২০২৫ সালে দাম বাড়ানোর প্রবণতা তুলনামূলক কম ছিল। বছরজুড়ে দুই দফা বাড়ানোর বিপরীতে একাধিক দফায় দাম কমানো হয়। নভেম্বর মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম কমে এক হাজার ২১৫ টাকায় নেমেছিল। আর সর্বোচ্চ দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৪৭৮ টাকা।

চলতি বছরের (২০২৬) প্রথম চার মাসে আবারও এলপিজির দামে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। জানুয়ারিতে এক হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে এক হাজার ৩৫৬ টাকা করা হয়। পরে ভ্যাট কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় এক হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল। এরপর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক হাজার ৯৪০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়।

অর্থাৎ ২০২১ সালের এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ৯৭৫ টাকা; যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে দাঁড়ায় এক হাজার ৯৪০ টাকা। দেখা যাচ্ছে, পাঁচ বছরে দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা, যা প্রায় ৯৯ শতাংশ।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর দেশের কোথাও এলপিজির কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, দেশে এলপিজির সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে কিছু এলাকায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করা হতে পারে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোথাও কেন সংকটের কথা শোনা যাচ্ছে এবং কেন অতিরিক্ত দাম নেওয়া হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখে তথ্য ও প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতে ডিসিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, যে হারে দাম বাড়ানো হচ্ছে, তাতে ভোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে তা সামাল দেওয়া খুব কঠিন হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, বিইআরসির নির্ধারিত দামে কোথাও বাজারে এলপিজি বিক্রি হয় না। ফলে ভোক্তাদের আরও বেশি দামে কিনতে হয়।

তিনি বলেন, এলপিজি খাতে অনিয়ম প্রতিরোধের দায়িত্ব বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠান কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অসাধু ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনে লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। দরকার হলে আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন করে লাইসেন্স দিতে হবে। 

লোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক এলপিজি বেশি দামে রাখা প্রসঙ্গে বলেন, আমদানি কমেনি। খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতাদের কারণে সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। কোনো অপারেটর বেশি দামে বিক্রি করছে— এমন প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

নিন্দা করতে করতে নিন্দা শব্দের ওজন কমে যাচ্ছে-এলপিজির দাম নিয়ে পরওয়ার: নিন্দা করতে করতে নিন্দা শব্দের ওজন কমে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। রোববার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জ্বালানি তেল, বিদ্যুতের পর এবার এলপিজির দাম বৃদ্ধির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে পরওয়ার বলেন, ‘আমরা এটার তীব্র নিন্দা জানাই। নিন্দা করতে করতে নিন্দা শব্দের ওজন কমে যাচ্ছে।’

নিন্দা শব্দের একটা ওজন আছে না—এমন প্রশ্ন রেখে পরওয়ার আরো বলেন, ‘যে সরকার ছয় মাসে তিনবার তেলের দাম বাড়ায়, বিদ্যুতের দাম বাড়ায়—নিন্দা নয়, এর জন্য আমরা ঘৃণা প্রকাশ করি। অবিলম্বে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুন।’

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

সরকারি হাসপাতালের ৬২ শতাংশ অক্সিজেন প্লান্ট অচল সরকারি হাসপাতালের ৬২ শতাংশ অক্সিজেন প্লান্ট অচল সংকটের মাঝে এলপিজির দাম বাড়লো সংকটের মাঝে এলপিজির দাম বাড়লো জামিন মেলেনি, আখতারুজ্জামান কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ জামিন মেলেনি, আখতারুজ্জামান কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৩ সেপ্টেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪২৩ বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ’র সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ: মাইকেল মিলার বাংলাদেশের সঙ্গে এফটিএ’র সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে ইইউ: মাইকেল মিলার