weather ২৫.৬৫ o সে. আদ্রতা ৯৪% , শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পৃথিবীতে একেক প্রাণীর জীবনকাল একেক রকম কেন?

প্রকাশ : ২৬-০৪-২০২৫ ২২:১১

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রাণীর জীবনকাল বিভিন্ন রকমের। কিছু প্রাণী খুবই অল্প সময় বাঁচে। আবার কিছু প্রাণী দীর্ঘজীবী হয়।

কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন বেঁচে থাকা ক্ষুদ্র পতঙ্গের পাশাপাশি শত শত বছর ধরে টিকে থাকা প্রাণীর দেখা মিলে পৃথিবীতে। বিভিন্ন প্রাণীর জীবনকাল জিনগত বৈশিষ্ট্য, পরিবেশগত প্রভাব, খাদ্যাভ্যাস, আকার, বিপাকীয় হার ও খাদ্যশৃঙ্খলের ওপর নির্ভর করে।

ক্ষুদ্র প্রাণীদের মধ্যে সাধারণত স্বল্প সময়ের জীবনচক্র দেখা যায়। মেফ্লাই নামক এক ধরনের জলজ পতঙ্গের পূর্ণাঙ্গ জীবনকাল মাত্র কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত হয়ে থাকে। এদের শারীরিক গঠন এবং বিপাক হার দ্রুত হওয়ায় জীবনচক্রও দ্রুত শেষ হয়ে যায়।

অন্যদিকে পানিতে ভাসমান লার্ভা এক বছরের মতো বাঁচতে পারে। তুলনামূলকভাবে ধীরগতির বিপাক হার এবং জটিল শারীরিক গঠন বিভিন্ন প্রাণীকে দীর্ঘ জীবন ধারণে সাহায্য করে।

প্রাণীর আকারও তার জীবনকালের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। সাধারণত বড় আকারের প্রাণীগুলো ছোট প্রাণীদের তুলনায় দীর্ঘজীবী হয়। বড় প্রাণীদের শারীরিক বৃদ্ধি ও প্রজনন প্রক্রিয়া ধীরগতিতে সম্পন্ন হয়।

আবার শিকারি প্রাণীর সংখ্যা কম থাকায় বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। একটি ছোট পাখি কয়েক বছর বাঁচলেও বিশাল তিমি ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকে। স্থলজ প্রাণীদের মধ্যে হাতি ৭০ থেকে ৮০ বছর এবং কচ্ছপ ১৫০ বছরের বেশি সময় পর্যন্ত বাঁচতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিপাকীয় হার প্রাণীর জীবনকালের ওপরে প্রভাব ফেলে থাকে। আর তাই উচ্চ বিপাকীয় হারের প্রাণীরা দ্রুত শক্তি ব্যবহার করে বলে তাদের কোষের ক্ষয়ও দ্রুত হয়। ধীর বিপাকীয় হারের প্রাণীরা ধীরে ধীরে শক্তি ব্যবহার করে, ফলে তাদের কোষের ক্ষয়ও তুলনামূলকভাবে কম হয়। ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন ছুঁচোর বিপাক হার খুব বেশি হওয়ায় তাদের জীবনকালও তুলনামূলকভাবে কম। হামিংবার্ড তিন থেকে পাঁচ বছর বেঁচে থাকে।

জানা যায়, শিকারি-শিকার সম্পর্কও প্রাণীর জীবনকালকে প্রভাবিত করে। যেসব প্রাণীর শিকারির সংখ্যা বেশি, তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম থাকে। তারা দ্রুত প্রজননের মাধ্যমে নিজেদের টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। আবার যেসব প্রাণীর কোনো প্রাকৃতিক শত্রু নেই, তারা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় ও দীর্ঘ জীবন লাভ করে। শিকারি না থাকার কারণে দ্বীপ বা বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী অনেক প্রাণীকে ভূখণ্ডের একই প্রজাতির প্রাণীদের তুলনায় দীর্ঘজীবী হতে দেখা যায়।

কিছু ব্যতিক্রমী প্রাণী তাদের দীর্ঘ জীবনকালের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। গ্রিনল্যান্ড হাঙর প্রায় ৪০০ বছর পর্যন্ত বাঁচতে পারে। মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম দীর্ঘজীবী প্রজাতি এসব হাঙর। আর্কটিক বোহেড তিমি ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে বাঁচতে পারে। অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে কিছু স্পঞ্জ ও কোরাল সহস্রাব্দ ধরে বেঁচে থাকতে সক্ষম।

হাইড্রা নামক ছোট জলজ প্রাণীর শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনরুদ্ধার করার অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, সঠিক পরিবেশে হাইড্রা তাত্ত্বিকভাবে অমর। এই প্রাণীর কোষ নিয়মিতভাবে নবায়ন হয় বলে হাইড্রার আপাত ধ্বংস নেই। টারডিগ্রেড নামের ক্ষুদ্র জলজ প্রাণীও চরম পরিবেশে টিকে থাকতে পারে। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন, কাচের স্পঞ্জ পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণী। এরা ১৫ হাজার বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে বলে অনুমান করা হয়।

পিপলসনিউজ/আরইউ

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

কোনো সরকারপ্রধান ‘ভিক্ষার ঝুলি’নিয়ে যান না : চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো সরকারপ্রধান ‘ভিক্ষার ঝুলি’নিয়ে যান না : চীন সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন,নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি ইতালিতে স্বামী-স্ত্রী-মেয়ে খুন,নোয়াখালীর বাড়িতে এসেছিল হত্যার হুমকি হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮ গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায়, প্রকল্প চূড়ান্ত : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী গ্রাম-শহরের সব প্রতিবন্ধী শিশু আসবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায়, প্রকল্প চূড়ান্ত : স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আসামির দায়ের কোপে লালমনিরহাটে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত আসামির দায়ের কোপে লালমনিরহাটে দুই পুলিশ কর্মকর্তা আহত