ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মঙ্গলবার পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন ট্রাম্প
প্রকাশ : ১৭-০৩-২০২৫ ২০:২৩

ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৭ মার্চ) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে ওয়াশিংটন এলাকায় ফেরার সময় এয়ারফোর্স ওয়ান উড়োজাহাজে বসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আমি মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে কথা বলব। সপ্তাহান্তে প্রচুর কাজ হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এ যুদ্ধের অবসান করা যায় কিনা, তা আমরা দেখতে চাই। হয়তো আমরা পারব, হয়তো আমরা পারব না। তবে আমি মনে করি, আমাদের ভালো সুযোগ আছে।
যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কোনো ছাড় বিবেচনা করা হচ্ছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় ভূখণ্ড এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আমি মনে করি আমাদের অনেক কিছু ইতোমধ্যেই ইউক্রেন এবং রাশিয়া উভয় পক্ষের দ্বারা আলোচনা করা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যেই এটি নিয়ে কথা বলছি, নির্দিষ্ট সম্পদ ভাগ করে নেব।
অন্যদিকে রাশিয়ার স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমে একজন উচ্চপদস্থ রাশিয়ান কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, যেকোনো শান্তি চুক্তি ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদকে বাধাগ্রস্ত করবে। রাশিয়ান সংবাদমাধ্যম ইজভেস্তিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো বলেন, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে মস্কোর চূড়ান্ত নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, কেবলমাত্র এই ধরনের গ্যারান্টি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তি অর্জন করা সম্ভব এবং সামগ্রিকভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা সম্ভব। ইউক্রেন এবং ন্যাটো দেশগুলোকে জোটের সদস্য হিসেবে গ্রহণ না করার জন্য একটি নিরপেক্ষ অবস্থান এই গ্যারান্টির অংশ হওয়া উচিত। প্রকৃতপক্ষে, উল্লিখিত চুক্তির খসড়ায় এই বিধানটি সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণিত ছিল। আলোচনার ক্ষেত্রে, বর্তমানে তা হচ্ছে না, কারণ কোনো আলোচনা চলছে না।
এর আগে রবিবার ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সিএনএনকে বলেন, দুই নেতা এই সপ্তাহে সত্যিই ভালো এবং ইতিবাচক আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছেন।
ইউক্রেনে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য পুতিনকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। গত সপ্তাহে ইউক্রেন প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছে। সপ্তাহান্তে রাশিয়া ও ইউক্রেন দুপক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছে। ইতোমধ্যে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাশিয়ার কুরস্কতে কয়েক মাস ধরে অবস্থানরত ইউক্রেনীয় বাহিনীকে বিতাড়িত করার লক্ষ্যের আরো কাছাকাছি পৌঁছে গেছে রাশিয়া।
সৌদি আরবের জেদ্দায় গত সপ্তাহের আলোচনা থেকে উদ্ভূত ৩০ দিনের তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে উভয় পক্ষকে রাজি করানোর আশা করছে ওয়াশিংটন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রস্তাবটি গ্রহণ করলেও, পুতিন এখনো এই পরিকল্পনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নন। তিনি কেবল নীতিগতভাবে সমর্থন করার কথা বলেছেন।
গত সপ্তাহে তিনি বলেন, এই পরিকল্পনাটি মূলত কিয়েভকে উপকৃত করবে। কারণ রাশিয়ান বাহিনী অগ্রগতি অর্জন করছে এবং এই উদ্যোগ নিয়ে তার গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে।
জেলেনস্কি শনিবার মস্কোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে তারা সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায় না এবং যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আগে যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের পরিস্থিতি উন্নত করতে চাইছে।
এদিকে রাশিয়ার ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার গ্রুশকো জানিয়েছেন, আমরা আশা করব, এই শান্তিচুক্তিতে নিরাপত্তার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পাবে। এবং সে জন্যই ইউক্রেনকে এই আলোচনায় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইউক্রেনে ন্যাটো কোনোরকম কাজ করতে পারবে না। এমনকি, ন্যাটোর সেনাও ইউক্রেনে থাকতে পারবে না।
রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তারা একটি বিষয়ে সম্পূর্ণ দ্বিমত। ইউরোপীয় ইউনিয়ন চায় ইউক্রেনে ন্যাটোর শান্তি সেনা মোতায়েন করতে। কিন্তু রাশিয়া কোনোভাবেই তা মেনে নেবে না।
উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স দুদেশই জানিয়েছিল, তারা ইউক্রেনে শান্তিসেনা মোতায়েন করতে চায়। এটিই হবে শান্তিপ্রতিষ্ঠার গ্যারান্টি। কিন্তু রাশিয়ার আপত্তি ঠিক এই জায়গাতেই। বস্তুত, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধানের এই পরিকল্পনাকে ‘বোকা’ বলে সম্বোধন করেছেন তিনি।
তার কথায়, ন্যাটোর শান্তিসেনা যদি ইউক্রেনে মোতায়েন করা হয়, তাহলে রাশিয়া ধরে নেবে এবার তাদের যুদ্ধ ন্যাটোর সঙ্গে।
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মিশেল ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, ইউক্রেনকে দুটি ত্যাগ স্বীকার করতে হতে পারে। রাশিয়া তাদের যে ভূখণ্ড দখল করেছে, তা ছেড়ে দিতে হতে পারে এবং ন্যাটোয় যোগ দেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হতে পারে।
এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি ইউক্রেনকে সম্ভবত পুরোপুরি ভুলে যেতে হবে। কারণ, ইউক্রেন ন্যাটোয় যোগ দিলে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তিচুক্তি সম্ভব নয়।
অন্যদিকে সৌদি আরবে আমেরিকার সঙ্গে ইউক্রেনের যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিতে রাজি হয়নি কিয়েভ।
পিপলসনিউজ/আরইউ
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com